তোমার সজল চোখে লেখা মধুর গজল

বাণী

তোমার সজল চোখে লেখা মধুর গজল গান।
চেয়ে চেয়ে তাই দেখে গো আমার দু’নয়ান।।
	আমার পুঁথির আখর যত
	তোমার মালার মোতির মত,
তাই দেখি আর পাঠ ভুলে যাই, আকুল করে প্রাণ।।
যেমন	বুলবুলি আর রঙিন গোলাব
	লায়লী-মজনু দুইজনে ভাব,
ওদের প্রেমে ধূলির ধরা হল গুলিস্তান।।

নাটিকা: ‘লায়লী-মজনু’

যে-হার দিলে ভালোবেসে

বাণী

(তুমি)	যে-হার দিলে ভালোবেসে সে-হার আমার হ’ল ফাঁসি।
(প্রিয়)		সেই হার আজ বক্ষে চেপে আকুল নয়ন-জলে ভাসি।।
			তুমি জান অন্তর্যামী
			দান তো তোমার চাইনি আমি,
		তোমায় শুধু চেয়েছিলাম সাধ ছিল মোর হ’তে দাসী।।
		দুখের মালা কেড়ে নিয়ে কেন দিলে মতির মালা,
		মালায় শীতল হবে কি নাথ! শূন্য আমার বুকের জ্বালা?
		(মোরে) রেখো না আর সোনার রথে
			ডাকো তোমার তীর্থ-পথে,
(আমার)	সুখের ঘরে আগুন জ্বালো শোনাও বাঁশি সর্বনাশী।।

১. চেয়েছিলাম তোমায় স্বামী

দুলে চরাচর হিন্দোল-দোলে

বাণী

দুলে চরাচর হিন্দোল-দোলে
বিশ্বরমা দোলে বিশ্বপতি-কোলে।।
গগনে রবি-শশী গ্রহ-তারা দুলে,
তড়িত-দোলনাতে মেঘ ঝুলন ঝুলে।
	বরিষা-শত-নরী
	দুলিছে মরি মরি,
	দুলে বাদল-পরী
		কেতকী-বেণী খোলে।।
নদী-মেঘলা দোলে, দোলে নটিনী ধরা,
দুলে আলোক নভ-চন্দ্রাতপ ভরা।
করিয়া জড়াজড়ি দোলে দিবস-নিশা,
দোলে বিরহ-বারি, দোলে মিলন-তৃষা।
	উমারে লয়ে বু’কে
	শিব দুলিছে সুখে,
	দোলে অপরূপ
		রূপ-লহর তোলে।।

আর্শিতে তোর নিজের রূপই দেখিস

বাণী

আর্শিতে তোর নিজের রূপই দেখিস চেয়ে' চেয়ে'
আমায় চেয়ে দেখিস না তাই রূপ-গরবী মেয়ে।
		ওলো রূপ-গরবী মেয়ে।।
	নাইতে গিয়ে নদীর জলে
	দেরি করিস নানান ছলে
ওরে	ভাবিস তোরে দেখতে কখন আসবে জোয়ার ধেয়ে।।
	চাদেঁর সাথে মিলিয়ে দেখিস চাঁদপানা মুখ তোর
	ভাবিস তুই-ই আসল শশী চাঁদ যেন চকোর
		ওলো চাঁদ যেন চকোর।
	বনের পথে আনমনে
	দাঁড়িয়ে থাকিস অকারণে
ওরে	ভাবিস তোরে দেখেই বুঝি বিহগ ওঠে গেয়ে'।

নিশি-রাতে রিম ঝিম ঝিম বাদল-নূপুর

বাণী

নিশি-রাতে রিম ঝিম ঝিম বাদল-নূপুর
বাজিল ঘুমের মাঝে সজল মধুর।।
দেয়া গরজে বিজলি চমকে
জাগাইল ঘুমন্ত প্রিয়তমকে
আধো ঘুম-ঘোরে চিনিতে নারি ওরে
'কে এলো কে এলো' ব'লে ডাকিছে ময়ূর।।
দ্বার খুলি' পড়শি কৃষ্ণা-মেয়ে আছে চেয়ে'
	মেঘের পানে আছে চেয়ে —
কারে দেখি আমি কারে দেখি
	মেঘলা আকাশ না ঐ মেঘলা-মেয়ে।
ধায় নদী জল মহাসাগর পানে
বাহিরে ঝড় কেন আমায় টানে
জমাট হয়ে আছে বুকের কাছে
নিশীথ-আকাশ যেন মেঘ ভারাতুর।।

আমার হৃদয় হবে রাঙাজবা

বাণী

আমার	হৃদয় হবে রাঙাজবা দেহ বিল্বদল,
মুক্তি		পাবো ছুঁয়ে মুক্তকেশীর চরণতল॥
মোর		বলির পশু হবে সর্বকাম,
মোর		পূজার মন্ত্র হবে মায়ের নাম,
মোর		অশ্রু দেবো মা’র চরণে সেই তো গঙ্গাজল॥
মোর		আনন্দ মাকে দেবো তাই হবে চন্দন,
মোর		পুষ্পাঞ্জলি হবে আমার প্রাণ মন।
মোর		জীবন হবে আরতি-দীপ,
মোর		গুরু হবেন শঙ্কর-শিব,
মোর		কাঁটার জ্বালা পদ্ম হবে শুভ্র সুনির্মল॥