মহান তুমি প্রিয়

বাণী

মহান তুমি প্রিয়!
এই কথাটির গৌরবে মোর চিত্ত ভ’রে দিয়ো।।
অনেক আশায় ব’সে আছি যাত্রা শেষের পর,
তোমায় নিয়েই পথের ’পরে বাঁধবো আমার ঘর —
					হে চির-সুন্দর!
পথ-শেষে সেই তোমায় যেন করতে পারি ক্ষমা,
			হে মোর কলঙ্কিনী প্রিয়তমা!
সেদিন যেন বলতে পারি, — ‘এসো এসো প্রিয়,
বক্ষে এসো, এসো আমার পূত কমনীয়।।’
হায় হারানো লক্ষ্মী আমার! পথ ভুলেছ ব’লে
চির-সাথী যাবে তোমার মুখ ফিরিয়ে চ’লে?
জান্ ওঠে হায় মোচড় খেয়ে, চলতে পড়ি ট’লে
অনেক জ্বালায় জ্বলে’ প্রিয় অনেক ব্যথায় গলে’।
বারে বারে নানান রূপে ছ’ল্‌তে আমায় শেষে,
কলঙ্কিনী! হাতছানি দাও সকল পথে এসে,
			কুটিল হাসি হেসে।।
ব্যথায় আরো ব্যথা হানাই যে সে!
তুমি কি চাও তোমার মতই কলঙ্কী এই আমি?
এখন তুমি সুদূর হ’তে আসবে ঘরে নামি’।
হে মোর প্রিয়া হে মোর বিপথ-গামী!
পথের আজো অনেক বাকী, তাই যদি হয় প্রিয় —
পথের শেষে তোমায় পাওয়ার যোগ্য করেই নিও।।

আজি দোল্-পূর্ণিমাতে দুল্‌বি তোরা আয়

বাণী

আজি দোল্-পূর্ণিমাতে দুল্‌বি তোরা আয়।
দখিনার দোল্ লেগেছে দোলন্-চাঁপায়।।
	দোলে আজ দোল্-ফাগুনে	
	ফুল-বাণ আঁখির তূণে,
দুলে আজ বিধুর হিয়া মধুর ব্যথায়।।
দুলে আজ শিথিল বেণী, দুলে বধূর মেখলা
দুলে গো মালার পলা জড়াতে বঁধুর গলা!
	মাধবীর দোলন্-লতায়
	দোয়েলা দোল্ খেয়ে যায়,
দুলে যায় হল্‌দে পাখি সোঁদাল-শাখায়।।
বিরহ-শীর্ণা নদীর আজিকে আঁখির কূলে
ভরে জল কানায় কানায় জোয়ারে উঠ্‌ল দু’লে।
	দুলে বসন্ত-রানী
	কুসুমিতা বনানী
পলাশ রঙন দোলে নোটন-খোঁপায়।।
দোলে হিন্দোল-দোলায় ধরণী শ্যাম-পিয়ারী,
দুলিছে গ্রহ-তারা আলোক-গোপ-ঝিয়ারি।
	নীলিমার কোলে বসি’
	দুলে কলঙ্কী-শশী,
দোলে ফুল-উর্বশী ফুল-দোলায়।।

ত্রাণ কর মওলা মদিনার উম্মত তোমার

বাণী

ত্রাণ কর মওলা মদিনার, উম্মত তোমার গুনাহ্‌গার কাঁদে।
তব প্রিয় মুসলিম দুনিয়া পড়েছে আবার গুনাহের ফাঁদে।।
	নাহি কেউ ঈমানদার, নাহি নিশান-বরদার,
	মুসলিম জাহানে নাহি আর পরহেজগার,
	জামাত শামিল হতে যায় না মসজিদে,
	পড়ে নাকো কোরআন মানে না মুর্শিদে;
ভুলিয়াছে কল্‌মা শাহাদাত, পড়ে না নামাজ ঈদের চাঁদে।।
	নাহি দান খয়রাত, ভুলে মোহ ফাঁসে
	মেতে আছে সবে বিভবে বিলাসে;
	বসিয়াছে জালিম শাহী তখ্‌তে তব —
	মজলুমের এ ফরিয়াদ আর কাহে কব,
তলোয়ার নাহি আর, পায়ে গোলামীর জিঞ্জির বাঁধে।।

আমি জানি তব মন বুঝি তব ভাষা

বাণী

	আমি জানি তব মন বুঝি তব ভাষা
	তব কঠিন হিয়ার তলে জাগে কি গভীর ভালোবাসা।।
	ওগো উদাসীন! আমি জানি তব ব্যথা
	আহত পাখির বুকে বাণ বিধেঁ কোথা
	কোন অভিমান ভুলিয়াছ তুমি ভালোবাসিবার আশা।।
তুমি	কেন হানো অবহেলা অকারন আপনাকে,
প্রিয়	যে হৃদয়ে বিষ থাকে সে হৃদয়ে অমৃত থাকে।
	তব যে বুকে জাগে প্রলয় ঝড়ের জ্বালা
	আমি দেখেছি যে সেথা সজল মেঘের মালা
ওগো	ক্ষুধাতুর আমারে আহুতি দিলে
	মিটিবে কি তব পরানের পিপাসা।।

হে বিধাতা হে বিধাতা হে বিধাতা

বাণী

হে বিধাতা! হে বিধাতা! হে বিধাতা!
দুঃখ-শোক-মাঝে, তোমারি পরশ রাজে,
কাঁদায়ে জননী-প্রায়, কোলে কর পুনরায়, শান্তি-দাতা।।
ভুলিয়া যাই হে যবে সুখ-দিনে তোমারে
স্মরণ করায়ে দাও আঘাতের মাঝারে।
দুঃখের মাঝে তাই, হরি হে, তোমারে পাই দুঃখ-ত্রাতা।।
দারা-সুত-পরিজন-রূপে হরি, অনুখন
তোমার আমার মাঝে আড়াল করে সৃজন।
তুমি যবে চাহ মোরে, লও হে তোদের হ’রে
ছিঁড়ে দিয়ে মায়া-ডোর, ক্রোড়ে ধর আপন।
ভক্ত সে প্রহ্লাদ ডাকে যবে ‘নারায়ণ’,
নির্মম হয়ে তার পিতারও হর জীবন।
সব যবে ছেড়ে যায় দেখি তব বুকে হায় আসন পাতা।।

রিমি ঝিম্ রিমি ঝিম্ ঐ নামিল দেয়া

বাণী

রিমি 		ঝিম্ রিমি ঝিম্ ঐ নামিল দেয়া।
শুনি’		শিহরে কদম, বিদরে কেয়া।।
			ঝিলে শাপলা কমল
			ওই মলিল দল,
		মেঘ-অন্ধ গগন, বন্ধ খেয়া।।
		বারি-ধারে কাঁদে চারিধার
		ঘরে ঘরে রুদ্ধ দুয়ার,
		তেপান্তরে নাচে একা আলেয়া।।
কাঁদে 	চখাচখি, কাঁদে বনে কেকা
		দীপ নিভায়ে কাঁদি আমি একা,
আজ 	মনে পড়ে সেই মন দেয়া-নেয়া।।