মাগো আমি তান্ত্রিক নই

বাণী

মাগো আমি তান্ত্রিক নই তন্ত্র মন্ত্র জানি না মা।
আমার মন্ত্র যোগ-সাধনা ডাকি শুধু শ্যামা শ্যামা।।
	যাই না আমি শ্মশান মশান
	দিই না পায়ে জীব বলিদান,
খুঁজতে তোকে খুজি না মা অমাবস্যা ঘোর ত্রিযামা।।
ঝিল্লী যেমন নিশীথ রাতে একটানা সুর গায় অবিরাম
তেমনি করে নিত্য আমি জপি শ্যামা তোমারি নাম।
	শিশু যেমন অনায়াসে
	জননীরে ভালোবাসে,
তেমনি সহজ সাধনা মোর তাতেই পাব তোর দেখা মা।।

রঙ্গিলা আপনি রাধা

বাণী

রঙ্গিলা আপনি রাধা তারে হোরির রঙ দিও না
ফাগুনের রাণীরে শ্যাম আর ফাগে রাঙিয়ো না।।
	রাঙা আবির রাঙ্গা ঠোঁটে
	গালে ফাগের লালী ফোটে
রঙ সায়রে নেয়ে উঠে অঙ্গে ঝরে রঙের সোনা।।
	অনুরাগ –রাঙা মনে
	রঙের খেলা ক্ষণে ক্ষণে
অন্তরে যার রঙের লীলা তারে বাহিরে রঙ লাগিয়ো না।।

ও-রে শাদা মেঘ

বাণী

ও-রে শাদা মেঘ! তোর পাখা নাই তবু কেমনে
ভাসিয়া বেড়াস্ শান্ত শারদ-গগনে।।
	আমি তোর মত লঘু হ’ব
	আমি ধূলির ঊর্দ্ধে রব,
আমি দেখিয়া গৌরী-শঙ্কর-শোভা গলিয়া পড়িব চরণে।।
আমি নিশির কপোলে শিশিরের স্বেদ হেরিব,
আমি রংধনু হ’য়ে চাঁদের চাহনি ঘেরিব।
	সে কি নিশীথে বাঁশিতে ডাকে তাই
	সে কি জানে, মেঘ হতে কেন চাই,
যদি আমার বুকে দামিনী পায় — সে নবীন নীরদ-বরণে।।

ওরে ভবের তাঁতি

বাণী

ওরে ভবের তাঁতি! হরিনামের এঁড়ে গরু কিনিস্‌নে।
তুই মূলে শেষে হাবাত্ হবি ঠাকুরকে তুই চিনিস্‌নে।
		রসিক ঠাকুরকে তুই চিনিস্‌নে।।
তুই খাচ্ছিস্ বেশ ভবের তাঁত বু’নে
চালিয়ে মাকু, ঘুরিয়ে টাকু, তাঁতের গান শু’নে
(ও তুই) সুখে খাবি আয়েশ পাবি
ঐ গরু কেনার টাকাতে তুই জরু আনার জিনিসনে।।
পরমার্থের কিনলে এঁড়ে, অর্থ যাবে ছেড়ে
তোর ঘাড়েরই লাঙল তোকে শেষে আসবে তেড়ে!
কুল যাবে তোর, যাবে জাতি মান
(এই গো-কুলের এঁড়ে এনে) যাবে জাতি মান,
দুঃখ অভাব শোক এসে তোর ধরবে রে দুই কান
শেষে কি কান খোয়াবি কানা হবি ভ’জে কানাই শ্রীকৃষ্ণে।।

কেন নিশি কাটালি অভিমানে

বাণী

কেন নিশি কাটালি অভিমানে।
ডুবে গেল চাঁদ দূর বিমানে।।
মান-ভরে চাতকী এ বাদলে
মিটালি না পিয়াসা মেঘ-জলে,
কোথা রবে এ মেঘে কেবা জানে।।
রহে চাঁদ দূরে অমা নিশীথে
তবু ফোটে কুমুদী সরসীতে,
রহে চাহি’ কলঙ্কী শশী-পানে।।
যে ফাগুনে ফুল ফুটিল রাতে
রবে না সে-ফাগুন কালি প্রাতে,
যে ফুটিল না, সে শুকাবে বাগানে।।

আজি এ বাদল দিনে

বাণী

আজি এ বাদল দিনে কত কথা মনে পড়ে।
হারাইয়া গেছে পিয়া এমনি বাদল-ঝড়ে।।
	আমারি এ বুকে থাকি’
	ঘুমাত সে ভীরু পাখি,
জলদ উঠিলে ডাকি’ লুকাত বুকের ’পরে।।
মোর বুকে মুখ রাখি নিবিড় তিমির কাঁদে,
আমার প্রিয়ার মত বাঁধিয়া বাহুর বাঁধে।
	কোথায় কাহার বুকে
	আজি সে ঘুমায় সুখে,
প্রদীপ নিভায়ে কাঁদি একা ঘরে তারি তরে।।