আমার অহঙ্কারের মূল কেটে দে

বাণী

মা, মা গো —
আমার অহঙ্কারের মূল কেটে দে কাঠুরিয়ার মেয়ে,
কত নিরস তরু হ'ল মঞ্জুরিত তোর চরণ-পরশ পেয়ে।।
রোদে পুড়ে জলে ভিজে মা দিয়েছি ফুল ফল
শাখায় আমার, নীড় বেঁধেছে বিহঙ্গের দল।
বটের মত সারা দেহ মাগো মায়ার জটে আছে ছেয়ে।।
ও মা মূল আছে তাই বৈতরণীর কূলে আছি পড়ি
নইলে হ'তাম খেয়াঘাটের পারাপারের তরী।
	তুই খড়গের ভয় দেখাস মিছে
	মুক্তি আছে এরি পিছে মাগো
তোর হাসির বাঁশি শুনতে পাবো অসির আঘাত খেয়ে।।

যাও হেলে দুলে এলোচুলে কে গো বিদেশিনী

বাণী

পুরুষ	:	যাও হেলে দুলে এলোচুলে কে গো বিদেশিনী
		কাহার আশে কাহার অনুরাগিনী।
স্ত্রী	:	আমি কনক চাঁপার দেশের মেয়ে
		এনু ঊষার রঙের গান গেয়ে
		আমি মল্লিকা গো পল্লীবাসিনী।
পুরুষ	:	চিনি চিনি ওই চুড়ি কাঁকনের রিনিকি রিনি
		তুমি ভোর বেলা দাও স্বপনে দেখা।
স্ত্রী	:	তোমার রঙে কবি আঁক আমারি ছবি
		তুমি দেবতা রবি আমি তব পূজারিণী।
পুরুষ	:	এসো ধরণীর দুলালী আলোর দেশে
		যথা তারার সাথে চাঁদ গোপনে মেশে
স্ত্রী	:	আনো আলোক তরী আমি যাই গো ভেসে
দ্বৈত	:	চলো যাই ধরণী ধূলির ঊর্ধে
পুরুষ	:	যথা বয় অনন্ত
স্ত্রী	:	প্রেম মন্দারিণী
পুরুষ	:	যথা বয় অনন্ত
দ্বৈত	:	প্রেম মন্দারিণী॥

যখন আমার গান ফুরাবে তখন এসো

বাণী

যখন আমার গান ফুরাবে তখন এসো ফিরে
ভাঙবে সভা বসবো একা রেবা নদীর তীরে।।
গীত শেষে গগন তলে, শ্রান্ত-তনু পড়বে ঢলে
ভালো যখন লাগবে না আর সুরের সারঙ্গীরে।।
মোর কণ্ঠের জয়ের মালা তোমার গলায় নিও
ক্লান্তি আমার ভুলিয়ে দিও প্রিয় হে মোর প্রিয়।
ঘুমাই যদি কাছে ডেকো, হাতখানি মোর হাতে রেখো
জেগে যখন খুঁজবো তোমায় আকুল অশ্রু-নীরে
তখন এসো ফিরে।।

পিয়াল ফুলের পিয়ালায় বঁধু

বাণী

পিয়াল ফুলের পিয়ালায় বঁধু অন্তর-মধু ঢেলে পিয়াব তোমায়।
রচিব হৃদয়ে মাধবী-কুঞ্জ বাহিরে ফাগুন যদি যেতে চায়।।
		বেল-ফুল যায় যদি ঝুরে
		প্রেম-ফুল দিব ডালি ভ’রে,
নিশি জেগে আমি গান শোনাব বনের বিহগ যদি মাগে বিদায়।।
		আর যদি নাহি বহে দখিনা বাতাস
	(বঁধু)	অঞ্চল আছে মোর, আছে কেশ-পাশ,
যায় যদি যাক্ ডুবে চৈতালী চাঁদ আমার চাঁদ যেন চ’লে নাহি যায়।

করিও ক্ষমা হে খোদা

বাণী

করিও ক্ষমা হে খোদা আমি গুণাহগার অসহায়।
কাজের মাঝে অবসর পাই না ডাকিতে তোমায়।।
যতবার তোমার পথে হে খোদা যেতে চেয়েছি
বাহির ভিতর হ’তে হাজারো বাধা পেয়েছি,
তোমার পথের দুশমন ঘরে-বাহিরে-দুনিয়ায়।।
দুঃখ-শোক-ব্যাধির তাড়নায় শুনিয়াও শুনিনি আজান,
বান্দার সে-অপরাধ করিও ক্ষমা হে রহমান।
আমি যে কাঙাল ভিখারি পুণ্যের পুঁজি নাহি
শূন্য হাতে আমারে ফিরায়ো না হে ইলাহি,
করো না নিরাশ যদিও শরণ যাচি অবেলায়।।

তোর কালো রূপ লুকাতে মা

বাণী

তোর কালো রূপ লুকাতে মা বৃথাই আয়োজন।
ঢাকতে নারে ও রূপ, কোটি চন্দ্র তপন।।
	মাখিয়ে আলো আমার চোখে
	লুকিয়ে রাখিস তোর কালোকে,
তোর অতল কালো রূপে মাগো বিশ্ব নিমগন।।
আঁধার নিশীথ সে যেন তোর কালো রূপের ধ্যান
তোর গহন কালোয় গাহন ক’রে জুড়ায় ধরার প্রাণ।
হেরি তোর কালো রূপ স্নিগ্ধ-করা
	শ্যামা হ’ল বসুন্ধরা,
নিবল কোটি সূর্য, তোরে খুঁজে অনুক্ষণ।।