তোর কালো রূপ দেখতে মাগো

বাণী

(মাগো)	তোর কালো রূপ দেখতে মাগো, কাল্ হ’ল মোর আঁখি,
		চোখের ফাঁকে যাস পালিয়ে মা তুই কালো পাখি॥
আমার		নয়ন দুয়ার বন্ধ ক’রে এই দেহ পিঞ্জরে,
		চঞ্চলা গো বুকের মাঝে রাখি তোরে ধ’রে;
		চোখ্ চেয়ে তাই খুঁজে বেড়াই পাই না ভুবন ভ’রে
		সাধ যায় মা জন্ম জন্ম অন্ধ হ’য়ে থাকি॥
		কালো রূপের বিজলি চমক কোটি লোকের জ্যোতি,
		অনন্ত তোর কালোতে মা সকল আলোর গতি।
		তোর কালো রূপ কে বলে মা ‘তমঃ’,
		ঐ রূপে তুই মহাকালি মাগো নমঃ নমঃ
তুই		আলোর আড়াল টেনে মাগো দিস্ না মোরে ফাঁকি॥

আজ সকালে সূর্য ওঠা সফল হলো মম

বাণী

আজ সকালে সূর্য ওঠা সফল হলো মম
ঘরে এলে ফিরে পরবাসী প্রিয়তম।।
	আজ প্রভাতের কুসুমগুলি
	সফল হলো ডালায় তুলি'
সাজির ফুলে আজ এ মালা হবে অনুপম।।
এতদিনে সুখের হলো প্রভাতী শুকতারা
ললাটে মোর সিঁদুর দিলো ঊষার রঙের ধারা।
	আজকে সকল কাজের মাঝে
	আনন্দেরই বীনা বাজে
দেবতার বর পেয়েছি আজ তপস্বিনীর সম।।

পোহাল পোহাল নিশি খোল গো আঁখি

বাণী

পোহাল পোহাল নিশি খোল গো আঁখি।
কুঞ্জ-দুয়ারে তব গাহিছে১ পাখি,
		ওই গাহিছে পাখি॥
ওই বংশী বাজে দূরে
শোন ঘুম ভাঙানো সুরে,
খোল দ্বার লহ বঁধূরে ডাকি॥২

১. ডাকিছে, ২. খুলি’ দ্বার বঁধূরে লহ গো ডাকি’॥

নাটকঃ ‘আলেয়া’ (ভোরের হাওয়ার গান)

মোর না মিটিতে আশা ভাঙিল খেলা

বাণী

মোর না মিটিতে আশা ভাঙিল খেলা,
জীবন প্রভাতে এ লো বিদায় বেলা।।
আঁচলের ফুলগুলি করুণ নয়ানে
নিরাশায় চেয়ে আছে মোর মুখপানে,
বাজিয়াছে বুকে যেন, কার অবহেলা।।
আঁধারের এলোকেশ দু’ হাতে জড়ায়ে
যেতে যেতে নিশীথিনী কাঁদে বনছায়ে।
		বুঝি দুখ-নিশি মোর
		হবে না হবে না ভোর,
ভিড়িবে না কূলে মোর বিরহের ভেলা।।

গভীর ঘুম ঘোরে স্বপনে শ্যাম-কিশোরে

বাণী

গভীর ঘুম ঘোরে স্বপনে শ্যাম-কিশোরে হেরে’ প্রেমময়ী রাধা।
রাধারে ত্যজিয়া আঁধার নিশীথে চন্দ্রার সাথে বাঁধা।(শ্যাম-চাঁদ)
যেন চাঁদের বুকে কলঙ্ক গো নির্মল শ্যাম-চাঁদের বুকে চন্দ্রা যেন কলঙ্ক গো।।
অরুণ নয়ানে মলিন বয়ানে জাগিল অভিমানিনী
(ভাবে) রাধার হৃদয় আধার যাহার সে কেন ভজে কামিনী।
শ্রীরাধার মান ভয়হীন, তাই শ্রীরাধা অভিমানিনী,
পরমশুদ্ধ প্রেম শ্রীরাধার, নির্ভয় অভিমানিনী।।
কৃষ্ণকেও সে ভয় করে না, নির্ভয় অভিমানিনী রাধা বুঝতে নারে গো
চির-সরল অমৃতময় গরল কেন হয় বুঝতে নারে গো
কাঁপে থরথর সারা কলেবর, ভাবে রাধা একি বিপরীত।
প্রেম ভিক্ষু কহে, বুঝি বুঝিবার নহে চঞ্চল শ্যামের রীত।।
বোঝা যে যায় না চঞ্চল শ্যামের রীত
অবুঝ মনের বোঝা যায় না তাতে তবু কখন সে রাধার, কখন সে চন্দ্রার।।

গীতিচিত্র: ‘অভিমানিনী’

মোহররমের চাঁদ এলো ঐ

বাণী

মোহররমের চাঁদ এলো ঐ কাঁদাতে ফের দুনিয়ায়।
ওয়া হোসেনা ওয়া হোসেনা তারি মাতম শোনা যায়।।
কাঁদিয়া জয়নাল আবেদীন বেহোশ হল কারবালায়
বেহেশ্‌তে লুটিয়ে কাঁদে আলী ও মা ফাতেমায়।।
কাশেমের ঐ লাশ লয়ে কাঁদে বিবি সাকিনা।
আস্‌গরের ঐ কচি বুকে তীর দেখে কাঁদে খোদায়।।
কাঁদে বিশ্বের মুসলিম আজি গাহে তারি মর্সিয়া।
ঝরে হাজার বছর ধরে অশ্রু তারি শোকে হায়।।