নাচে ঐ আনন্দে নন্দ-দুলাল

বাণী

নাচে ঐ আনন্দে নন্দ-দুলাল
তাতা থৈ তাতা থৈ — নাচে বৃন্দাবনে হরি ব্রজ-গোপাল।।
ছন্দ নামে, দক্ষিণে বামে,
টলে বাঁকা শিখী-পাখা।
উছল যমুনা-জলে বাজিছে তাল।
		নাচে নন্দ-দুলাল।।
বিরাট খেলে হের আজ শিশুর রূপে,
স্বর্গে কাঙাল করি’ ধরায় এলো চুপে চুপে।
এত রূপ কেমনে দেখি,
দিলে কেন দুটি আঁখি
তাহে আবার পলক পড়ে;
আজি বিশ্ব-পালক হ’ল বালক রাখাল।।

বেল ফুল এনে দাও চাই না বকুল

বাণী

বেল ফুল এনে দাও চাই না বকুল
চাই না হেনা, আনো আমের মুকুল।।
গোলাপ বড় গরবী এনে দাও করবী
চাইতে যূথী আন টগর — কি ভুল।।
কি হবে কেয়া, দেয়া নাই গগনে;
আনো সন্ধ্যামালতী গোধূলি-লগনে।
গিরি-মল্লিকা কই’ চামেলি পেয়েছে সই
চাঁপা এনে দাও, নয় বাঁধব না চুল।।

ওরে অবোধ গরম জলে

বাণী

ওরে অবোধ! গরম জলে ঘর কি কভু পোড়ে?
আপন জনের আঘাত কি কেউ রাখে মনে করে (রে)?
	তুই বিদায় নিলি অভিমানে
	শেষে ফিরতে হল প্রাণের টানে (রে)।
ওরে এ স্নেহ-ডোর ছিন্ন করে কোথায় যাবি সরে।।

তুই পাষাণ গিরির মেয়ে হ’লি

বাণী

	তুই পাষাণ গিরির মেয়ে হ’লি পাষাণ ভালোবাসিস্‌ ব’লে।
	মা গ’লবে কি তোর পাষাণ-হৃদয় তপ্ত আমার নয়ন-জলে।।
		তুই বইয়ে নদী পিতার চোখে
		লুকিয়ে বেড়াস লোকে লোকে
	মহেশ্বরও পায় না তোকে প’ড়ে মা তোর চরণতলে।।
	কোটি ভক্ত যোগী ঋষি ঠাঁই পেল না তোর চরণে,
	তাই ব্যথায়-রাঙা তা’দের হৃদয় জবা হ’য়ে ফোটে বনে।
		আমি শুনেছি মা ভক্তি ভরে
		মা ব’লে যে ডাকে তোরে
(তুই)	অমনি গ’লে অশ্রু-লোরে ঠাঁই দিস তোর অভয় কোলে।।

মম বন-ভবনে ঝুলন দোলনা দে দুলায়ে

বাণী

মম বন-ভবনে ঝুলন দোলনা দে দুলায়ে উতল পবনে
মেঘ-দোলা দুলে বাদল গগনে।।
আয় ব্রজের ঝিয়ারি পরি' সুনীল শাড়ি
নীল কমল কুঁড়ি দুলায়ে শ্রবণে।।
নবীন ধানের মঞ্জরি কর্ণে
তপ্ত বক্ষ ঢাকি' শ্যামল পর্ণে
ওড়না ছুপায়ে রাঙা রামধনু বর্ণে
আয় প্রেম-কুমারীরা আয় লো,
উদাসী বাঁশীর সুরে ডাকে শ্যামরায় লো।
ঝরিবে আকাশে অবিরল বৃষ্টি
শ্যাম-সখা সাথে হবে শুভ-দৃষ্টি
এই ঝুলনের মধু-লগনে।।

ভবনে আসিল অতিথি সুদূর

বাণী

ভবনে আসিল অতিথি সুদূর।
সহসা উঠিল বাজি রুমু রুমু ঝুম
	নীরব অঙ্গনে চঞ্চল নূপুর।।
মুহু-মুহু বন-কুহু বোলে
দোয়েল ধ্যান ভুলি চমকি আঁখি খোলে
	কে গো কে বলে বন-ময়ূর।।
দগ্ধ হিয়ার জ্বালা জুড়ায়ে
সজল মেঘের শীতল চন্দন কে দিল বুলায়ে?
বকুল কেয়া বীথি হ'তে
ছুটে এলো সমীরণ চঞ্চল স্রোতে
চাঁদিনী নিশীথের আবেশ আনে
	মিলন তন্দ্রাতুর অলস-দুপুর।।