কোন্ অজানা জনে দিব প্রাণ মোর

বাণী

কোন্ অজানা জনে দিব প্রাণ মোর।
নেবে আমার মালা সে-কোন কিশোর।।
কাহার লাগি’ একেলা জাগি
কোথা সে আমার প্রেম-অনুরাগী,
কোন্ কাননে রয় সে বনমালী চোর।।
পরি’ বধূর সাজ ভুলিয়া কুল লাজ
বৃথা আছি ব’সে কোথা হৃদয়-রাজ,
মম যৌবন-নিশি জেগে হল ভোর।।

ভোরের হাওয়া ধীরে ধীরে বলো

বাণী

		ভোরের হাওয়া! ধীরে ধীরে বলো গো সেই হরিণীরে।
		আর কত দিন দিশাহারা ঘুরব একা মরুর তীরে।।
		মিষ্টি চিনির পসরিণীর হৃদয় কেন কষায় হেন,
		এই চিনি-খোর তুতীর পানে কেন গো সে চায় না ফিরে।।
		গোলাব লো! তোর রূপের গরব দেয় না বুঝি জিজ্ঞাসিতে,
		প্রণয়-পাগল বুলবুলি তোর ভাসে কেন অশ্রু-নীরে।।
		চতুর নিষাদ শিকার করে প্রণয়ীরে মুখের মিঠায়,
		চপল পাখি ধরতে সে গো বিছায় না জাল আকাশ ঘিরে।।
		বঁধুর পাশে বসে তোমার ঢাল্‌বে যেদিন রঙীন শারাব
		স্মরণ ক’রো রূপসী, এই উপোসী-মন দূর সাথিরে।।
শেয়র : 	সরল-তনু, কাজল-আঁখি, চাঁদের মালা ললাট-কূলে —
		রঙীন্‌ প্রেমের লাগল না রঙ কেন গো সে রূপের ফুলে।
		তোমার রূপের চাঁদে, প্রিয়, এই শুধু কলঙ্ক-লেখা —
		মধুর রূপের কাননে নাই বিধুর প্রেমের কুহু কেকা!
		হাফেজী এই গজল যদি পৌছে আকাশ, নয় সে কিছু,
		গাইবে সে গান ‘জোহরা’ তারা, নাচবে ‘ঈশা’ সে সুর মীড়ে।।

নয়ন ভরা জল গো তোমার

বাণী

নয়ন ভরা জল গো তোমার আঁচল ভরা ফুল
ফুল নেব না, অশ্রু নেব ভেবে হই আকুল।।
	ফুল যদি নিই তোমার হাতে
	জল রবে না নয়ন পাতে
অশ্রু নিলে ফুটবে না আর প্রেমের মুকুল।।
মালা যখন গাঁথ তখন পাওয়ার সাধ যে জাগে
মোর বিরহে কাঁদ যখন আরও ভালো লাগে।
	পেয়ে তোমায় যদি হারাই
	দূরে দূরে থাকি গো তাই
ফুল ফোটায়ে যায় গো চলে চঞ্চল বুলবুল।।

১. গো

মম আগমনে বাজে আগমনীর সানাই

বাণী

মম আগমনে বাজে আগমনীর সানাই।
সহসা প্রাতে আমি এসেছি, জানাই।।
আমি আনি দেশে দশভূজার পূজা
কোজাগরী নিশি জাগি আমি অনুজা।
	বুকে শাপ্‌লা-কমল
	মালা দোলে টলমল,
আমি পরদেশি বন্ধুরে স্বদেশে আনাই।।

মম বেদনার শেষ হ’ল কি এতদিনে

বাণী

মম বেদনার শেষ হ’ল কি এতদিনে।
বুঝি তাই এলে প্রিয় পথ চিনে।।
	বরষার নবধারা ছন্দে
	এলে বন-মুকুলের গন্ধে,
তব চরণ ছোঁয়ায় আজি বাজিল কি সুর মোর মনো-বীণে।।
কত যুগ ধরি’ চেয়ে আছি পথ আজি কি হ’ল সফল,
তাই সহসা কানন মোর মৌন বিহগ-তানে মুখর চপল।
	তৃষিত চাতক-হিয়া সম
	কাঁদে হায়! ‘এসো প্রিয়তম’,
হের শূন্য এ অন্তর-মন্দির মোর তোমা-বিনে।।

ঘুমায়েছে ফুল পথের ধূলায়

বাণী

ঘুমায়েছে ফুল পথের ধূলায় (ওগো)
	জাগিয়ো না উহারে ঘুমাইতে দাও।
বনের পাখী ধীরে গাহ গান
	দখিনা হাওয়া ধীরে ধীরে বয়ে যাও।।
এখনো শুকায়নি চোখে তারই জল
	এখনো আঁধারে হাসি ছলছল
প্রভাত রবি শুকায়ো না তায়
	ধীরে কিরণে তাহারি নয়নে চাও।।
সামলে পথিক ফেলিয়ো চরন
	ঝরেছে হেথায় ফুলেরও জীবন।
ভুলিয়া দল না ঝরা পাতাগুলি
	ফুল সমাধি থাকিতে পারে হেথাও।।