ঝরে ঝরঝর কোন্ গভীর গোপন ধারা

বাণী

ঝরে ঝরঝর কোন্ গভীর গোপন ধারা এ শাঙনে।
আজি রহিয়া রহিয়া গুমরায় হিয়া একা এ আঙনে
ঘনিমা ঘনায় ঝাউ-বীথিকায় বেণু-বন-ছায় রে —
ডাহুকীরে খুঁজি’ ডাহুক কাঁদে আঁধার-গহনে।।
কেয়া-বনে দেয়া তুণীর বাঁধিয়া,
গগনে গগনে ফেরে গো কাঁদিয়া।
বেতস-বিতানে নীপ-তরুতলে
শিখী নাচ ভোলে পুছ-পাখা টলে,
মালতী-লতায় এলাইয়া বেণী কাঁদে বিষাদিনী রে —
কাজল-আঁখি কে নয়ন মোছে তমাল-কাননে।।

নাটক : ‘ঝিলিমিলি’

লক্ষ্মী মাগো এস ঘরে

বাণী

লক্ষ্মী মাগো এস ঘরে সোনার ঝাঁপি লয়ে করে।
কমল-বনের কমলা গো বিহর হৃদি-কমল পরে।।
	কোজাগরী-পূর্ণিমাতে
	দাঁড়াও আকাশ-আঙ্গিনাতে,
মা গো, তোমার লক্ষ্মী শ্রী জোছনা-ধারায় পড়ুক ঝরে।।
চঞ্চলা গো, এই ভবনে থাকো অচঞ্চলা হয়ে,
দারিদ্র্য আর অভাব যত দূর হোক মা তোর উদয়ে।
	সুমঙ্গলা দুঃখ-হরা।
	অমৃত দাও পাত্র-ভরা,
ঐশ্বর্য উপ্‌চে পড়ুক, হরি-প্রিয়া তোমার বরে।।

‘লক্ষ্মী-বন্দনা’

এখনো মেটেনি আশা এখনো মেটেনি সাধ

বাণী

এখনো মেটেনি আশা এখনো মেটেনি সাধ।
এখনো নয়ন মানে নাই তার চাহনির অপরাধ।।
	আজো ঢেউগুলি নীল সায়রের কোলে
	জল-তরঙ্গে ঝঙ্কার তোলে
পিয়াসি চাতক আজো চেয়ে ফেরে বরষার পরসাদ।।
কবে ফুটছিল রূপের কুসুম বনানীর লতা-গাছে,
আজো গৌরী-চাঁপার রঙটুকু তার মরমে লাগিয়া আছে।
	চ'লে গেছে চাঁদ আলো আবছায়
	দাগ ফেলে হিয়া-আয়নার গায়
থেমেছে কানুর বাঁশরি থামেনি যমুনার কলনাদ।।
ঢাল পিয়ালে লাল সিরাজী নিত্য দোদুল তালে তালে
আঁকবো বুকে প্রীতির ব্যথা রঙ্গিন নেশায় রঙ্গিন জালে।।
মত্ত হবো চিত্ত হারা বেদনা ভরা বদমেজাজি
করলে পাগল ব্যর্থ আশায় করলে প্রেমরে দাগাবাজি।।
রঙ্গিন বঁধু তুমি শুধু, তুমি শুধু সত্যি হবে
রঙ্গিন নেশায় রঙ্গিন পথে তুমি শুধু সাথী হবে।।
শুল্ক তালু কণ্ঠ আমার দে রে আমার রুগ্ন গালে
দে রে সাকি দে রে ঢেলে নিত্য দোদুল তালে তালে।।

বকুল তলে ব্যাকুল বাঁশি কে বাজায়

বাণী

বকুল তলে ব্যাকুল বাঁশি কে বাজায়
যে বাঁশরি শুনে কিশোরী সহসা যেন গো যৌবন পায়॥
রয় না মন ঘরে সেই বাঁশির সুরে
	দূরে ভেসে যেতে চায়
পরান ঘুরে মরে তাহার রাঙা পায়॥
তারি নূপুর শুনি নিশিদিনই প্রাণে মোর
নিশীথ রাতে আসে পাশে বসে মনোচোর।
তারে কি মালা দিব অশ্রু-মুক্তা গাঁথা
বিছাবো পথে কি তার মরা ফুল ঝরা পাতা
	প্রাণের দীপালি জ্বালি তারি আশায়॥

রাখিস্‌নে ধরিয়া মোরে ডেকেছে মদিনা

বাণী

রাখিস্‌নে ধরিয়া মোরে, ডেকেছে মদিনা আমায়।
আরাফাত্‌ময়দান হতে তারি তক্‌বীর শোনা যায়।।
কেটেছে পায়ের বেড়ি, পেয়েছি আজাদী ফরমান,
কাটিল জিন্দেগী বৃথাই দুনিয়ার জিন্দান-খানায়।।
ফুটিল নবীর মুখে যেখানে খোদার বাণী
উঠিল প্রথম তক্‌বীর ‘আল্লাহ্ আকবর’ ধ্বনি,
যে দেশে পাহাড়ে মুসা দেখিল খোদার জ্যোতি — 
রব না দারুল হরবে যেতে দে যেতে দে সেথায়।।
যে দেশে ধূলিতে আছে হজরতের চরণ-ধূলি
সে ধূলি করিব সুরমা চুমিব নয়নে তুলি’,
যে দেশের মাটিতে আছে নবীজীর মাজার শরিফ — 
নবীজীর দেহের পুষ্প ভাসে রে যে দেশের হাওয়ায়।।

ঘুম যবে ভাঙবে কন্যা

বাণী

ঘুম যবে ভাঙবে কন্যা (সুখ) স্বপন যাবে টুটে।
ফুল-শয্যার ফুটবে কাঁটা প্রভাতবেলা উঠে।।

নাটক : ‘মধুমালা’ (ঘুমপরীর গান)