আবির-রাঙা আভীরা নারী সনে

বাণী

আবির-রাঙা আভীরা নারী সনে কৃষ্ণ কানাই খেলে হোলি।
হোরির মাতনে চুড়ি ও কাঁকনে উঠিছে কল-কাকলি।।
শ্যামল তনু হ’ল রাঙা আবিরে রেঙে,
ইন্দ্রধনু-ছটা যেন কাজল মেঘে,
				রাঙিল রঙে নীল চোলি।।
লহু লহু হাসে মুহু মুহু ভাসে রাঙা কুঙ্কুম ফাগের রাগে,
দোঁহে দুহু ধরি’ মারে পিচকারি চাঁদ-মুখে কলঙ্ক জাগে।
অঙ্গে অপাঙ্গে অনঙ্গ-রঙ্গিমা ইঙ্গিতে উঠিছে উছলি’।।

ইরানের বুলবুলি কি এলে

বাণী

ইরানের বুলবুলি কি এলে পথ ভুলে
গোলাপের স্বপ্ন ল’য়ে সিন্ধু নদী-কূলে।
চন্দনের গন্ধে কবি মিশালে হেনার সুরভি
তোমার গানে মরুভূমির দীর্ঘশ্বাস দুলে।।
কোন সাকির আঁখির করুণা নাহি পেয়ে
মরুচারী হে বিরহী, এলে মেঘের দেশে ধেয়ে।
	হেথা 	কাজল আঁখি নিরখি’
		তৃষ্ণা তব জুড়াল কি,
লালা ফুলের বেদনা ভুলিবে কি পলাশ ফুলে।।

ভোলো প্রিয় ভোলো ভোলো আমার স্মৃতি

বাণী

	ভোলো প্রিয় ভোলো ভোলো আমার স্মৃতি।
	তোরণ-দ্বারে বাজে করুণ বিদায়-গীতি।।
তুমি	ভুল ক’রে এসেছিলে ভুলে ভালবেসেছিলে,
	ভুলের খেলা ভুলের মেলা তাই প্রিয় ভেঙে দিলে।
	ঝরা ফুলে হের ঝুরে কানন-বীথি।।
	তব সুখ-দিনে তব হাসির মাঝে অশ্রু মম
	রবির দাহে শিশির সম শুকাইবে প্রিয়তম,
	হাসিবে তব নিশীথে নব চাঁদের তিথি।।
	ফোটে ফুল যায় ঝ’রে গহন বনে অনাদরে
	গোপনে মোর প্রেম-কুসুম তেমনি গেল গো মরে,
	আমার তরে কাঁটার ব্যথা কাঁদুক নিতি।।

কেন নিশি কাটালি অভিমানে

বাণী

কেন নিশি কাটালি অভিমানে।
ডুবে গেল চাঁদ দূর বিমানে।।
মান-ভরে চাতকী এ বাদলে
মিটালি না পিয়াসা মেঘ-জলে,
কোথা রবে এ মেঘে কেবা জানে।।
রহে চাঁদ দূরে অমা নিশীথে
তবু ফোটে কুমুদী সরসীতে,
রহে চাহি’ কলঙ্কী শশী-পানে।।
যে ফাগুনে ফুল ফুটিল রাতে
রবে না সে-ফাগুন কালি প্রাতে,
যে ফুটিল না, সে শুকাবে বাগানে।।

আজ উদার আকাশে ছুটির

বাণী

আজ উদার আকাশে ছুটির শঙ্খ-ঘণ্টা বাজায় কে।
প্রবাসীর মন উচাটন, শোনে — ‘দীপ জ্বাল্, উলু দে’।।
	আর মন লাগে নাকো কাজে,
	শ্রবণের কাছে চুড়ি-কঙ্কণ বাজে।
এলোমেলো বায়ে এলো, কবরীর সৌরভ এলো যে।।
কোথা আনন্দ-নন্দিনী কার চন্দন বুঝি ঘষে;
মন মেতে ওঠে মৌমাছি-সম, নন্দন-মধু রসে।
	তৃতীয়া চাঁদের রসকলি পরি’
	বৈষ্ণবী সেজে এলো বিভাবরী;
বাউল-হৃদয়! চল্ রে বাহিরে, হাতে একতারা নে।।

এসো বঁধূ ফিরে এসো

বাণী

এসো বঁধূ ফিরে এসো, ভোলো ভোলো অভিমান।
দিব ও-চরণে ডারি’ মোর তনু মন প্রাণ।।
	জানি আমি অপরাধী
	তাই দিবানিশি কাঁদি’,
নিমেষের অপরাধের কবে হবে অবসান।।
	ফিরে গেলে দ্বারে আসি’
	বাসি কিনা ভালোবাসি,
কাঁদে আজ তব দাসী — তুমি তার হৃদে ধ্যান।।
	সে-দিন বালিকা-বধূ
	শরমে মরম-মধু
পি’য়াতে পারিনি বঁধূ — আজ এসে কর পান।।
	ফিরিয়া আসিয়া হেথা
	দিও দুখ দিও ব্যথা,
সহে না এ নীরবতা — হে দেবতা পাষান।।