মাদল বাজিয়ে এলো বাদলা মেঘ

বাণী

মাদল বাজিয়ে এলো বাদলা মেঘ এলোমেলো
মাতলা হাওয়া এলো বনে।
ময়ূরী নাচে কালো জামের গাছে
পিয়া পিয়া বন-পাপিয়া
ডাকে গো আপন মনে।।
বেত-বনের আড়ালে ডাহুকী ডাকে,
ডাকে না এমন দিনে কেহ আমাকে,
বেণীর বিনুনী খুলে পড়ে
একলা মন টেকে না ঘরের কোণে।।
জঙ্গল পাহাড় কাঁপে বাজের আওয়াজে,
বুকের মাঝে তবু নূপুর বাজে।।
ঝিঁঝিঁ তার ডাক ভুলে
ঝিম্ ঝিম্ ঝিম্ বৃষ্টির বাজ্‌না শোনে।।

আমার যখন পথ ফুরাবে

বাণী

আমার যখন পথ ফুরাবে, আসবে গহীন রাতি (খোদা) —
তখন তুমি হাত ধ'রো মোর হয়ো পথের সাথী (খোদা)।। 
অনেক কথা হয়নি বলা, বলার সময় দিও, খোদা —
আমার তিমির অন্ধ চোখে দৃষ্টি দিও প্রিয়, খোদা
বিরাজ করো বুকে তোমার আরশটিকে পাতি'।।
সারা জীবন কাটলো আমার বিরহে বঁধু,
পিপাসিত কন্ঠে এসে দিও মিলন-মধু।
তুমি যথায় থাকো প্রিয় সেথায় যেন যাই, খোদা
সখা ব'লে ডেকো আমায়, দীদার যেন পাই, খোদা।
সারা জনম দুঃখ পেলাম, যেন এবার সুখে মাতি।।

হাতে হাত দিয়ে আগে চল হাতে নাই থাক হাতিয়ার

বাণী

হাতে হাত দিয়ে আগে চল হাতে নাই থাক হাতিয়ার।
জমায়েত হও, আপনি আসিবে শক্তি জুলফিকার।।
আন আলীর শৌর্য, হোসেনের ত্যাগ ওমরের মত কর্মানুরাগ;
খালেদের মত সব অশান্ত ভেঙে কর একাকার।।
ইসলামে নাই ছোট বড় আর আশরাফ আতরাফ
নিষ্ঠুর হাতে এই ভেদ জ্ঞান কর মিসমার সাফ।
চাকর সৃজিতে , চাকরি করিতে, ইসলাম আসে নাই পৃথিবীতে।
মরিবে ক্ষুধায় কেহ নিরন্ন, কারো ঘরে রবে অঢেল অন্ন
এ জুলুম সহেনি, ইসলাম, সহিবে না আজো আর।।

এলো রে এলো ঐ রণ-রঙ্গিণী

বাণী

এলো রে এলো ঐ রণ-রঙ্গিণী শ্রীচন্ডী, চন্ডী এলো রে এলো ঐ
অসুর সংহারিতে বাঁচাতে উৎপীড়িতে
ধ্বংস করিতে সব বন্ধন বন্দী, শ্রীচন্ডী, চন্ডী, এলো রে এলো ঐ॥
দনুজ দলনে চামুন্ডা এলো ঐ প্রলয় অগ্নি জ্বালি নাছিছে
তাথৈ তাথৈ তাতা থৈ থৈ দুর্বলে বলে মা মাভৈঃ মাভৈঃ
মুক্তি লভিবি সব শৃঙ্খল বন্দী, শ্রীচন্ডী, চন্ডী, এলো রে এলো ঐ॥
রক্ত-রঞ্জিত অগ্নি শিখায় করালী কোন্ রসনা দেখা যায়।
পাতাল তলের যত মাতাল দানব পৃথিবীতে এসেছিল হইয়া মানব
তাদের দন্ড দিতে আসিয়াছে চন্ডীকা সাজিয়া চন্ডী, শ্রীচন্ডী, চন্ডী এলো রে॥

ভুলিতে পারিনে তাই আসিয়াছি পথ ভুলি

বাণী

ভুলিতে পারিনে তাই আসিয়াছি পথ ভুলি’।
ভোল মোর সে অপরাধ, আজি যে লগ্ন গোধূলি।।
এমনি রঙিন বেলায় খেলেছি তোমায় আমায়,
খুঁজিতে এসেছি তাই সেই পুরানো দিনগুলি।।
তুমি যে গেছ ভুলে – ছিল না আমার মনে,
তাই আসিয়াছি তব বেড়া–দেওয়া ফুলবনে।
গেঁথেছি কতই মালা এই বাগানের ফুল তুলি’—
আজও সেথা গাহে গান আমার পোষা বুলবুলি।।

লাল নটের ক্ষেতে লাল টুকটুকে বৌ যায়

বাণী

	লাল নটের ক্ষেতে, লাল টুকটুকে বৌ যায় গো।
তার	আলতা পায়ের চিহ্ন এঁকে নালতা শাকের গায় গো।।
	লাল নটের ক্ষেতে মৌমাছি ওঠে মেতে
	তার রূপের আঁচে পায়ের তলার মাটি ওঠে তেতে।
	লাল পুঁইয়ের লতা নুয়ে পড়ে জড়িয়ে ধরে পায় গো।।
	কাঁকাল বাঁকা রাখাল ছোঁড়া আগলে দাঁড়ায় আ’ল —
	রাঙা বৌ-এর চোখে লাগে লাল লঙ্কার ঝাল।
	বৌ-এর ঘেমে ওঠে গা, লাজে সরে না পা
	সে মুখ ফিরিয়ে শাড়ির আঁচল আঙুলে জড়ায় গো।।