কাল কাল ক’রে গেল কতকাল

বাণী

কাল কাল ক’রে গেল কতকাল কালের নাহিক শেষ।
কাল যাই যথা বন্ধু রে ল’য়ে যাব আমি সেই দেশ।।

নাটক : ‘বিষ্ণুপ্রিয়া’

জাগো অরুণ ভৈরব জাগো

বাণী

জাগো অরুণ ভৈরব জাগো হে শিব-ধ্যানী।
শোনাও তিমির-ভীত-বিশ্বে নব দিনের বাণী।।
	তোমার তপঃ-তেজে, শিব
	দগ্ধ বুঝি হয় ত্রিদিব,
শরণাগত চরণে তব — হের নিখিল প্রাণী।।
ধ্যান হোক অঙ্গ তব শক্তি ল’য়ে সঙ্গে,
সৃষ্টির আনন্দে, হর, লীলা কর রঙ্গে।
	ললাটের বহ্নি ঢাকো
	শশী-লেখার তিলক আঁকো,
ফণি হোক মণিহার, হে পিনাক-পাণি।।

বঁধু মিটিলনা সাধ ভালবাসিয়া

বাণী

বঁধু		মিটিলনা সাধ ভালোবাসিয়া তোমায়।
তাই		আবার বাসিতে ভালো আসিব ধরায়।।
		আবার বিরহে তব কাঁদিব
		আবার প্রণয়–ডোরে বাঁধিব,
শুধু		নিমেষেরি তরে আঁখি দুটি ভ’রে —
		তোমারে হেরিয়া ঝ’রে যাব অবেলায়।।
যে		গোধূলি–লগ্নে নববধূ হয় নারী,
সেই		গোধূলি–লগ্নে বঁধু দিল আমারে গেরুয়া শাড়ি।
বঁধু		আমার বিরহ তব গানে
		‌‌সুর হয়ে কাঁদে প্রাণে প্রাণে,
		আমি নিজে নাহি ধরা দিয়ে —
		সকলের প্রেম নিয়ে দিনু তব পায়।।

মৃত্যু-আহত দয়িতের তব শোনো

বাণী

মৃত্যু-আহত দয়িতের তব শোনো করুণ মিনতি।
অমৃতময়ী মৃত্যুঞ্জয়ী হে সাবিত্রী সতী।।
	ঘন অরণ্যে বাজে মোর স্বর
	মোরি রোদনে উঠিয়াছে ঝড়,
সাঁঝের চিতায় ঐ নিভে যায়, মম নয়নের জ্যোতি
			হে সাবিত্রী সতী!
যুগে যুগে তুমি বাঁচায়েছ মোরে মৃত্যুর হাত হতে
			দেবী সাবিত্রী সতী!
মোরি হাত ধ’রে রাজপুরী ছেড়ে চলেছ বনের পথে
			বিধবা অশ্রুমতী!
	জীবনের তৃষা মেটেনি আমার
	তুমি এসে মোরে বাঁচাও আবার,
মৃত্যু তোমারে করিবে প্রণাম, ধরার অরুন্ধতি
			হে সাবিত্রী সতী!

রিমি ঝিম্ রিমি ঝিম্ ঐ নামিল দেয়া

বাণী

রিমি 		ঝিম্ রিমি ঝিম্ ঐ নামিল দেয়া।
শুনি’		শিহরে কদম, বিদরে কেয়া।।
			ঝিলে শাপলা কমল
			ওই মলিল দল,
		মেঘ-অন্ধ গগন, বন্ধ খেয়া।।
		বারি-ধারে কাঁদে চারিধার
		ঘরে ঘরে রুদ্ধ দুয়ার,
		তেপান্তরে নাচে একা আলেয়া।।
কাঁদে 	চখাচখি, কাঁদে বনে কেকা
		দীপ নিভায়ে কাঁদি আমি একা,
আজ 	মনে পড়ে সেই মন দেয়া-নেয়া।।

চুড়ি কিঙ্কিনী রিনি রিন ঝিনি বীণ বাজায়ে চলে

বাণী

চুড়ি কিঙ্কিনী রিনি রিন ঝিনি বীণ বাজায়ে চলে
শুনি নদীর নীল জলে জোয়ার উথলে।।
বাজে পায়ে পাঁইজোর ঘুঙুর ঝুমুর ঝুমুর
গাহে পাপিয়া পিয়া পিয়া শুনি সে সুর
শত পরান হতে চায় ঐ চরণে নূপুর
হৃদি হতে চায় চাবি তাহার আঁচলে।।
পথিকে বধিতে কি নদীতে সে জলকে যায়
ছল চল বলি তাহার কলসিতে জল ছ’লকে যায়
কাজল-ঘন চোখে বিজলি জ্বালা ঝলকে যায়
মন-পতঙ্গ ধায় ঐ আঁখির অনলে
শুনি নদীর নীল জলে জোয়ার উথলে।।