এ কি অপরূপ রূপে মা তোমায়

বাণী

এ কি অপরূপ রূপে মা তোমায় হেরিনু পল্লী-জননী।
ফুলে ও ফসলে কাদা মাটি জলে ঝলমল করে লাবনি॥
রৌদ্রতপ্ত বৈশাখে তুমি চাতকের সাথে চাহ জল,
আম কাঁঠালের মধুর গন্ধে জ্যৈষ্ঠে মাতাও তরুতল।
ঝঞ্ঝার সাথে প্রান্তরে মাঠে কভু খেল ল’য়ে অশনি॥
কেতকী-কদম-যূথিকা কুসুমে বর্ষায় গাঁথ মালিকা,
পথে অবিরল ছিটাইয়া জল খেল চঞ্চলা বালিকা।
তড়াগে পুকুরে থই থই করে শ্যামল শোভার নবনী॥
শাপলা শালুক সাজাইয়া সাজি শরতে শিশির নাহিয়া,
শিউলি-ছোপানো শাড়ি পরে ফের আগামনী-গীত গাহিয়া।
অঘ্রাণে মা গো আমন ধানের সুঘ্রাণে ভরে অবনি॥
শীতের শূন্য মাঠে তুমি ফের উদাসী বাউল সাথে মা,
ভাটিয়ালি গাও মাঝিদের সাথে গো, কীর্তন শোনো রাতে মা।
ফাল্গুনে রাঙা ফুলের আবিরে রাঙাও নিখিল ধরণী॥

সেই পথে মন মম ধায়

বাণী

	সেই পথে মন মম ধায়।
প্রিয়	রসুলে খোদার, নবীর সরদার —
			যে পথে চলিলেন হায়।
	পরান আমার বিকাতে চাহে
	মাহে আরব লীলাভূমে বিকাতে চাহে।
যাব	কমলিওয়ালা-পাশ ছাড়ি' গৃহবাস
			কম্বল সম্বল করি'।
পাক	রওজার ধূলি শিরে ল'ব তুলি'
			পরিব অঞ্জন করি'।
	অঙ্গে রবে ভূষণ হয়ে সদা —
	পাক রওজার ধূলি ভূষণ হয়ে সদা অঙ্গে রবে।
আমি	(ওগো) মম দুখ-ভার করিয়া উজাড়
			দিব সে-চরণে ডারি।
ওগো	যত দুখ মোর বহিবে অঝোর
			হইবে নয়ন-বারি।
	আমার যাবে গো ব'য়ে
	আমার নয়নের ধারা যাবে গো ব'য়ে,
	পাক রওজাতে নিতি লুকানো বহ্নি
			নয়নের ধারা যাবে গো ব'য়ে।

কীর্তন-সুরে নাত-ই-রসুল

আয় নেচে নেচে আয় রে বুকে দুলালী মোর

বাণী

আয় নেচে নেচে আয় রে বুকে দুলালীমোর কালো মেয়ে
দগ্ধ দিনেরবুকে যেমন আসে শীতল আঁধার ছেয়ে।।
	আমার হৃদয়-আঙিনাতে
	খেলবি মা তুই দিনে রাতে
মোর সকল দেহ নয়ন হয়ে দেখবে মা তাই চেয়ে চেয়ে।।
হাত ধরে মোর নিয়ে যাবি তোর খেলাঘর দেখবি মা
এইটুকু তুই মেয়ে আমার কেমন করে হ’স অসীমা।
	লুটে নিবি চতুর্ভূজা
	আমার স্নেহ প্রেম-পূজা
(মা) নাম ধরে তোর ডাকব মা যেই যেথায় থাকিস আসবি ধেয়ে।।

হে চির সুন্দর বিশ্ব চরাচর

বাণী

হে চির সুন্দর, বিশ্ব চরাচর তোমারি মনোহর রূপের ছায়া।
রবি শশী তারকায় তোমারি জ্যোতি ভায় রূপে রূপে তব অরূপ কায়া।।
	দেহের সুবাস তব কুসুম-গন্ধে,
	তোমার হাসি হেরি শিশুর আনন্দে।
জননীর রূপে তুমি আমাদেরে যাও চুমি’, তব স্নেহ-প্রেমরূপ — কন্যা জায়া।।
হে বিরাট শিশু! এ যে তব খেলনা
নিতি নব, ভাঙা গড়া দুখ শোক বেদনা।
	শ্যামল পল্লবে সাগর-তরঙ্গে
	তব রূপ লাবনি দুলে ওঠে রঙ্গে,
বিহগের কণ্ঠে তব মধু কাকলি, মায়াময়। শতরূপে বিছাও মায়া।।

চল্‌ চল্ চল্

বাণী

চল্ চল্ চল্। চল্ চল্ চল্।
ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল
নিম্নে উতলা ধরণী-তল
অরুণ প্রাতের তরুণ দল
	চল্ রে চল্ রে চল্
		চল্ চল্ চল্।।
ঊষার দুয়ারে হানি’ আঘাত
আমরা আনিব রাঙা প্রভাত
আমরা টুটাব তিমির রাত
		বাধার বিন্ধ্যাচল।
নব নবীনের গাহিয়া গান
সজীব করিব মহাশ্মাশান
আমরা দানিব নূতন প্রাণ
		বাহুতে নবীন বল।
চল্ রে নও জোয়ান
শোন্ রে পাতিয়া কান
মৃত্যু-তোরণ-দুয়ারে-দুয়ারে
		জীবনের আহবান।
		ভাঙ্ রে ভাঙ্ আগল
		চল্ রে চল্ রে চল্
			চল্ চল্ চল্।।

ইন্দ্রজিৎ মোর নাম

বাণী

ইন্দ্রজিৎ মোর নাম, জানে দেবকুল।
নর ও বানর আজ করিব নিরমূল ॥
ঐ দেখি শ্রীরাম পাশেতে লক্ষ্মণ।
খুরপার্শ্ব অর্ধচন্দ্র, মারিব এখন

লেটো গানঃ ‘মেঘনাদ বধ’