চুম্বক পাথর হায় লোহারে দেয়

বাণী

চুম্বক পাথর হায় লোহারে দেয় গালি,
আমার গায়ে ঢ’লে প’ড়ে কুলে দিলে কালি।।
	লোহা বলে, হায় পাষাণী
	তুমিই লহ বুকে টানি’,
(কেন) সোনা-রূপা ফেলে দিয়ে আমায় টান খালি।।
চুম্বক আর লোহায় চলে দ্বন্দ্ব সারা বেলা,
কে’দে মরে, বুঝতে নারে (এ) কোন্ নিঠুরের খেলা।
	হঠাৎ তাদের দৃষ্টি গেল খুলে
	ঊর্দ্ধ পানে চায় নয়ন তুলে,
(দেখে) খেলেন তাদের নিয়ে রস-শেখর বনমালি।।

এই দেশ কার তোর নহে আর

বাণী

এই দেশ কার? তোর নহে আর, রে মূঢ় সন্তান! ভারত-মাতার।
দেবতার দেশে আজ দৈত্য করে বিরাজ, মন্দির আজি বন্দীর কারাগার।।
লাজ নাহি তার, যার জননী দাসী
দাসের শিকল প’রে (কেমনে নিলাজ) বেড়াস্ হাসি’?
	অসম্মানের প্রাণ
	ক’রে দে রে অবসান,
মানুষের মত ম’রে বাঁচ রে আবার।।

বহু পথে বৃথা ফিরিয়াছি প্রভু

বাণী

বহু পথে বৃথা ফিরিয়াছি প্রভু হইব না আর পথহারা
বন্ধু স্বজন সব ছেড়ে যায় তুমি একা জাগো ধ্রুবতারা।।
	মায়ারূপী হায় কত স্নেহ-নদী,
	জড়াইয়া মোরে ছিল নিরবধি,
সব ছেড়ে গেল, হারাইনু যদি তুমি এসো প্রাণে প্রেমধারা।।
ভ্রান্ত পথের শ্রান্ত পথিক লুটায় তোমার মন্দিরে,
প্রভু আরো যদি কিছু আছে মোর প্রিয় লও বাঁচায়ে বন্দীরে।
	ডাকি' লও মোরে মুক্ত আলোকে
	তব আনন্দ-নন্দন-লোকে,
শান্ত হোক এ ক্রন্দন, আর সহে না এ বন্ধন-কারা।।

গুঞ্জা মালা গলে কুঞ্জে এসো হে কালা

বাণী

গুঞ্জা মালা গলে কুঞ্জে এসো হে কালা
বনমালী এসো দুলায়ে বনমালা॥
তব পথে বকুল ঝরিছে উতল বায়ে
দলিয়া যাবে বলে অকরুণ রাঙা পায়ে
রচেছি আসন তরুণ তমাল ছায়ে
পলাশ শিমুলে রাঙা প্রদীপ জ্বালা॥
ময়ূরে নাচাও তুমি তোমারি নূপুর তালে
বেঁধেছি ঝুলনিয়া ফুলেল কদম ডালে
তোম বিনা বনমালী বিফল এ ফুল দোল
বাঁশি বাজাবে কবে উতলা ব্রজবালা॥

এলো ফুলের মহলে ভ্রমরা

বাণী

এলো ফুলের মহলে ভ্রমরা গুন্‌গুনিয়ে।
ও-সে কুঁড়ির কানে কানে কি কথা যায় শুনিয়ে।।
জামের ডালে কোকিল কোতুহলে
আড়ি পাতি’ ডাকে কূ কূ ব’লে,
হাওয়ায় ঝরা পাতার নূপুর বাজে রুন্‌ঝুনিয়ে।।
‘ধীরে সখা ধীরে’ কয় লতা দু’লে,
জাগিও না কুঁড়িয়ে কাঁচা ঘুমে তুলে,
গেয়ো না গুন্ গুন্ গুন্ গুন্ গুন্ গুন্ সুরে প্রেমে ঢুলে ঢুলে।’
নিলাজ ভোম্‌রা বলে, ‘না-না-না-না’, ফুল দুলিয়ে।।

সন্ধ্যা হলো ঘরকে চলো ও ভাই মাঠের চাষি

বাণী

	সন্ধ্যা হলো ঘরকে চলো, ও ভাই মাঠের চাষি
	ভাটিয়ালি সুরে বাজে রাখাল ছেলের বাঁশি।।
	পিদিম নিয়ে একলা জাগে একলা ঘরের বধূ
	হৃদয়-পাতে লুকিয়ে রেখে সারা দিনের মধু;
	পথ চেয়ে সে বসে আছে কাজ হয়েছে বাসি রে তার
		কাজ হয়েছে বাসি।
(যে)	মন সারাদিন ছিল পড়ে হালের গরুর পানে,
	দিনের শেষে ঘরের জরু সেই মনকে টানে
	সেথা মেটে ঘরের দাওয়ায় লুটায় রে
	মেটে ঘরের দাওয়ায় লুটায় কালো চোখের হাসি রে ভাই
		কালো চোখের হাসি।
	পুবান হাওয়া ঢেউ দিয়ে যায় আউশ ধানের ক্ষেতে,
	এই ফসলের দেখব স্বপন শুয়ে শুয়ে রেতে;
		ও ভাই শুয়ে শুয়ে রেতে
	সকাল বেলা আবার যেন মাঠে ফিরে আসি রে
		এই মাঠে ফিরে আসি।।