হে পাষাণ দেবতা

বাণী

হে পাষাণ দেবতা!
মন্দির দুয়ার খোল কও কথা।।
দুয়ারে দাঁড়ায়ে শ্রান্তি-হীন দীর্ঘ দিন,
অঞ্চলের পূষ্পাঞ্জলি শুকায়ে যায় উষ্ণ বায়;
আঁখি দীপ নিভিছে হায়, কাঁপিছে তনুলতা।
শুভ্রবাসে পূজারিণী, দিন শেষে —
গোধুলির গেরুয়া রঙ হের প্রিয় লাগে এসে;
খোল দ্বার শরণ দাও, সহে না আর নীরবতা।।

আমার উমা কই গিরিরাজ

বাণী

আমার উমা কই গিরিরাজ, কোথায় আমার নন্দিনী।
এ যে দেবী দশভুজা এ কোন্ রণ-রঙ্গিণী॥
	মোর লীলাময়ী চঞ্চলারে ফেলে
	এ কোন দেবীমূর্তি নিয়ে এলে,
এ যে মহীয়সী মহামায়া বামা মহিষ-মর্দিনী॥
মোর মধুর স্নেহে জ্বালতে আগুন আন্‌লে কারে ভুল ক’রে,
এরে কোলে নিতে হয় না সাহস ডাকতে নারি নাম ধ’রে।
	কে এলি মা দনুজ-দলন বেশে
	কন্যারূপে মা ব’লে ডাক হেসে হেসে,
তুই চিরকাল যে দুলালী মোর মাতৃস্নেহে বন্দিনী॥

আয় মা উমা! রাখ্‌ব এবার

বাণী

(মা)		আয় মা উমা! রাখ্‌ব এবার ছেলের সাজে সাজিয়ে তোরে।
(ওমা)		মা’র কাছে তুই রইবি নিতুই, যাবি না আর শ্বশুর ঘরে।।
				মা হওয়ার মা কী যে জ্বালা
				বুঝবি না তুই গিরি-বালা
		তোরে না দেখলে শূন্য এ বুক কী যে হাহাকার করে।।
		তোরে টানে মা শঙ্কর-শিব আসবে নেমে জীব-জগতে,
		আনন্দেরই হাট বসাব নিরানন্দ ভূ-ভারতে।
				না দেখে যে মা, তোর লীলা
				হ’য়ে আছি পাষাণ-শীলা
		আয় কৈলাসে তুই ফির্‌বি নেচে বৃন্দাবনের নূপুর প’রে।।

জাতের নামে বজ্জাতি সব

বাণী

জাতের নামে বজ্জাতি সব জাত-জালিয়াৎ খেলছ জুয়া!
ছুঁলেই তোর জাত যাবে? জাত ছেলের হাতের নয়তো মোয়া।।
হুঁকোর জল আর ভাতের হাঁড়ি — ভাব্‌লি এতেই জাতির জান,
তাইত বেকুব, করলি তোরা এক জাতিকে একশ’-খান।
এখন দেখিস ভারত জোড়া পঁচে আছিস বাসি মড়া,
মানুষ নাই আজ, আছে শুধু জাত-শেয়ালের হুক্কাহুয়া।।
জানিস নাকি ধর্ম সে যে বর্ম সম সহন-শীল,
তাকে কি ভাই ভাঙ্‌তে পারে ছোঁয়া ছুঁয়ির ছোট্ট ঢিল!
যে জাত-ধর্ম ঠুন্‌কো এত, আজ নয় কা’ল ভাঙবে সে ত,
যাক্‌ না সে জাত জাহান্নামে, রইবে মানুষ, নাই পরোয়া।।
বলতে পারিস, বিশ্ব-পিতা ভগবানের কোন সে জাত?
কোন্‌ ছেলের তার লাগলে ছোঁয়া অশুচি হন জগন্নাথ?
ভগবানের জাত যদি নাই তোদের কেন জাতের বালাই?
ছেলের মুখে থুথু দিয়ে মার মুখে দিস ধূপের ধোঁয়া।।

কুহু কুহু কুহু ব’লে মহুয়া-বনে

বাণী

কুহু কুহু কুহু ব’লে মহুয়া-বনে।
মাধবী চাঁদ এলে পূব-গগনে।।
দুলে ওঠে বনান্ত আসিলে কে পান্থ,
তব পদধ্বনি অশান্ত — হে শুনি মম মনে।।
বাতায়নে প্রদীপ জ্বালি’
আসা-পথ চাহি’, প্রহর গণি, গান গাহি’।
এলে আজি নিশীথে দেখা দিতে তৃষিতে,
শুনি দশ-দিশিতে — বাঁশি তব ক্ষণে ক্ষণে।।

নাচে নটরাজ মহাকাল

বাণী

নাচে নটরাজ, মহাকাল।
অম্বর ছাপিয়া পড়ে লুটাইয়া আলো-ছায়ার বাঘ-ছাল।।

কালো সিন্ধু জলে তাথৈ তাথৈ রব
শুনি সেই নৃত্যের নাচে মহাভৈরব
বিষাণ মন্দ্রে বাজে মাভৈঃ মাভৈঃ রব
প্রাণ পেয়ে জেগে ওঠে মৃত কঙ্কাল।।

গঙ্গা তরঙ্গে অপরূপ রঙ্গে
ছন্দ জাগে সেই নৃত্য-বিভঙ্গে
জোছনা আশিস-ধারা ঝরে চরাচরে
ছাপিয়া ললাট শশী ভাল।।