তুমি আমার সকাল বেলার সুর

বাণী

তুমি আমার সকাল বেলার সুর
হৃদয় অলস–উদাস–করা অশ্রু ভারাতুর।।
ভোরের তারার মত তোমার সজল চাওয়ায়,
ভালোবাসার চেয়ে সে যে কান্না পাওয়ায়
রাত্রি–শেষের চাঁদ তুমি গো বিদায়–বিধুর।।
তুমি আমার ভোরের ঝরা ফুল
শিশির–নাওয়া শুভ্র–শুচি পূজারিণীর তুল।
অরুণ তুমি, তরুণ তুমি, করুণ তারো চেয়ে
হাসির দেশে তুমি যেন বিষাদ–লোকের মেয়ে
তুমিইন্দ্র–সভার মৌন–বীণা নীরব নূপুর।।

বঁধু মিটিলনা সাধ ভালবাসিয়া

বাণী

বঁধু		মিটিলনা সাধ ভালোবাসিয়া তোমায়।
তাই		আবার বাসিতে ভালো আসিব ধরায়।।
		আবার বিরহে তব কাঁদিব
		আবার প্রণয়–ডোরে বাঁধিব,
শুধু		নিমেষেরি তরে আঁখি দুটি ভ’রে —
		তোমারে হেরিয়া ঝ’রে যাব অবেলায়।।
যে		গোধূলি–লগ্নে নববধূ হয় নারী,
সেই		গোধূলি–লগ্নে বঁধু দিল আমারে গেরুয়া শাড়ি।
বঁধু		আমার বিরহ তব গানে
		‌‌সুর হয়ে কাঁদে প্রাণে প্রাণে,
		আমি নিজে নাহি ধরা দিয়ে —
		সকলের প্রেম নিয়ে দিনু তব পায়।।

ভোরের হাওয়া এলে

বাণী

ভোরের হাওয়া এলে ঘুম ভাঙাতে কি
		চুম হেনে নয়ন-পাতে।
ঝিরি ঝিরি ধীরি ধীরি কুণ্ঠিত ভাষা
		গুণ্ঠিতারে শুনাতে॥
হিম-শিশিরে মাজি’ তনুখানি
ফুল-অঞ্জলি আন ভরি’ দুই পাণি,
ফুলে ফুলে ধরা যেন ভরা ফুলদানি
		বিশ্ব-সুষমা সভাতে॥

যায় ঢু’লে ঢু’লে এলোচুল কে বিষাদিনী

বাণী

যায় ঢু’লে ঢু’লে এলোচুল কে বিষাদিনী।
তার চোখে চেয়ে চেয়ে ম্লান হয়ে যায় গো চাঁদিনী।।
তার সোনার অঙ্গ অনাদরে হয়েছে কালি
হায় ধূলায় লুটায় নবীন যৌবন ফুলের ডালি,
কোন্ মদির আঁখির খেয়েছে তীর বন-হরিণী।।
তার চটুল চরণ নাচত যেন নোটন-কপোতী
মরুর বুকে ফুল ফোটাত তার দোদুল গতি,
আজ ধীরে সে যায় যেন শীতের মৃদুল তটিনী।।

দেখা দাও দাও দেখা ওগো দেবতা

বাণী

দেখা দাও, দাও দেখা, ওগো দেবতা।
মন্দিরে পূজারিণী আশাহতা॥
ধূপ পুড়িয়া গেছে, শুকায়েছে মালা,
বন্ধ হ’ল বা দ্বার, একা কুলবালা।
প্রভাতে জাগিবে সবে, রটিবে বারতা॥
জাগো জাগো দেবতা শূন্য দেউলে,
আরতি উঠিছে মোর বেদনার ফুলে।
বাণীহীন মন্দির, কহ কহ কথা॥

কি হবে জানিয়া বল

বাণী

কি হবে জানিয়া বল কেন জল নয়নে
তুমি তো ঘুমায়ে আছ সুখে ফুল-শয়নে।।
তুমি কি বুঝিবে বালা কুসুমে কীটের জ্বালা,
কারো গলে দোলে মালা কেহ ঝরে পবনে।।
আকাশের আঁখি ভরি’ কে জানে কেমন করি’
শিশির পড়ে গো ঝরি’, ঝরে বারি শাওনে।
নিশীথে পাপিয়া পাখি এমনি তো ওঠে ডাকি’
তেমনি ঝুরিছে আঁখি বুঝি বা অকারণে।।
কে শুধায়, আঁধার চরে চখা কেন কেঁদে মরে,
এমনি চাতক-তরে মেঘ ঝুরে গগনে।।
কারে মন দিলি কবি, এ যে রে পাষাণ-ছবি
এ শুধু রূপের রবি নিশীথের স্বপনে।।