ও কে চলিছে বন-পথে

বাণী

ও কে চলিছে বন-পথে একা নূপুর পায়ে রন ঝন ঝন।
তারি চপল চরণ-আঘাতে দুলিছে নদী-দোলে ফুলবন।।
ঝরে ঝর ঝর গিরি -নির্ঝর তার ছন্দ চুরি করে,
'এলো সুন্দর-এলো সুন্দর'’বাজে বনের মর্মরে।
	গায় পাখি মেলি আঁখি
	বলে,বন-দেবী এলো নাকি?
মধুর রঙ্গে অঙ্গে-ভঙ্গে জাগে শিহরণ।।
সন্ধ্যায় ঝিল্লির মঞ্জির হতার
ঝির ঝির শির শির তোলে ঝঙ্কার।
মধুভাষিণী সুচারু-হাসিনী সে মায়াহরিণী' —
ফোটালো আঁধারে মরি মরি
দুলিছে অলকে আঁখির পলকে দোলন-চাঁপার নাচের মতন।।

আমার মনের বেদনা

বাণী

আমার মনের বেদনা
বুঝিলে না, আমার মনের বেদনা ॥
চাহিনি মালার ফুল
বুঝিলে না আপনার ভূল
মালা দিলে মন দিলে না ॥

অনেক ছিল বলার যদি সেদিন

বাণী

অনেক ছিল বলার, যদি সেদিন ভালোবাস্‌তে গো।
পথ ছিল গো চলার, যদি দু’দিন আগে আস্‌তে গো।।
আজিকে মহাসাগর–স্রোতে, চলেছি দূর পারের পথে
ঝরা–পাতা হারায় যথা, সেই আঁধারে ভাস্‌তে গো।।
গহন রাতি ডাকে আমায় এলে তুমি আজ্‌কে
কাঁদিয়ে গেলে হায় গো আমার বিদায়–বেলার সাঁঝ্‌কে।
আস্‌তে যদি হে অতিথি
ছিল যখন শুক্লা তিথি
ফুটত চাঁপা, সেদিন যদি চৈতালী–চাঁদ হাস্‌তে।।

যেয়ো না যেয়ো না মদিনা-দুলাল

বাণী

যেয়ো না যেয়ো না মদিনা-দুলাল হয়নি যাবার বেলা।
সংসার-পাথারে, আজো দোলে পাপের ভেলা।।
মেটেনি তোমায় দেখার পিয়াসা
মেটেনি কদম জিয়ারত আশা
হযরত, এই জমেছে প্রথম দীন-ই-ইসলাম মেলা।।
ছড়ায়ে পড়েনি তোমার কালাম আজিও সকল দেশে,
ফিরিয়া আসেনি সিপাহীরা তব আজও বিজয়ীর বেশে।
দিনের বাদশা চাও ফিরে চাও
শোক-দুর্দিনে বেদনা ভোলাও
গুনাহ্‌গার এই উম্মতে তব হানিও না অবহেলা।।

বৈতালিক

ইয়া ইলাহী ইয়া ইলাহী

বাণী

ইয়া ইলাহী! ইয়া ইলাহী!
তব রাহে মোরে কর রাহী।
ফরজ-ওয়াজেব জানি না হে স্বামী
তব নামে মশগুল দিবা-যামী,
চাহিনা শাফায়াৎ বেহেশ্‌ত দৌলত-
	হে প্রভু শুধু তোমারে চাহি।।
পতঙ্গ ধায় যেমন দীপ-পানে
তোমার জ্যোতি মোরে তেমনি টানে,
তোমার বিরহে নিশি-দিন কাঁদি-
	পরানে আমার শান্তি নাহি ৷৷
আমারে রাখো তব প্রেমে ছেয়ে’
বিশ্ব ভুলি যেন তোমারে পেয়ে,
নদী যেমন যায় সাগরে ধেয়ে-
	তেমনি ছুটি যেন তব নাম গাহি ৷৷

চাঁদ হেরিছে চাঁদমুখ তার সরসীর আরশিতে

বাণী

চাঁদ হেরিছে চাঁদ–মুখ তার সরসীর আরশিতে।
ছুটে তরঙ্গ বাসনা–ভঙ্গ সে অঙ্গ পরশিতে।।
হেরিছে রজনী – রজনী জাগিয়া
চকোর উতলা চাঁদের লাগিয়া,
কাঁহা পিউ কাঁহা ডাকিছে পাপিয়া
		কুমুদীরে কাঁদাইতে।।
না জানি সজনী কত সে রজনী কেঁদেছে চকোরী পাপিয়া,
হেরেছে শশীরে সরসী–মুকুরে ভীরু ছায়া–তরু কাঁপিয়া।
কেঁদেছে আকাশে চাঁদের ঘরণী
চির–বিরহিণী রোহিণী ভরণী
অবশ আকাশ বিবশা ধরণী
		কাঁদানীয়া চাঁদিনীতে।।