এসো আনন্দিতা ত্রিলোক-বন্দিতা

বাণী

এসো আনন্দিতা ত্রিলোক-বন্দিতা কর দীপান্বিতা আঁধার অবনি মা।
ব্যাপিয়া চরাচর শারদ অম্বর ছড়াও অভয় হাসির লাবনি মা।।
	সারাটি বরষ নিখিল ব্যথিত
	চাহিয়া আছে মা তব আসা-পথ,
ধরার সন্তানে ধর তব কোলে ভুলাও দুঃখ-শোক চির-করুণাময়ী মা।।
	অটুট স্বাস্থ্য দীর্ঘ পরমায়ু
	দাও আরো আলো নির্মল বায়ু,
দশ হাতে তব আনো মা কল্যাণ পীড়িত-চিত গাহে অকাল জাগরণী মা।।

হে মোহাম্মদ এসো এসো

বাণী

হে মোহাম্মদ এসো এসো আমার প্রাণে আমার মনে।
এসো সুখে এসো দুখে আমার বুকে মোর নয়নে।।
আমার দিনের সকল কাজে
যেন তোমার স্মৃতি বাজে,
এসো আমার ঘুমের মাঝে —
	এসো আমার জাগরণে।।
কোরান দিলে, দিলে ঈমান, বেহেশ্‌তের দিশা দিলে,
পাপে তাপে মগ্ন আমায় খোদার রাহে ডেকে নিলে।
	তোমায় আমি ভুলব কিসে
	আছ আমার রুহে মিশে,
আমি তোমার প্রেমের পাগল রেখো আমায় ঐ চরণে।।

এসো চির-জনমের সাথি

বাণী

এসো চির-জনমের সাথি।
তোমারে খুঁজেছি দূর আকাশে জ্বালায়ে চাঁদের বাতি।।
	খুঁজেছি প্রভাতে গোধূলি-লগনে
	মেঘ হয়ে আমি খুঁজেছি গগনে,
ঢেকেছে ধরণী আমার কাঁদনে অসীম তিমির রাতি।।
ফুল হয়ে আছে লতায় জড়ায়ে মোর অশ্রুর স্মৃতি,
বেণু বনে বাজে বাদল-নিশীথে আমারি করুণ-গীতি।
	শত জনমের মুকুল ঝরায়ে
	ধরা দিতে এলে আজি মধু-বায়ে,
ব’সে আছি আশা-বকুলের ছায়ে বরণের মালা গাঁথি’।।

শ্যামা বড় লাজুক মেয়ে

বাণী

	শ্যামা বড় লাজুক মেয়ে কেবলই সে লুকাতে চায়।
	আলো-আঁধার পর্দা টেনে বালিকা সে পালিয়ে বেড়ায়।।
		নিখিল ভুবন আছে তারে ঘিরে
		আমার মেয়ে তবু বসন খুঁজে ফিরে,
	তারে যে দেখে সে এক নিমেষে তারি মাঝে লয় হয়ে যায়।।
	তাই কেবলি সে লুকাতে চায়।।
	কোটি শিব ব্রহ্মা হরি অনন্তকাল গভীর ধ্যানে,
তার	সে লুকোচুরি খেলায় পায় না দিশা পায় না মনে।
		রবি শশী গ্রহতারার ফাঁকে
		যে দেখেছে পালিয়ে যেতে মাকে,
(সে)	আপনাকে আর পায় না খুঁজে মায়াবিনীর মহামায়ায়।।

দুপুর বেলাতে একলা পথে

বাণী

দুপুর বেলাতে একলা পথে,
	ও কে হেলিয়া দুলিয়া চলিয়া যায়।
ক্ষ্যাপা হাওয়াতে উড়িছে আঁচলা,
খোঁপা খুলিয়া খুলিয়া খুলিয়া যায়।।
	ছল ক’রে জল যায় সে আনিতে
	দেখিয়া গুরুজন ঘোমটা দিতে,
ও সে ভুলিয়া ভুলিয়া ভুলিয়া ভুলিয়া যায়।।
	কাহার গলার মালার তরে
	আপন মনে আঁচল ভ’রে,
ফুল তুলিয়া তুলিয়া তুলিয়া তুলিয়া যায়।।
	কার বিরহে পরান দহে
	কিসের নেশায় মদির মোহে,
ও সে ঢুলিয়া ঢুলিয়া ঢুলিয়া ঢুলিয়া যায়।।

সন্ধ্যার গোধূলি রঙে নাহিয়া

বাণী

সন্ধ্যার গোধূলি রঙে নাহিয়া।
কে এলে কাহারে চাহিয়া।।
মধুর লগনে অপরূপ বেশে
কেন দাঁড়ালে মম দ্বারে এসে,
দিনের শেষে ঝরা ফুলের দেশে —
	আসিলে চাঁদের তরণী বাহিয়া।।
অস্ত রবির রঙ ল’য়ে কোন্‌ যাদুকর
নিরমিল তোমার মূরতি মনোহর,
মনের পদ্ম-বনে বাণীর মধুকর —
	‘সুন্দর! সুন্দর!’ — ওঠে গাহিয়া।।