দুলে চরাচর হিন্দোল-দোলে

বাণী

দুলে চরাচর হিন্দোল-দোলে
বিশ্বরমা দোলে বিশ্বপতি-কোলে।।
গগনে রবি-শশী গ্রহ-তারা দুলে,
তড়িত-দোলনাতে মেঘ ঝুলন ঝুলে।
	বরিষা-শত-নরী
	দুলিছে মরি মরি,
	দুলে বাদল-পরী
		কেতকী-বেণী খোলে।।
নদী-মেঘলা দোলে, দোলে নটিনী ধরা,
দুলে আলোক নভ-চন্দ্রাতপ ভরা।
করিয়া জড়াজড়ি দোলে দিবস-নিশা,
দোলে বিরহ-বারি, দোলে মিলন-তৃষা।
	উমারে লয়ে বু’কে
	শিব দুলিছে সুখে,
	দোলে অপরূপ
		রূপ-লহর তোলে।।

কেন ফোটে কেন কুসুম ঝ'রে যায়

বাণী

কেন ফোটে কেন কুসুম ঝ'রে যায়!
মুখের হাসি চোখের জলে ম'রে যায়, হায়।।
নিশীথে যে কাঁদিল প্রিয় ব'লে
হায় নিশি-ভোরে সে কেন হায় স'রে যায়।।
হায় আজ যাহার প্রেম করে গো রাজাধিরাজ
কাল কেন সে চির-কাঙাল ক'রে যায়।।
মান-অভিমান খেলার ছলে
ফেরে না আর যে যায় চ'লে
মিলন-মালা মলিন ধূলায় ভ'রে যায়।।

মা খড়গ নিয়ে মাতিস রণে

বাণী

(মা)		খড়গ নিয়ে মাতিস রণে নয়ন দিয়ে বহে ধারা (মা)
(এমন)	একাধারে নিষ্ঠুরতা কৃপা তোরই সাজে তারা।।
			তোর করে অসুর-মুন্ডরাশি
			অধরে না ধরে হাসি
		জানিস্ মরলে তোর আঘাতে তোরই কোলে যাবে তারা।।
		মা দুই হাতে তোর বর ও অভয় আর দু’হাতে মুন্ড অসি,
		ললাটে তোর পূর্ণিমা-চাঁদ, কেশে কৃষ্ণা চতুর্দ্দশী।
			জননী-প্রায় আঘাত করে
			দিস্ মা দোলা বক্ষে ধ’রে
		পাপ-মুক্ত করার ছলে অসুর বধিস ভব-তারা।।

মঞ্জু মধু ছন্দা নিত্যা তব সঙ্গী

বাণী

মঞ্জু মধু ছন্দা নিত্যা তব সঙ্গী।
সিন্ধুর তরঙ্গ নৃত্যের কুরঙ্গী।।
গুঞ্জা বেলা পদ্ম পুঞ্জীভূত বক্ষে
অশ্রু-লাজ কুণ্ঠা শঙ্কা-ঘন চক্ষে,
অঙ্গে শ্যামাকান্তা! মন্দাকিনী-ভঙ্গী।।
অঙ্গুলিতে বন্দী অঙ্গুরিত ছন্দ
কণ্ঠে সুর-লক্ষ্মী বৃন্দাবনানন্দ,
গঙ্গা এলে বক্ষে সন্ধ্যারাগে রঙ্গী।।

তুমি বিরাজ কোথা হে উৎসব দেবতা

বাণী

তুমি বিরাজ কোথা হে উৎসব দেবতা
মম গৃহ অঙ্গনে এসো সঙ্গী হয়ে আনো আনন্দ বারতা॥
		পূজা সম্ভারে প্রসন্ন দৃষ্টি হানো
		শুভ শঙ্খ বাজাও দশদিক জাগানো
হে মঙ্গলময়! আসি’ অভয় দানো আনো প্রভাত আকাশ সম নির্মলতা॥
		লহ বিহগের গীতি অভিনন্দন
		চাঁদের থালিকা হতে গোপীচন্দন
আনন্দ অমরার নন্দন হে প্রণত কর চরণে কহ কথা কহ কথা॥

চল জয়যাত্রায় চল

বাণী

চল জয়যাত্রায় চল বাসন্তী-বাহিনী
চল রচিতে বুকে বুকে নব প্রেম-কাহিনী।।
যথা উদাসীন পুরুষ তপস্যা-মগ্ন
জাগো সেথা সুরত রতি অতি লগ্ন —
যার বাসনা ফুরায় মনে — চলো তার তপোবনে
		চল কামনার কামিনী।।

নাটক : ‘হরপার্বতী’