কী হবে জানিয়া কে তুমি বঁধু

বাণী

কী হবে জানিয়া কে তুমি বঁধু, কি তব পরিচয়?
আমি জানি তুমি মোর প্রিয়তম, সুন্দর প্রেমময়।।
	জগৎ তোমার পায়ে প’ড়ে আছে
	তুমি এসে কাঁদ’ এ দাসীর কাছে,
	হে বিজয়ী! আমার বিজয়ী!
আমি শুধু জানি, তুমি হার মানি’ আমারে করেছ জয়।।
কত যে বিপুল মহিমা তোমার জানতে দিয়ো না প্রিয়,
জনমে জনমে প্রিয়া ব’লে মোরে বক্ষে টানিয়া নিয়ো।
	প্রভাত-সূর্য ভাবি নারায়ণ
	বিশ্ব-প্রণাম করে গো যখন,
একমুঠো কমলিনী হেসে বলে, ‘আমি চিনি
ও-যে মোর প্রিয়, ও-তোর নারায়ণ নয়’।।

গীতি-চিত্র : ‘সে কি তুমি’

চারু চপল পায়ে যায়

বাণী

চারু চপল পায়ে যায় যুবতী গোরী।।
আঁচলের পাল তুলে সে চলে ময়ূর-পঙ্খি-তরী।।
	আয়রে দেখবি যদি
	ভাদরের ভরা নদী,
চলে কে বে-দরদি — ভেঙে কূল গিরি-দরি।।
	মুখে চাঁদের মায়া
	কেশে তমাল-ছায়া,
এলোচুলে দুলে দুলে নেচে চলে হাওয়া-পরী।।
	নয়ন-বাণে মারে প্রাণে
	চরণ-ছোঁয়ায় জীবন দানে,
মায়াবিনী যাদু জানে — হার মানে ঊর্বশী অপ্সরী।।

এত কথা কি গো কহিতে জানে

বাণী

এত কথা কি গো কহিতে জানে
		চঞ্চল ঐ আঁখি
নীরব ভাষায় কি যে ক'য়ে যায়
	ও সে মনের বনের পাখি।।
বুঝিতে পারি না ঐ আঁখির ভাষা
জলে ডুবে তবু মেটে না পিপাসা,
আদর সোহাগ প্রেম ভালোবাসা
	অভিমান মাখামাখি।।
মুদিত কমলে ভ্রমরেরি প্রায়
বন্দী হইয়া কাঁদিয়া বেড়ায়
চাহিয়া চাহিয়া মিনতি জানায়
	সুনীল আকাশে ডাকি'।।

একি অসীম পিয়াসা

বাণী

একি অসীম পিয়াসা
শত জনম গেল তবু মিটিল না
	তোমারে পাওয়ার আশা।।
সাগর চাহিয়া চাঁদে চির জনম কাঁদে
তেমনি যত নাহি পায় তোমা পানে ধায়
		অসীম ভালোবাসা।।
তোমারে যে চাহিয়াছে ভুলে একদিন
সেই জানে তোমারে ভোলা কি কঠিন
তোমার স্মৃতি তার মরণের সাথি হয়
	মেটে না প্রেমের পিয়াসা।।

মালা যদি মোর ধূলায় মলিন হয়

বাণী

মালা যদি মোর ধূলায় মলিন হয়
ব'সে আছি তাই অঞ্চলে নিয়ে কুসুমেরি সঞ্চয়।।
	ফুলহার যদি কর অবহেলা
	তাই ভাবি আর ব'য়ে যায় বেলা
হৃদয়ে থাকুক লুকানো আমার হৃদয়ের পরিচয়।।
বিফল যদি গো হয় পূজা নিবেদন
মন্দির-দ্বারে দাঁড়াইয়া তাই পাষাণেরই নারায়ণ।।
	কেন কাছে আসি, এসে ফিরে যাই
	যদি ফেল জেনে ভয় মানি তাই
সকলি সহিব, সহিতে নারিব হৃদয়ের পরাজয়।।

এসো বঁধু ফিরে এসো

বাণী

এসো বঁধু ফিরে এসো, ভোলো ভোলো অভিমান।
দিব ও-চরণে ডারি’ মোর তনু মন প্রাণ।।
	জানি আমি অপরাধী
	তাই দিবানিশি কাঁদি’,
নিমেষের অপরাধের কবে হবে অবসান।।
	ফিরে গেলে দ্বারে আসি’
	বাসি কিনা ভালোবাসি,
কাঁদে আজ তব দাসী — তুমি তার হৃদে ধ্যান।।
	সে-দিন বালিকা-বধূ
	শরমে মরম-মধু,
পি’য়াতে পারিনি বঁধু — আজ এসে কর পান।।
	ফিরিয়া আসিয়া হেথা
	দিও দুখ দিও ব্যথা,
সহে না এ নীরবতা — হে দেবতা পাষাণ।।