দে গরুর গা ধুইয়ে

বাণী

দে গরুর গা ধুইয়ে –
নিয়ে ষন্ডা মার্কা গিন্নি গন্ডা তিনেক আন্ডা বাচ্চা
ঠান্ডা মেরে গেছি দাদা তোমরা ভাব আজি আচ্ছা
আমি থাকি বাছুর ধরে খায় অন্যে গাই দুইয়ে।
দে গরুর গা ধুইয়ে –
নিতি নূতন পুষ্যি (গজায়) যেন গোদের উপর গ্যাঁজ
যেন দুম্বা ভেড়ার ন্যাজ বাবা
(ঘরে) হাঁড়িতে ইঁদুর ডন ফেলে আর বাহিরে রসুন প্যাঁজ
ভাই হোটেলে রসুন প্যাঁজ
চুটকে আমায় চাটনী করলে সিক্‌নি ঝরে নাক চুইয়ে।
দে গরুর গা ধুইয়ে –
খামচা খামচি করে নিতুই এ সংসারের সাথে
নুন ছাল উঠে গেল প্রাণের মাথা হল আলু ভাতে
করাত চেরা করে বরাত আমার উপর চিৎ শুইয়ে।
দে গরুর গা ধুইয়ে –
পাছড়ে ফেলে স্ত্রী পুত্র যেন প্যাঁচড়া আঁচড়ায়
জিসকা ফাটে উসকা ফাটে ধোবি বসে আছড়ায়
ন্যাংটা শিরের মন্ত্র দাদা পেয়েছি দু-কান খুইয়ে।
দে গরুর গা ধুইয়ে — জোরেসোরে।

বাজিছে দামামা বাঁধ রে আমামা

বাণী

বাজিছে দামামা, বাঁধ রে আমামা শির উঁচু করি মুসলমান।
দাওয়াত এসেছে নয়া জামানার ভাঙা কিল্লায় ওড়ে নিশান।।
	মুখেতে কল্‌মা হাতে তলোয়ার
	বুকে ইসলামী জোশ্ দুর্বার,
	হৃদয়ে লইয়া এশ্‌ক্‌ আল্লার —
	চল্ আগে চল বাজে বিষাণ।
ভয় নাই তোর গলায় তাবিজ বাঁধা যে রে তোর পাক কোরান।।
	নহি মোরা জীব ভোগ বিলাসের
	শাহাদত ছিল কাম্য মোদের,
	ভিখারির সাজে খলিফা যাদের —
				শাসন করিল আধা জাহান।
তা’রা আজ প’ড়ে ঘুমায় বেহোঁশ্ বাহিরে বহিছে ঝড় তুফান।।
	ঘুমাইয়া কাজা করেছি ফজর
	তখনো জাগিনি যখন জোহর,
	হেলা ও খেলায় কেটেছে আসর —
				মাগরিবের আজ শুনি আজান।
জমাত-শামিল হও রে এশাতে এখনো জামাতে আছে স্থান।।
	শুকনো রুটিরে সম্বল ক’রে
	যে ঈমান আর যে প্রাণের জোরে,
	ফিরেছি জগৎ মন্থন ক’রে —
				সে-শক্তি আজ ফিরিয়ে আন।
আল্লাহু আকবর রবে পুন কাঁপুক বিশ্ব দূর বিমান।।

আমি বাণিজ্যেতে যাব এবার

বাণী

আমি	বাণিজ্যেতে যাব এবার মদিনা শহর।
আমি	এদেশে হায় গোনাহ্গারি ছিলাম জীবন ভর।।
	পাঞ্জেগানার বাজার যেথা বসে দিনে রাতে
	দু’টি টাকা ‘আল্লাহ্’ ‘রসুল’ পুঁজি নিয়ে হাতে,
কত	পথের ফকির সওদা ক’রে হ’ল সওদাগর।।
সেথা	আজান দিয়ে কোরান প’ড়ে ফিরিওয়ালা হাঁকে
	বোঝাই ক’রে দৌলত দেয়, যে সাড়া দেয় ডাকে
ওগো	জানেন তাহার পাকে কা’বা খোদার অফিস্-ঘর।।
	বেহেশ্‌তে রোজগারের পরে ছাড়পত্র পায়,
	পায় সে সাহস ঈমান-জাহাজ যদি ডুবে’ যায়।
ওগো	যেতে খোদার খাস্-মহলে পায় সে সিল্‌মোহর।।

বসন্ত মুখর আজি

বাণী

বসন্ত মুখর আজি।
দক্ষিণ সমীরণে মর্মর গুঞ্জনে
বনে বনে বিহ্বল বাণী ওঠে বাজি’।।
অকারণ ভাষা তার ঝর ঝর ঝরে
মুহু মুহু কুহু কুহু পিয়া পিয়া স্বরে,
পলাশ বকুলে অশোক শিমুলে —
সাজানো তাহার কল–কথার সাজি।।
দোয়েল মধুপ বন–কপোত কূজনে,
ঘুম ভেঙে দেয় ভোরে বাসর শয়নে।
মৌনী আকাশ সেই বাণী–বিলাসে
অস্ত চাঁদের মুখে মৃদু মৃদু হাসে,
বিরহ–শীর্ণা গিরি–ঝর্ণার তীরে —
পাহাড়ি বেণু হাতে ফেরে সুর ভাঁজি’।।

গভীর নিশীথে জাগি’ খুঁজি তোমারে

বাণী

গভীর নিশীথে জাগি’ খুঁজি তোমারে।
দূর গগনে প্রিয় তিমির-‘পারে।।

জেগে যবে দেখি হায় তুমি নাই কাছে
আঙিনাতে ফুটে’ ফুল ঝ’রে পড়ে আছে,
বাণ-বেঁধা পাখি সম আহত এ প্রাণ মম —
লুটায়ে লুটায়ে কাঁদে অন্ধকারে।।

মৌন নিঝুম ধরা, ঘুমায়েছে সবে,
এসো প্রিয়, এই বেলা বক্ষে নীরবে।

কত কথা কাঁটা হ’য়ে বুকে আছে বিঁধে
কত আভিমান কত জ্বালা এই হৃদে,
দেখে যাও এসো প্রিয় কত সাধ ঝ’রে গেল —
কত আশা ম’রে গেল হাহাকারে।।

চির-কিশোর মুরলীধর

বাণী

চির-কিশোর মুরলীধর কুঞ্জবন-চারী।
গোপনারী-মনোহারী বামে রাধা প্যারী।।
শোভে শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্ম করে,
গোষ্ঠ-বিহারী কভু, কভু দানবারি।।
তমাল-তলে কভু কভু নীপ-বনে,
লুকোচুরী খেল হরি ব্রজ-বধূ সনে।
মধুকৈটভারি কংস-বিনাশন,
কভু কণ্ঠে গীতা, শিখী-পাখা-ধারী।।