আয় মুক্তকেশী আয়

বাণী

(মা)		আয় মুক্তকেশী আয়
(মা)		বিনোদ-বেণী বোঁধ দোব এলোচুলে।
		প্রভাত রবির রাঙা জবা (মা) দুলিয়ে দোব বেণী মূলে॥
		মেখে শ্মশান ভস্ম কালি,
		ঢাকিস্ কেন রূপের ডালি
		তোর অঙ্গ ধুতে গঙ্গাবারি আনব শিবের জটা খুলে॥
		দেব না আর শ্মশান যেতে, সহস্রারে রাখব ধ’রে।
		খেলে সেথায় বেড়াবি মা রামধনু রং শাড়ি প’রে।
		ক্ষয় হলো চাঁদ কেঁদে কেঁদে
(তারে)	দেব মা তোর খোঁপায় বেঁধে
		মোর জীবন মরণ বিল্ব জবা দিব মা তোর পায়ে তুলে॥

সন্ধ্যার গোধূলি রঙে নাহিয়া

বাণী

সন্ধ্যার গোধূলি রঙে নাহিয়া।
কে এলে কাহারে চাহিয়া।।
মধুর লগনে অপরূপ বেশে
কেন দাঁড়ালে মম দ্বারে এসে,
দিনের শেষে ঝরা ফুলের দেশে —
	আসিলে চাঁদের তরণী বাহিয়া।।
অস্ত রবির রঙ ল’য়ে কোন্‌ যাদুকর
নিরমিল তোমার মূরতি মনোহর,
মনের পদ্ম-বনে বাণীর মধুকর —
	‘সুন্দর! সুন্দর!’ — ওঠে গাহিয়া।।

বল্লরি-ভুজ-বন্ধন খোলো

বাণী

	বল্লরি-ভুজ-বন্ধন খোলো।
	অভিসার-নিশি অবসান হ’ল।।
	পান্ডুর চাঁদ হের অস্তাচলে
	জাগিয়া শ্রান্ত-তনু পড়েছে ঢ’লে,
তার 	মল্লিকা মালা ম্লান বক্ষতলে — 
	অভিমান-অবনত আঁখি তোলো।।
	উতল সমীর আমি নিমেষের ভুল,
	কুসুম ঝরাই কভু ফোটাই মুকুল।
	আলোকে শুকায় মোর প্রেমের শিশির
	দিনের বিরহ আমি মিলন নিশির,
	হে প্রিয়, ভীরু এ স্বপন-বিলাসীর — 
	অকরুণ প্রণয় ভোলো ভোলো।।

১. মিলনের, ২. ক্ষণিকের, ৩. আমি

উঠেছে কি চাঁদ সাঁঝ গগনে

বাণী

উঠেছে কি চাঁদ সাঁঝ গগনে
আজিকে আমার বিদায় লগনে।।
জানালা পাশে চাঁপার শাখে
‘বউ কথা কও’ পাখি কি ডাকে?
ফুটেছে কি ফুল মালতী বকুল —
আমার সাধের কুসুম বনে সাঁঝ গগনে।।
তুলসী তলায় জ্বলেছে কি দীপ
পরেছে আকাশ তারকার টিপ?
হারিয়ে যাওয়া বঁধূ অবেলায়
এলো কি ফিরে দেখিতে আমায়,
ঝুরিছে বাঁশি পিলু বারোয়াঁয় —
কেন গো আমার যাবার ক্ষণে।।

ক্ষীণ তনু যৌবন ভার বইতে নারি

বাণী

ক্ষীণ তনু যৌবন ভার বইতে নারি
ধীরে চল গোরী ধীরে ধীরে
টলে চিকন কাঁখে ভরা গাগরি
	ভরে তায় ঘাঘরি।
দেহ টুটে না যায় যেন নাগরি
	নীল চোলি ভিজিয়া না যায় নীরে।।
কঠিন ধরা হানে বেদনা কোমল পায়ে
মুছায়ে দিব ব্যথা ব’স এ বকুল ছায়ে
‘না’বলি মুচকিয়া হেসো না ফিরে ফিরে।।
দাঁড়ায়ে কত পথিক বহিতে সই ভার তব
যদি চাহ গো সখি ভার তব আমি লব
দাও আমারে ঠাঁই, তব ঐ তনুর তীরে।।

চির-আপনার তুমি হে হরি

বাণী

চির-আপনার তুমি হে হরি।
তুমি ভুলো না যদি আমি রই পাশরি’।।
আমি ভুলিয়া যদি কভু রহি ঘুমে
তুমি ঘুম ভাঙাও মোর আঁখি চুমে,
তুমি আমি এক তরীতে তরি।।
আমার বাঁধন মোচন মাঝে
হরি হে তোমারও মুকুতি রাজে,
তুমি জীবনে আমার আছ প্রাণ ধরি’।।