নতুন নেশার আমার এ মদ

বাণী

নতুন নেশার আমার এ মদ বল কি নাম দেবো এরে বঁধুয়া।
গোপী চন্দন গন্ধ মুখে এর বরণ সোনার চাঁদ চুঁয়া।।
	মধু হ'তে মিঠে পিয়ে আমার মদ
	গোধূলি রং ধরে কাজল নীরদ,
প্রিয়েরে প্রিয়তম করে এ মদ মম, চোখে লাগায় নভোনীল ছোঁওয়া।।
	ঝিম্ হয়ে আসে সুখে জীবন ছেয়ে,
	পান্‌সে জোছনাতে পান্‌সি চলে বেয়ে,
মধুর এ মদ নববধূর চেয়ে আমার মিতালী এ মহুয়া।। 

দুরন্ত বায়ু পূরবইয়াঁ বহে

বাণী

দুরন্ত বায়ু পূরবইয়াঁ বহে অধীর আনন্দে
তরঙ্গে দুলে আজি নাইয়া রণ-তুরঙ্গ-ছন্দে।।
অশান্ত অম্বর-মাঝে মৃদঙ্গ গুরুগুরু বাজে,
আতঙ্কে থরথর অঙ্গ মন অনন্তে বন্দে।।
ভূজঙ্গী দামিনীর দাহে দিগন্ত শিহরিয়া চাহে,
বিষন্ন ভয়-ভীতা যামিনী খোঁজে সেতারা চন্দে।।
মালঞ্চে এ কি ফুল-খেলা, আনন্দে ফোটে যূথী বেলা,
কুরঙ্গী নাচে শিখী-সঙ্গে মাতি’ কদম্ব-গন্ধে।।
একান্তে তরুণী তমালী অপাঙ্গে মাঝে আজি কালি,
বনান্তে বাঁধা প’ল দেয়া কেয়া-বেণীর বন্ধে।।
দিনান্তে বসি’ কবি একা পড়িস্‌ কি জলধারা-লেখা,
হিয়ায় কি কাঁদে কুহু-কেকা আজি অশান্ত দ্বন্দ্বে।।

আজি পিয়াল ডালে বাঁধো বাঁধো ঝুলনা

বাণী

আজি পিয়াল ডালে বাঁধো বাঁধো ঝুলনা।
পড় ধানী শাড়ি, মেঘ-রঙ ওড়না।।
জলদ-তাল বাজে শ্রাবণ-মেঘে
তরুরে জড়ায়ে দোলে বন-লতা পবন বেগে
মনের মাঝে দোলে মিলন-বিরহ-দোলনা।।
শান্ত আকাশে আজি বেদনা ঘনায়
কত কি বলিতে চায় শ্রাবণ-ধারায়,
(তার) তবু মনের কথা বলা হ'ল না।।
তমাল-কুঞ্জে চল চল দুলিতে,
গাহ ঝুলনের গান ব্রজ-বুলিতে,
আজি আসে মনে বৃন্দাবনের তুলনা।।

মোর বুক ভরা ছিল আশা

বাণী

মোর বুক ভরা ছিল আশা প্রাণ ভরা ভালোবাসা।
হায় আসিল সে যবে কাছে মুখে সরিল না ভাষা।।
	আমি পেয়েছিলাম তায় একা
	ছিল চোখে তাহার প্রেম-লেখা,
তবু বলিতে পারিনি তারে কাঁদে প্রাণে কি দুরাশা।।
	এসে ভরা নদীর তীরে
	পান না করিয়া বারি
	আমি আসিলাম ফিরে — 
ছিল তৃষ্ণা-কাতর এ প্রাণে মরুভূমির পিয়াসা।।

মদির অধীর দখিন হাওয়া

বাণী

মদির অধীর দখিন হাওয়া।
ফিরে গেল, এলো না (মোর) পথ-চাওয়া।।
ফুরাইয়া যায় পরানের ফাগুন, আসিল না জীবন-দেবতা,
ঝরা পল্লব-প্রায় সাধ আশা ঝ’রে যায় শুকাল এ তনু-লতা।
শ্রান্ত গানের পাখি ডেকে ডেকে চ’লে যায় চির-বসন্ত যথা।।
আকাশে আজিও ঝরে জোছনার-ঝর্না,
তুমি আসিবে বলি’ এ দেহ চাঁপার কলি আজও আছে বঁধু চন্দন-বর্ণা।
নিরাশায় সায়রে আজিও একটি দু’টি কুসুম ফোটে,
কৃষ্ণা-তিথি, তবু আধেক রাতের পরে আজও চাঁদ ওঠে।
এ চাঁদ উঠিবে না, এ ফুল ফুটিবে না আর এ জীবন-তটে।।
	এসো ফিরে, এসে লহ প্রিয়তম
	তোমারে নিবেদিত অঞ্জলি মম,
রূপের প্রেমের অঞ্জলি মম — এসো ফিরে, এসে লহ প্রিয়তম।।

ভেসে আসে সুদূর স্মৃতির সুরভি

বাণী

ভেসে আসে সুদূর স্মৃতির সুরভি হায় সন্ধ্যায়
রহি’ রহি’ কাঁদি’ ওঠে সকরুণ পূরবী, আমারে কাঁদায়।।
কা’রা যেন এসেছিল, এসে ভালোবেসেছিল।
ম্লান হ’য়ে আসে মনে তাহাদের সে-ছবি, পথের ধুলায়।।
কেহ গেল দ’লে – কেহ ছ’লে, কেহ গলিয়া নয়ন নীরে
যে গেল সে জনমের মত গেল চলিয়া এলো না, এলো না ফিরে।
কেহ দুখ দিয়া গেল কেহ ব্যথা নিয়া গেল
কেহ সুধা পিয়া গেল কেহ বিষ করবী তাহারা কোথায় আজ
				তাহারা কোথায়।।