আমার ভবের অভাব লয় হয়েছে

বাণী

(মা) আমার ভবের অভাব লয় হয়েছে শ্যামা-ভাব-সমাধিতে।
শ্যামা রসে যে-মন আছে ডুবে কাজ কিরে তার যশ-খ্যাতিতে।।
	মধু যে পায় শ্যামা-পদে,
	কাজ কিরে তার বিষয়-মদে;
যুক্ত যে মন যোগামায়াতে; ভাবনা কি তার রোগ ব্যাধিতে।।
কাজ কি’রে তার লক্ষ টাকায়, মোক্ষ লক্ষ্মী যাহার ঘরে,
কত রাজার রাজা প্রসাদ মাগে সেই ভিখারীর পায়ে ধরে।
ও মা শান্তিময়ী অন্তরে যার, দুঃখ শোকে ভয় কি রে তার
সে সদানন্দ সদাশিব জীবন্মুক্ত ধরণীতে।।

একেলা ঢুলিয়া ঢুলিয়া কে যায়

বাণী

একেলা ঢুলিয়া ঢুলিয়া কে যায়।
চলিতে চরণ চরণে জড়ায়।।
এখনো ভাঙেনি মল্লিকার ঘুম
এখনো অমলিন-কবরী কুসুম,
নয়নে নিশির ঝরেনি শিশির
বিহগ পাখায় বিহগী ঘুমায়।।
অভিসার নিশি বৃথাই জাগি কোথা
অভিমানিনী চলে মূর্তিমতী ব্যথা।
ভীরু চকিত চোখে করুণ কাতরতা
রবি না ওঠে যেন মিনতি জানায়।।

নদী এই মিনতি তোমার কাছে

বাণী

নদী এই মিনতি তোমার কাছে।
ভাসিয়ে নিয়ে যাও আমারে যে দেশে মোর বন্ধু আছে।।
নদী, তোমার জলের পথ ধ’রে সে চ’লে গেল একা,
আমি সেই হ’তে তার পথ চেয়ে রই, পেলাম না আর দেখা,
ধূলার এ পথ নয় সে বন্ধু থাকবে চরণ-রেখা।
আমি মীন হয়ে রহিব জলে, ছুট্‌ব ঢেউ-এর পাছে।।
আমি ডুবে যদি মরি, তোমার নয় সে অপরাধ,
কুলে থেকে পাইনে খুঁজে, তাই জেগেছে সাধ।
আমি দেখ্‌ব ডু’বে তোমার জলে আছে কি মোর চাঁদ,
বড় জ্বালা বুকে রে নদী টেনে লহ কাছে
	নদী, অভাগা এই যাচে।।

আমি ময়নামতীর শাড়ি দেবো

বাণী

আমি ময়নামতীর শাড়ি দেবো, চলো আমার বাড়ি
ওগো ভিনগেরামের নারী
তোরে সোনাল ফুলের বাজু দেবো চুড়ি বেলোয়ারি।।
তোরে বৈঁচী ফুলের পৈঁচী দেবো কলমিলতার বালা,
রক্ত-শালুক দিবো পায়ে, পরবে আলতা তা'রি।।
হলুদ-চাঁপার বরণ কন্যা এসো আমার নায়
সরষে ফুলের সোনার রেণু মাখাবো ওই গায়!
ঠোঁটে দিবো রাঙা পলাশ মহুয়া ফুলের মউ,
বকুল-ডালে ডাকবে পাখি, 'বউ গো কথা কও!'
আমি সব দিবো গো, যা পারি আর যা দিতে না পারি।।

জয় আনন্দ-ভৈরব ডমরু পিনাক-পাণি

বাণী

	জয়, আনন্দ-ভৈরব ডমরু পিনাক-পাণি,
গঙ্গাধর চন্দ্র চূড় শিব তীব্র-ধ্যানী।।
	তব সূর্যকান্তি রাগে
	প্রাণে প্রভাত-শান্তি জাগে,
পর প্রধান পূর্ণরূপ, হে শুদ্ধ জ্ঞানী।।
সরল মতি শঙ্কর হে, নাচো গরল পিয়ে,
আশুতোষ তুষ্ট তুমি বিল্বদল নিয়ে।
	মৃত্যু-ভীত বিশ্বজনে
	তমসা মগন ভুবনে,
শোনাও আনন্দিত মাভৈঃ অভয়বাণী।।

কথার কুসুমে গাঁথা গানের মালিকা

বাণী

কথার কুসুমে গাঁথা গানের মালিকা কার।
ভেসে এসে হতে চায় গো আমার গলার হার।।
		আমি তারে নাহি জানি
		তার সুরের সূত্রখানি,
তবু বিজড়িত হয় কেন গো, আমার কঙ্কনে বারবার।।
তার সুরের তুলির পরশে, ওঠে আমার ভুবন রাঙ্গি’,
কোন বিস্মৃত জনমের যেন কত স্মৃতি ওঠে জাগি’।
		আমার রাতের নিদে
		তার সুর এসে প্রাণে বিঁধে,
যার সুর এত চেনা, কবে দেখা পাবো সেই অচেনার।।