বৃথা তুই কাহার 'পরে করিস অভিমান

বাণী

বৃথা তুই কাহার পরে করিস অভিমান
পাষাণ-প্রতিমা সে যে হৃদয় পাষাণ।।
রূপসীর নয়নে জল নয়ন-শোভার তরে
ও শুধু মেঘের লীলা নভে যে বাদল ঝরে।
চাতকেরই তরে তাহার কাঁদে না পরান।।
প্রণয়ের স্বপন-মায়া,ধরিতে মিলায় কায়া
গো-ধূলির রঙের খেলা ক্ষণে অবসান।।

আল্লাহ্‌ রসুল জপের গুণে

বাণী

	আল্লাহ্‌ রসুল জপের গুণে কি হ'ল দেখ চেয়ে —
সদা	ঈদের দিনের খুশিতে তোর পরাণ আছে ছেয়ে।।
		আল্লাহ্‌র রহমত ঝরে
		ঘরে বাইরে তোর উপরে,
	আল্লাহ্‌ রসুল হয়েছেন তোর জীবন-তরীর নেয়ে।।
	দুখে সুখে সমান খুশি নাই ভাবনা ভয়,
তুই	দুনিয়াদারী করিস তবু আল্লাহ্‌তে মন রয়।
		মরণকে আর ভয় নাই তোর,
		খোদার প্রেমে পরাণ বিভোর,
	তিনি দেখেন তোর সংসার, তোরই ছেলেমেয়ে।।

তোমার কথার পারাবতগুলি

বাণী

তোমার কথার পারাবতগুলি আকাশে উড়িয়া যায়।
অঞ্চল মেলি’ চঞ্চল মন তাহারে ধরিতে চায়।।
	ব্যাকুল বক্ষে কোন্‌ তরুণীর
	উহারা কি কভু বাঁধিবে না নীড়?
(ওরা) শূন্য মনের কথা কি গো তাই শূন্যে মিলায় হায়।।
গানের আড়ালে ওগো ও-সুরের দেবতা কেন এ লুকিয়ে রাখা,
কেন কামনার কপোতগুলি ছড়াও দিগ্বিদিকে পরায়ে সুরের পাখা!
	যে বুকে জাগে এ সুর, এত কথা
	সারা বিশ্বের বিরহের ব্যথা,
বল বল সেথা একটি হৃদয় ঠাঁই কেন নাহি পায়।।

গীতি-আলেখ্য : ‘আকাশবাণী’

১. ভবনে বসিয়া উন্মুখ মন তাহারে ধরিতে চায়, ২. কবি, ৩. থাকা

এ ঘনঘোর রাতে

বাণী

এ ঘনঘোর রাতে
ঝুলন দোলায় দুলিবে মম সাথে।।
এসো নব জলধর শ্যামল সুন্দর
জড়ায়ে রাধার অঙ্গ বাঁশরি লয়ে হাতে।।

দুর্গম গিরি কান্তার মরু

বাণী

দুর্গম গিরি, কান্তার–মরু, দুস্তর পারাবার হে!
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশীথে, যাত্রীরা হুঁশিয়ার।।
দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, ভুলিতেছে মাঝি পথ —

ছিঁড়িয়াছে পাল কে ধরিবে হাল, কার আছে হিম্মত।
কে আছো জোয়ান, হও আগুয়ান, হাঁকিছে ভবিষ্যত,
এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার।।
তিমির রাত্রি, মাতৃ–মন্ত্রী সান্ত্রীরা সাবধান!
যুগ-যুগান্ত সঞ্চিত ব্যথা ঘোষিয়াছে অভিযান।
ফেনাইয়া ওঠে বঞ্চিত বুকে পুঞ্জিত অভিমান,
ইহাদেরে পথে নিতে হবে সাথে, দিতে হবে অধিকার।।
অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া, জানে না সন্তরণ,
কান্ডারী, আজি দেখিব তোমার মাতৃ–মুক্তি–পণ।
’হিন্দু না ওরা মুসলিম’– ওই জিজ্ঞাসে কোন্‌ জন,
কান্ডারী, বল, ডুবিছে মানুষ সন্তান মোর মা’র।।
গিরি–সংকট, ভীরু যাত্রীরা, গরজায় গুরু বাজ —

পশ্চাৎ পথ যাত্রীর মনে সন্দেহ জাগে আজ।
কান্ডারী, তুমি ভুলিবে কি পথ? ত্যজিবে কি পথ মাঝ?
করে হানাহানি, তবু চল টানি’– নিয়েছ যে মহাভার।।
ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গান —

আসি’ অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা, দিবে কোন্ বলিদান!
আজি পরীক্ষা জাতির অথবা জাতেরে করিবে ত্রাণ,
দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, কান্ডারী হুঁশিয়ার।।

ভোরে ঝিলের জলে শালুক-পদ্ম

বাণী

ভোরে ঝিলের জলে শালুক-পদ্ম তোলে কে
		ভ্রমর-কুন্তলা কিশোরী
ফুল দেখে বেভুল সিনান বিসরি’।।
একি নূতন লীলা আঁখিতে দেখি ভুল
কমল ফুল যেন তোলে কমল ফুল
ভাসায়ে আকাশ-গাঙে অরুণ-গাগরি।।
ঝিলের নিথর জলে আবেশে ঢল ঢল
গ’লে পড়ে শত সে তরঙ্গে,
শারদ-আকাশে দলে দলে আসে
মেঘ, বলাকার খেলিতে সঙ্গে।
আলোক-মঞ্জরি প্রভাত বেলা
বিকশি’ জলে কি গো করিছে খেলা
বুকের আঁচলে ফুল উঠিছে শিহরি’।।