দৃষ্টিতে আর হয় না সৃষ্টি

বাণী

দৃষ্টিতে আর হয় না সৃষ্টি আগের মত গোলাপ ফুল।
কথায় সুরে ফুল ফুটাতাম, হয় না এখন আর সে-ভুল।।
	বাসি হাসির মালা নিয়ে
	কি হবে নওরোজে গিয়ে,
চাঁদ না দেখে আঁধার রাতি বাঁধে কি গো এলোচুল।।
	আজো দখিন হাওয়ায় ফাগুন আনে
	বুল্‌বুলি নাই গুলিস্তানে,
দোলে না আর চাঁদকে দেখে’ বনে দোলন-চাঁপার দুল্‌।।
	কী হারালো! নাই কি যেন
	মন হয়েছে এমন কেন,
কোন্ নিদয়ের পরশ লেগে’ হয় না হৃদয় আর ব্যাকুল।।

ও গিন্নী বদন তোল

বাণী

ও গিন্নী বদন তোল একটু হানো নয়না।
আমি জুয়েলারীর দোকান হব গায়ে হব গয়না।।
(তোমার) সিঁথের হব সিঁথিপাটি কেশে হেয়ার পিন
চিরুনি হয়ে খোপায় বিঁধে রইব চিরদিন।
টায়রা ঝাপটা লেসপিন তাহলে মন্দ হয় না।।
টানা টিকলি কাঁটা হব ফুলের নয় গো চুলের
টাপ মাকড়ি দুল হব গো একটু বেশি ঝুলের।
কানের উপর কান হব গো নাকছাবি ঐ নাকের,
কাঁচ পোকা আর খয়েরি টিপ হব ভুরূর ফাঁকে,
নোলক বেসর তাও হব যা আজকাল লোক ছোঁয় না।।
গলার হব হার নেকলেস গজমতির মালা,
হাতে হব বাজু বন্দ, পৈঁচী চুড়ি বালা।
তাগা, কেয়ুর, রুলি, শাঁখা, জসম, আংটি, খাড়ু
তাবিজ হব নোয়া হব অনন্ত সূচারু।
ভুলে গেছি — নথ নৈলে গিন্নীর মান রয় না।।
নূপুর তোড়া হ্যাদে দেখো ভুলেই দেছি দেখি
ঝুমকো ঢেঁড়ি চিকের কথা মাদুলাও বাকি,
জাল পাটরি কি হই আর কী ফেলে রাখি
বাদ কি গেল দাও লিস্টি মুখ ভার আর সয় না।।

‘গিন্নীর কাছে গয়নার ফর্দ’

দোলে নিতি নব রূপের টেউ-পাথার

বাণী

দোলে নিতি নব রূপের টেউ-পাথার ঘনশ্যাম তোমারি নয়নে।
আমি হেরি যে নিখিল বিশ্বরূপ-সম্ভার তোমারি নয়নে॥
		তুমি পলকে ধর নাথ সংহার-বেশ
		হও পলকে করুণা-নিধান পরমেশ।
নাথ ভরা যেন বিষ অমৃতের ভান্ডার তোমার দুই নয়নে॥
		ওগো মহা-শিশু, তব খেলা-ঘরে
		একি বিরাট সৃষ্টি বিহার করে,
সংসার চক্ষে তুমিই হে নাথ, সংসার তোমারি নয়নে॥
		তুমি নিমেষে রচি নব বিশ্বছবি
		ফেল নিমেষে মুছিয়া হে মহাকবি,
করে কোটি কোটি ব্রহ্মান্ড ভুবন-সঞ্চার তোমারি নয়নে॥
		তুমি ব্যাপক ব্রহ্ম চরাচরে
		জড় জীবজন্তু নারী-নরে,
কর কমল-লোচন, তোমার রূপ বিস্তার হে আমারি নয়নে॥

বনের হরিণ বনের হরিণ

বাণী

বনের হরিণ বনের হরিণ ওরে কপট চোর।
কেমন ক’রে করলি চুরি প্রিয়ার আঁখি মোর।।
	লায়লীরে তুই দেখ্‌লি কখন
	কর্‌লি বদল তোদের নয়ন,
ওরে বন হয়েছে স্বর্গ আমার হেরি নয়ন তোর।।

নাটকঃ ‘লায়লী-মজনু’

রে অবোধ শূন্য শুধু শূন্য

বাণী

রে অবোধ!		শূন্য শুধু শূন্য ধূলো মাটির ধরা।
শূন্য ঐ		অসীম আকাশ রংবেরং-এর খিলান-করা।।
হাওয়াতে		শূন্য নিমেষ নিমেষে যার হ’য়ে শেষ।
এসেছি		পথিক এ পর-দেশ জীবন-মৃত্যু ভরা।।
হুরী আর		গানের প্রিয়া, সাথে তার শারাব নিয়া
চল ঐ		সবুজ-বিথার ঝর্না-কিনার গোলাব-ঝরা।।
এর অধিক		সুখের বিলাস স্বরগে করিসনে আশ
সে স্বরগ		নাই রে কোথাও এমন উধাও দুখ্-পসরা।।

ঢালো মদিরা মধু ঢালো

বাণী

ঢালো মদিরা মধু ঢালো, (ঢালো আরো)
মদ রঞ্জিত হোক পান্‌সে চাঁদের আলো।।
সারা দিনমান গেল বিফল কাজে,
জাগে হৃদয়ে আনন্দ তৃষ্ণা সাঁঝে।
চাহে পরান বিধুর সুরা আর সুর —
আর অনুরাগ রাঙা দু’টি নয়ন কালো।।

নাটক : ‘দেবী দুর্গা’