বৃন্দাবনে এ কি বাঁশরি বাজে

বাণী

বৃন্দাবনে এ কি বাঁশরি বাজে।
গোপিনী উন্মনা, মন নাহি কাজে।।
কুলবধূ-ঘটে-ঘটে সে-বাঁশি স্বনে
উছলি’ উছলি’ উঠে নীর ক্ষণে ক্ষণে,
নয়ন-সলিল ঝরে গাগরি-মাঝে।।

বলেছিলে তুমি তীর্থে আসিবে

বাণী

বলেছিলে তুমি তীর্থে আসিবে আমার তনুর তীরে।
তুমি আসিলে না, (হায়!) আশার সূর্য ডুবিল সাগর-নীরে।।
	চলে যাই যদি, চিরদিন মনে
	তোমার সে-কথা রহিবে স্মরণে
শুধু সেই কথা শোনার লাগিয়া হয়তো আসিব ফিরে।।
শুধু সেই আশে হয়তো এ তনু মরণে হবে না লীন
পথ চেয়ে চেয়ে, তব নাম গেয়ে বাজাব বিরহ-বীণ।
	হের গো, আমার যাবার সময় হলো
	তোমার সে-কথা মিথ্যা হবে না বলো,
কোন শুভক্ষণে নিমেষের তরে জড়াবে কন্ঠ ঘিরে।।

তুমি দিয়েছ দুঃখ-শোক-বেদনা তোমারি জয়

বাণী

তুমি দিয়েছ দুঃখ-শোক-বেদনা, তোমারি জয় তোমারি জয়।
ভালোবাস যারে কাঁদাও তাহারে ছলানাময়।
	তোমারি জয়, তোমারি জয়, তোমারি জয়॥
তুমি কাঁদায়েছ বসুদেব দেবকীরে,
নন্দ যশোদা ব্রজের গোপীরে,
কাঁদাইলে তুমি শত শ্রীমতীরে হে নিরদয়।
	তোমারি জয়, তোমারি জয়, তোমারি জয়॥
তোমারে চাহিয়া কোটি নয়নে বিরহ অশ্রু ঝুরে,
ধরণী যে আজ ডুবু ডুবু শ্যাম সাগর সলিলে পুরে।
ভক্তে কাঁদাতে হে ব্যথা বিলাসী
যুগে যুগে আসি’ বাজাইলে বাঁশি
তবুও এ-প্রাণ তোমারি পিয়াসি মানে না ভয়।
	তোমারি জয়, তোমারি জয়, তোমারি জয়।

বৈতালিক

শহীদী ঈদগাহে দেখ্‌ আজ জমায়েত ভারি

বাণী

শহীদী ঈদগাহে দেখ্‌ আজ জমায়েত ভারি।
হবে দুনিয়াতে আবার ইসলামী ফর্‌মান জারি।।
তুরান ইরান হেজাজ মেসের হিন্দ মোরক্কো ইরাক,
হাতে হাত মিলিয়ে আজ দাঁড়ায়েছে সারি সারি।।
ছিল বেহোঁশ যারা আঁসু ও আফসোস ল’য়ে।
তুইও আয় এই জমাতে ভুলে যা’ দুনিয়াদারী।।
ছিল জিন্দানে যারা আজকে তারা জিন্দা হ’য়ে,
ছোটে ময়দানে দারাজ-দিল্‌ আজি শমশের ল’য়ে।
তকদির বদলেছে আজ উঠেছে তকবির তারি।।

চন্দ্রমল্লিকা চন্দ্রমল্লিকা

বাণী

চন্দ্রমল্লিকা, চন্দ্রমল্লিকা — 
চাঁদের দেশের পথ-ভোলা ফুল চন্দ্রমল্লিকা।
রঙ্‌-পরীদের সঙ্গিনী তুই অঙ্গ’ চাঁদের রূপ-শিখা।।
ঊষর ধরায় আস্‌লি ভুলে তুষার দেশের রঙ্গনী’
হিমেল দেশের চন্দ্রিকা তুই শীত-শেষের বাসন্তিকা।।
চাঁদের আলো চুরি ক’রে আনলি তুই মুঠি ভ’রে,
দিলাম চন্দ্র-মল্লিকা নাম তাই তোরে আদর ক’রে।
	ভঙ্গিমা তোর গরব-ভরা
	রঙ্গিমা তোর হৃদয়-হরা,
ফুলের দলে ফুলরানী তুই — তোরেই দিলাম জয়টিকা।।

বাজাও প্রভু বাজাও ঘন বাজাও

বাণী

বাজাও প্রভু বাজাও ঘন বাজাও ভীম বজ্র-বিষাণে দুর্জয় মহা-আহ্বান তব।
বাজাও! অগ্নি তূর্য কাঁপাক সূর্য বাজুক রুদ্রতালে ভৈরব।।
দুর্জয় মহা-আহ্বান তব, বাজাও! নট-মল্লার দীপক-রাগে
জ্বলুক তড়িৎ-বহ্নি আগে,
ভেরির রন্ধ্রে মেঘ-মন্দ্রে জাগাও বাণী জাগ্রত নব।।
দুর্জয় মহা-আহ্বান তব, বাজাও! দাসত্বের এ ঘৃণ্য তৃপ্তি
ভিক্ষুকের এ লজ্জা-বৃত্তি,
বিনাশ জাতির দারুণ এ লাজ, দাও তেজ দাও মুক্তি-গরব।।
দুর্জয় মহা-আহ্বান তব, বাজাও! খুন দাও নিশ্চল এ হস্তে
শক্তি-বজ্র দাও নিরস্ত্রে,
শীর্ষ তুলিয়া বিশ্বে মোদেরও দাঁড়াবার পুন দাও গৌরব।।
দুর্জয় মহা-আহ্বান তব, বাজাও! ঘুচাতে ভীরুর নীচতা দৈন্য
প্রের হে তোমার ন্যায়ের সৈন্য,
শৃঙ্খলিতের টুটাতে বাঁধন আন আঘাত প্রচন্ড আহব।।
দুর্জয় মহা-আহ্বান তব, বাজাও! নিবীর্য্য এ তেজঃসূর্য্যে,
দীপ্ত কর হে বহ্নি-বীর্য্যে,
শৌর্য, ধৈর্য্য মহাপ্রাণ দাও, দাও স্বাধীনতা সত্য বিভব।।