সন্ধ্যার গোধূলি রঙে নাহিয়া

বাণী

সন্ধ্যার গোধূলি রঙে নাহিয়া।
কে এলে কাহারে চাহিয়া।।
মধুর লগনে অপরূপ বেশে
কেন দাঁড়ালে মম দ্বারে এসে,
দিনের শেষে ঝরা ফুলের দেশে —
	আসিলে চাঁদের তরণী বাহিয়া।।
অস্ত রবির রঙ ল’য়ে কোন্‌ যাদুকর
নিরমিল তোমার মূরতি মনোহর,
মনের পদ্ম-বনে বাণীর মধুকর —
	‘সুন্দর! সুন্দর!’ — ওঠে গাহিয়া।।

কেন চাঁদিনী রাতে মেঘ আসে ছায়া ক’রে

বাণী

কেন চাঁদিনী রাতে মেঘ আসে ছায়া ক’রে।
সুখের বাসরে কেন, প্রাণ ওঠে বিষাদে ভ’রে।।
কেন মিলন রাতে, সলিল আঁখি পাতে,
কেন ফাগুন প্রাতে, সহসা বারি ঝরে।।
ডাকিয়া ফুলবনে, থাকে সে আনমনে,
কাঁদায় নিরজনে, কাঁদে কে কিসের তরে।।

তুমি যখন এসেছিলে তখন আমার ঘুম ভাঙেনি

বাণী

তুমি যখন এসেছিলে তখন আমার ঘুম ভাঙেনি
মালা যখন চেয়েছিলে বনে তখন ফুল জাগেনি।।
	আমার আকাশ আঁধার কালো
	তোমার তখন রাত পোহালো
তুমি এলে তরুণ-আলো তখন আমার মন রাঙেনি।।
ওগো রুদ্ধ ছিল মোর বাতায়ন পূর্ণ শশী এলে যবে,
আঁধার-ঘরে একেলা জাগি হে চাঁদ আবার আসবে কবে।
	আজকে আমার ঘুম টুটেছে
	বনে আমার ফুল ফুটেছে
ফেলে যাওয়া তোমারি মালায় বেঁধেছি মোর বিনোদ-বেনী।।

এসো চির-জনমের সাথি

বাণী

এসো চির-জনমের সাথি।
তোমারে খুঁজেছি দূর আকাশে জ্বালায়ে চাঁদের বাতি।।
	খুঁজেছি প্রভাতে গোধূলি-লগনে
	মেঘ হয়ে আমি খুঁজেছি গগনে,
ঢেকেছে ধরণী আমার কাঁদনে অসীম তিমির রাতি।।
ফুল হয়ে আছে লতায় জড়ায়ে মোর অশ্রুর স্মৃতি,
বেণু বনে বাজে বাদল-নিশীথে আমারি করুণ-গীতি।
	শত জনমের মুকুল ঝরায়ে
	ধরা দিতে এলে আজি মধু-বায়ে,
ব’সে আছি আশা-বকুলের ছায়ে বরণের মালা গাঁথি’।।

ঘরে যদি এলে প্রিয়

বাণী

ঘরে যদি এলে প্রিয় নাও একটি খোঁপার ফুল।
আমার চোখের দিকে চেয়ে ভেঙে দাও মনের ভুল।।
অধর কোণের ঈষৎ হাসির আলোকে
বাড়িয়ে দাও আমার গহন কালোকে,
যেতে যেতে মুখ ফিরিয়ে দুলিয়ে যেয়ো দুল।।
একটি কথা ক’য়ে যেয়ো একটি নমস্কার
সেই কথাটি গানের সুরে গাইব বার বার,
হাত ধরে মোর বন্ধু ভুলো তোমার মনের সকল ভুল।।

নাটক : ‘মদিনা’

ডেকো না আর দূরের প্রিয়া

বাণী

ডেকো না আর দূরের প্রিয়া থাকিতে দাও নিরালা।
কি হবে হায় বিদায়-বেলায় এনে সুধার পিয়ালা।।
সুখের দেশের পাখি তুমি কেন এলে এ বনে,
আজ এ বনে জাগে শুদু কণ্টকের স্মৃতির জ্বালা।।
মরুর বুকে কি ঘোর তৃষ্ণা বুঝিবে কি মেঘ-পরী,
মিটিবে না আমার তৃষ্ণা ঐ আঁখি-জলে বালা।।
আঁধার ঘরের আলো তুমি আমি রাতের আলেয়া,
ভোলো আমায় চিরতরে, ফিরিয়ে নাও এ ফুল-মালা।।