দুলিবি কে আয় মেঘের দোলায়

বাণী

দুলিবি কে আয় মেঘের দোলায়।
কুসুম দোলে পাতার কোলে পুবালি হাওয়ায়।।
অলকা-পরী অলক খু’লে
কাজরি নাচে গগন-কূলে,
বলাকা-মালার ঝুলন ঝুলায়।।
দাদুরি বোলে, ডাহুকী ডাকে
ময়ূরী নাচে তমাল শাখে,
ময়ূর দোলে কদম-তলায়।।
তটিনী দুলে ঢেউয়ের তালে,
নিবিড় আঁধার ঝাউয়ের ডালে,
বেণুর ছায়া ঘনায় মায়া পরান ভোলায়।।

আন্ গোলাপ-পানি

বাণী

আন্ গোলাপ-পানি, আন্ আতরদানি গুলবাগে।
সহেলি গো কিছু নাহি ভালো লাগে
বেদুঈন ছেলের বাঁশি কারে ডাকে
			কেঁদে’ কেঁদে’ অনুরাগে।।
	মরুযাত্রীদের উটের সারি
	যেমন চাহে তৃষার বারি
তেমনি মম পিয়াসি পরান যেন কার —
			প্রেম-অমৃত বারি মাগে।।
চাঁদের পিয়ালাতে জোছনা-শিরাজি ঝ’রে যায়
আমারি হৃদয় কেন গো সে-মধু নাহি পায়,
হায়, হায়, বাদাম গাছের আঁধার বনে
নিঃশ্বাস ওঠে যেন বুল্‌বুলির শিসের সনে,
বিরহী মোর কোথায় কাঁদে কোন্ মদিনাতে —
ফোরাত নদীর রোদন সম বুকে ঢেউ জাগে।।

১. স্রোতের

সঙ্গীতালেখ্য : ‌‘কাফেলা’ (মরুদেশের সঙ্গীত)

ভিখারিনী করে পাঠাইলি মোরে

বাণী

	ভিখারিনী করে পাঠাইলি মোরে, (মাগো) কি দিয়ে পূজিব বল।
	হাতে আছে শুধু শূন্য প্রণাম, চোখে আছে শুধু জল।।
	পূজা ধূপ নাই, চন্দন নাই, মাগো, লাজে মরি দিতে ভয় পাই
	চুরি করে আনা দুটি জবা ফুল, একটি বিল্বদল।।
তোর	ধনী ছেলে মেয়ে ঘটা করে তোর পূজা করে কত রূপে,
মাগো	ভিখারি মেয়ের বেশে তুই কেন দাঁড়াইলি এসে, মোর কাছে চুপে চুপে
	কিছু নাই মাগো হাতে দিতে তোর, শুধু নামখানি সম্বল মোর,
যদি	চাস তুই ঐ রাঙা পায়ে দিব নামের সে শতদল।।

চৌরঙ্গী হ্যায় ইয়ে চৌরঙ্গী

বাণী

চৌরঙ্গী হ্যায় ইয়ে চৌরঙ্গী।
ইসকী দুনিয়া রং বেরংগী।।
গোরে, কালে আওবে, যাওবে
আপনি আপনি ছাব দেখলাবে,
ই ড্যগর মেঁ সব সংসার —
ইসকী দুনিয়া রঙ্গ বেরংগী।।
কিতনে আওবে রাজাবাবু
কিতনে হামসে বেকারি,
কিতনে আপনে গুলকে বন্দে
কিতনে প্রেম-পূজারী।
কোই কিসিকো রাব লাগায়ে
কোই য়া কর খুদ খো যায়ে
সিধা রাস্তা ফির হাজার
ইসকী দুনিয়া রঙ্গ বেরংগী।।

বাজল কি রে ভোরের সানাই

বাণী

বাজ্‌ল কি রে ভোরের সানাই নিদ্‌-মহলার আঁধার-পুরে
শুন্‌ছি আজান গগন-তলে আঁধার-রাতের মিনার-চূড়ে।।
সরাই-খানার্‌ যাত্রীরা কি
‘বন্ধু জাগো’ উঠ্‌ল হাঁকি’?
নীড় ছেড়ে ঐ প্রভাত-পাখি
			গুলিস্তানে চল্‌ল উড়ে’।।
তীর্থ-পথিক্‌ দেশ-বিদেশের
আর্‌ফাতে আজ জুট্‌ল কি ফের,
‘লা শরীক আল্লহু’ মন্ত্রের
			নাম্‌ল কি বান পাহাড় ‘তূরে’।।
আজকে আবার কা’বার পথে
ভিড় জমেছে প্রভাত হ’তে,
নামল কি ফের্ হাজার স্রোতে
			‘হেরার’ জ্যোতি জগৎ জুড়ে।।
আবার ‘খালেদ’ ‘তারেক’ ‘মুসা’
আনল কি খুন-রঙিন ভূষা,
আস্‌ল ছুটে’ হাসীন ঊষা
			নও-বেলালের শিঁরিন সুরে।।

পর হবে তোর আপন জনে

বাণী

পর হবে তোর আপন জনে (তুই) ভাবনা তবু করিস্‌ নে।
হয়ত তরী ডুববে জলে (তবু) তুফান দেখে ডরিস্‌ নে।।
ছেড়ে যাবে বন্ধু জ্ঞাতি
আসবে ঘিরে আঁধার রাতি,
জ্বালিয়ে পাঁজর জ্বালবে বাতি —
	মরবি তবু টলিস্‌ নে।।
তোর বেদনায় গলবে সবে
তোর আপন জনই আপন রবে,
তুই আপন পথে চল নীরবে —
	কারুর চরণ ধরিস্‌ নে।।