সেদিন ছিল কি গোধূলি

বাণী

সেদিন ছিল কি গোধূলি–লগন শুভদৃষ্টি ক্ষণ।
চেয়েছিল মোর নয়নের পানে যেদিন তব নয়ন।।
সেদিন বকুল শাখে কি গো আঙিনাতে
ডেকে উঠেছিল কুহু–কেকা এক সাথে,
অধীর নেশায় দুলে উঠেছিল মনের মহুয়া বন।।
হে প্রিয়, সেদিন আকাশ হতে কি তারা পড়েছিল ঝ’রে,
যেদিন প্রথম ডেকেছিলে তুমি মোর ডাকনাম ধ’রে।
(প্রিয়) যেদিন প্রথম ছুঁয়েছিলে ভালবেসে
আকাশে কি বাঁকা চাদ উঠেছিল হেসে,
শঙ্খ সেদিন বাজায়েছিল কি পাষাণের নারায়ণ।।

ভ্রমর-নূপুর পরিহিতা কৃষ্ণ-কুন্তলা

বাণী

ভ্রমর-নূপুর পরিহিতা কৃষ্ণ-কুন্তলা।
বলয়-কাঁকন ঝনকিতা ছন্দ-চঞ্চলা।।
মলয়-সমীর ঝিরি ঝিরি অঙ্গে গুঞ্জরে
কদম-কেশর১ ঝুরুঝুরু চম্পা মুঞ্জরে,
চটুল নয়ন চমকিত জোছনা-অঞ্চলা।।
বিধুর কোকিল-কুহরিত আম্রকুঞ্জে২ গো
রূপের পরাগ ঝরে তব পুঞ্জে পুঞ্জে গো,
নিখিল-ভুবন তব রাস-নৃত্য হিন্দোলা।।

১. আমের মুকুল, ২. কদম কুঞ্জে

আঁচলে হংস-মিথুন আঁকা

বাণী

আঁচলে হংস-মিথুন আঁকা
		বলাকা-পে’ড়ে শাড়ি দুলায়ে।
চলিছে কিশোরী শ্যামা একা
		রুমুঝুমু বাজে নূপুর মৃদু পায়ে।।
ভয়ে ভয়ে চলে আধো-আঁধারে
বিরহী বন্ধুর দূর অভিসারে,
পথ কাঁদে যেয়ো না যেয়ো না যেয়ো না ওগো
		থামো ক্ষণেক এ ঠাঁয়ে।।

কেন উচাটন মন পরান এমন করে

বাণী

কেন উচাটন মন পরান এমন করে।
কেন কাঁদে গো বধূ বঁধুর বুকে বাসরে।।
	কেন মিলন-রাতে
	সলিল আঁখি-পাতে
কেন ফাগুন-প্রাতে সহসা বাদল ঝরে।।
	ডাকিলে অনুরাগে
	কেন বিদায় মাগে,
(কেন) মরিতে সাধ জাগে — পিয়ার বুকের ’পরে।।
	ডাকিয়া ফুলবনে
	থাকে সে আন্‌মনে,
কাঁদায়ে নিরজনে — কাঁদে সে নিজের১ তরে।।
	কবি, তোরে কে কবে
	সাধিল বেণুর রবে,
ধরিতে গেলি যবে — বিঁধিল কুসুম-শরে।।

১. কিসের

কেন আসে কেন তা’রা চ’লে যায়

বাণী

কেন আসে, কেন তা’রা চ’লে যায় ক্ষণেক তরে।
কুসুম না ফুটিতে কেন ফুল-মালি
ছিঁড়িয়া সাজি ভরে, কানন ক’রে খালি,
কাঁটার স্মৃতি বেঁধে লতার বুকে, হায়, ব্যথা-ভরে।।
	ছাড়িয়া স্নেহ-নীড় সুদূর বনছায়
	বিহগ-শিশু কেন সহসা উ’ড়ে যায়,
কাঁদে জননী তা’র ঝরা পালকখানি বুকে ঘ’রে।।

এ কি অপরূপ রূপে মা তোমায়

বাণী

এ কি অপরূপ রূপে মা তোমায় হেরিনু পল্লী-জননী।
ফুলে ও ফসলে কাদা মাটি জলে ঝলমল করে লাবনি॥
রৌদ্রতপ্ত বৈশাখে তুমি চাতকের সাথে চাহ জল,
আম কাঁঠালের মধুর গন্ধে জ্যৈষ্ঠে মাতাও তরুতল।
ঝঞ্ঝার সাথে প্রান্তরে মাঠে কভু খেল ল’য়ে অশনি॥
কেতকী-কদম-যূথিকা কুসুমে বর্ষায় গাঁথ মালিকা,
পথে অবিরল ছিটাইয়া জল খেল চঞ্চলা বালিকা।
তড়াগে পুকুরে থই থই করে শ্যামল শোভার নবনী॥
শাপলা শালুক সাজাইয়া সাজি শরতে শিশির নাহিয়া,
শিউলি-ছোপানো শাড়ি পরে ফের আগামনী-গীত গাহিয়া।
অঘ্রাণে মা গো আমন ধানের সুঘ্রাণে ভরে অবনি॥
শীতের শূন্য মাঠে তুমি ফের উদাসী বাউল সাথে মা,
ভাটিয়ালি গাও মাঝিদের সাথে গো, কীর্তন শোনো রাতে মা।
ফাল্গুনে রাঙা ফুলের আবিরে রাঙাও নিখিল ধরণী॥