মাকে আমার এলাম ছেড়ে মা অভয়া

বাণী

মাকে আমার এলাম ছেড়ে মা অভয়া, মাকে দেখো।
মোর তরে মা কাঁদে যদি তুমি তাকে ভুলিয়ে রেখো।।
	মায়ের যে বুক শূন্য ক’রে 
	এলাম আমি দেশান্তরে
শূন্য করে সেই খালি বুক মহামায়া তুমি থেকো।।

নাটিকাঃ ‘শ্রীমন্ত’

বাজল কি রে ভোরের সানাই

বাণী

বাজ্‌ল কি রে ভোরের সানাই নিদ্‌-মহলার আঁধার-পুরে
শুন্‌ছি আজান গগন-তলে আঁধার-রাতের মিনার-চূড়ে।।
সরাই-খানার্‌ যাত্রীরা কি
‘বন্ধু জাগো’ উঠ্‌ল হাঁকি’?
নীড় ছেড়ে ঐ প্রভাত-পাখি
			গুলিস্তানে চল্‌ল উড়ে’।।
তীর্থ-পথিক্‌ দেশ-বিদেশের
আর্‌ফাতে আজ জুট্‌ল কি ফের,
‘লা শরীক আল্লহু’ মন্ত্রের
			নাম্‌ল কি বান পাহাড় ‘তূরে’।।
আজকে আবার কা’বার পথে
ভিড় জমেছে প্রভাত হ’তে,
নামল কি ফের্ হাজার স্রোতে
			‘হেরার’ জ্যোতি জগৎ জুড়ে।।
আবার ‘খালেদ’ ‘তারেক’ ‘মুসা’
আনল কি খুন-রঙিন ভূষা,
আস্‌ল ছুটে’ হাসীন ঊষা
			নও-বেলালের শিঁরিন সুরে।।

যে পাষাণ হানি বারে বারে তুমি

বাণী

যে পাষাণ হানি বারে বারে তুমি আঘাত করেছ, স্বামী,
সে পাষাণ দিয়ে তোমার পূজায় এ মিনতি রাখি আমি।।
	যে আগুন দিলে দহিতে আমারে
	হে নাথ, নিভিতে দিইনি তাহারে;
আরতি প্রদীপ হয়ে তারি বিভা বুকে জ্বলে দিবা-যামী।।
তুমি যাহা দাও প্রিয়তম মোর তাহা কি ফেলিতে পারি,
তাই নিয়ে তব অভিষেক করি নয়নে দিলে যে বারি।
	ভুলিয়াও মনে কর না যাহারে,
	হে নাথ, বেদনা দাও না তাহারে,
ভুলিতে পারো না মোরে, ব্যথা দেওয়া ছলে, তাই নিচে আসো নামি'।।

বনদেবী জাগো সহকার-করে

বাণী

বনদেবী জাগো সহকার-করে বাঁধো বল্লরি-কঙ্কণ।
আকাশে জাগাও তব নব কিশলয়-কেতন-কম্পন।।
	অশান্ত দক্ষিণা সমীরণ
	গেয়ে যাক বসন্ত আবাহন,
বনে বনে হোক ফুল-আল্‌পনা-অঙ্কন।।
মধূপ গুঞ্জরে ঝিল্লীর মণি-মঞ্জিরে তোলো ঝংকার,
মুহু মুহু কুহু রবে আনো আনন্দিত ছন্দ ধরণীতে অলকানন্দার।
	ঝরা পল্লব মর্‌মরে
	মৃদু ঝরনার ঝর্‌ঝরে,
মুখরিত হোক তব বন-ভূমি-অঙ্গন।।

ঊষা এলো চুপি চুপি

বাণী

ঊষা এলো চুপি চুপি রাঙিয়া সলাজ অনুরাগে।
চাহে ভীরু নববধূ সম তরুণ অরুণ বুঝি জাগে।।
শুকতারা যেন তার জলভরা আঁখি
আনন্দ বেদনায় কাঁপে থাকি’ থাকি’,
সেবার লাগিয়া হাত দু’টি
মালার সম পড়ে লুটি
			কাহার পরশ-রস মাগে।।

ফোরাতের পানিতে নেমে

বাণী

ফোরাতের পানিতে নেমে 
ফাতেমা দুলাল কাঁদে অঝোর নয়নে রে।।
দু'হাতে তুলিয়া পানি 
ফেলিয়া দিলেন অমনি — পড়িল কি মনে রে।।
দুধের ছাওয়াল আসগর এই পানি চাহিয়ে রে,
দুশ্‌মনের তীর খেয়ে বুকে ঘুমাল খুন পিয়ে রে;
শাদীর নওশা কাশেম শহীদ এই পানি বিহনে রে।।
এই পানিতে মুছিল রে হাতের মেহেদী সকিনার,
এই পানিরই ঢেউয়ে ওঠে, তারি মাতম্‌ হাহাকার;
শহীদানের খুন মিশে আছে, এই পানিরই সনে রে।।
বীর আব্বাসের বাজু শহীদ হ'ল এরি তরে রে,
এই পানির বিহনে জয়নাল খিয়াম তৃষ্ণায় মরে রে;
শোকে শহীদ হ'লেন হোসেন জয়ী হয়েও রণে রে।।