অসুর-বাড়ির ফেরত এ মা

বাণী

অসুর-বাড়ির ফেরত এ মা
শ্বশুর-বাড়ির ফেরত নয়।
দশভুজার করিস পূজা
		ভুলরূপে সব জগতময়।।
নয় গোরী নয় এ উমা
মেনকা যার খেতো চুমা
রুদ্রাণী এ, এযে ভূমা
		এক সাথে এ ভয়-অভয়।।
অসুর দানব করল শাসন এইরূপে মা বারে বারে,
রাবণ-বধের বর দিল মা এইরূপে রাম-অবতারে।
দেব-সেনানী পুত্রে লয়ে মা
এই বেশে যান দিগ্বিজয়ে
সেই রূপে মা’র কর্‌রে পূজা
		ভারতে ফের আসবে জয়।।

পেয়ে আমি হারায়েছি গো

বাণী

পেয়ে আমি হারায়েছি গো আমার বুকের হারামণি।
গানের প্রদীপ জ্বেলে তা’রেই খুঁজে ফিরি দিন-রজনী।।
সে ছিল গো মধ্যমণি আমার মনের মণি-মালায়,
রেখেছিলাম লুকিয়ে তায়, মানিক যেমন রাখে ফণী।।
স্নিগ্ধ জ্যোতি নিয়ে সে মোর এসেছিল দগ্ধ বুকে,
অসীম আঁধার হাত্‌ড়ে ফিরি খুঁজি তারি রূপ-লাবণি।।
হারিয়ে যে যায় হায় কেন সে যায় হারিয়ে চিরতরে,
মিলন-বেলাভুমে বাজে বিরহেরই রোদন-ধ্বনি।।

ও কে উদাসী বেণু বাজায়

বাণী

ও কে উদাসী বেণু বাজায়
ডাকে করুণ সুরে আয় আয়।।
ও সে বাঁধন হারা বাহির বিলাসী
	গৃহীরে করে সে পরবাসী
	রস যমুনায় উজান বহায়।।
মম মনের ব্রজে ওসে কিশোর রাখাল
যেন বাজায় বাঁশি শুনি অনাদিকাল
তার সরল বাঁশি তার তরল তাল
	অন্তরে গরল-সুধা মেশায়।।

হুল ফুটিয়ে গেলে শুধু পারলে না হায়

বাণী

হুল ফুটিয়ে গেলে শুধু পারলে না হায় ফুল ফোটাতে।
মৌমাছি যে ফুলও ফোটায় হুল ফোটানোর সাথে সাথে।।
	আঘাত দিলে, দিলে বেদন
	রাঙাতে হায়, পারলে না মন,
প্রেমের কুঁড়ি ফুটল না তাই পড়ল ঝ’রে নিরাশাতে।।
আমায় তুমি দেখলে নাকো, দেখলে আমার রূপের মেলা,
হায় রে দেহের শ্মশান-চারী, শব নিয়ে মোর করলে খেলা।
শয়ন-সাথি হলে আমার, রইলে নাকো নয়ন-পাতে।।
ফুল তুলে হায় ঘর সাজালে, করলে নাকো গলার মালা
ত্যাজি’ সুধা পিয়ে সুরা হলে তুমি মাতোয়ালা,
নিশাস ফেলে নিভাইলে যে-দীপ আলো দিত রাতে।।

চোখের নেশার ভালোবাসা

বাণী

চোখের নেশার ভালোবাসা সে কি কভু থাকে গো
জাগিয়া স্বপনের স্মৃতি স্মরণে কে রাখে গো।।
তোমরা ভোল গো যা’রে চিরতরে ভোল তা’রে
মেঘ গেলে আবছায়া থাকে কি আকাশে গো।।
পুতুল লইয়া খেলা খেলেছ বালিকা বেলা
খেলিছ পরাণ ল’য়ে তেমনি পুতুল খেলা।
ভাঙ্গিছ গড়িছ নিতি হৃদয়–দেবতাকে গো।
চোখের ভালোবাসা গ’লে
শেষ হ’য়ে যায় চোখের জলে
বুকের ছলনা সেকি নয়ন জলে ঢাকে গো।।

কও কথা কও কথা, কথা কও

বাণী

কও কথা কও কথা, কথা কও হে দেবতা।
তুমি তো জানো স্বামী আমার প্রাণে কত ব্যথা।।
		মোর তরে আজি সকল দুয়ার
		হইল বন্ধ হে প্রভু আমার
তুমি খোলো দ্বার! সহে না যে আর সহে না এ নীরবতা।।
		শুনি অসহায় মোর ক্রন্দন
		গলিবে না পাষাণের নারায়ণ
ভোলো অভিমান চরণে লুটায় পূজারিণী আশাহতা।।

নাটিকাঃ ‍‌'মীরাবাঈ'