ফিরে এলো সেই কৃষ্ণাষ্টমী তিথি

বাণী

ফিরে এলো সেই কৃষ্ণাষ্টমী তিথি, হে শঙ্খচক্রধারী!
তোমার মাভৈঃ অভয় আকাশবাণী, কেন নাহি শুনি? হে মুরারি!!
	সেই ঘনঘটা দুর্যোগ-নিশি
	নিরাশা-আঁধারে ঢাকা দশদিশি;
গগনে তেমনি ঘোর দুন্দুভি বাজে, ঝরে তেমনি অশ্রু-বারি।।
আজো মানুষের আত্মা তেমনি কাঁদে আশা-যমুনার দুই পারে,
এ-পারে দেবকী ও-পারে যশোদা আজো ডাকে মুক্তির বিধাতারে।
	আবার প্রেমের বংশী বাজাও,
	এই হানাহানি হিংসা ভুলাও,
আর্ত-কলির গানের এ শেষ-কলি দাও শেষ করে ব্যথাহারী।।

জরীন হরফে লেখা

বাণী

	জরীন হরফে লেখা
	রূপালি হরফে লেখা
(নীল)	আসমানের কোরআন।
সেথা	তারায় তারায় খোদার কালাম
(তোরা)	পড়, রে মুসলমান
নীল	আসমানের কোরআন।।
	সেথা ঈদের চাঁদে লেখা
	মোহাম্মদের ‘মীম’-এর রেখা,
সুরুযেরই বাতি জ্বেলে’ পড়ে রেজোয়ান।।
খোদার আরশ লুকিয়ে আছে ঐ কোরআনের মাঝে,
খোঁজে ফকির-দরবেশ সেই আরশ সকাল-সাঁঝে।
	খোদার দিদার চাস রে, যদি
	পড় এ কোরআন নিরবধি;
খোদার নুরের রওশনীতে রাঙ রে দেহ-প্রাণ।।

তুমি বেণুকা বাজাও কার নাম লয়ে শ্যাম

বাণী

তুমি বেণুকা বাজাও কার নাম লয়ে শ্যাম —
মোর সাধ যায় হরি আমি যদি সেই কিশোরী হইতাম।।
	সেই প্রেম মোরে দাও গো শ্রী হরি,
	যে প্রেমে নেমে আস রূপ ধরি',
যে প্রেমে কাঁদো যমুনার তীরে তুমি লয়ে 'রাধা রাধা' নাম।।
সেই প্রেম দাও যে প্রেমে ভোল তুমি হে শ্রী ভগবান,
রাধার দুয়ারে ভিক্ষা চাহিয়া নিতি সহ অপমান।
	মোর আঁখি হয়ে উঠুক কমল,
	দাও প্রিয় মোরে সেই আঁখিজল;
দাও সে বিরহ যে বিরহে এই ধরা হয় ব্রজধাম।।

আজিকে তোমারে স্মরণ করি

বাণী

আজিকে তোমারে স্মরণ করি’
মৃত্যু আড়ালে জীবন তোমার
	ওঠে অপরূপ মহিমায় ভরি’।।
জীবন তোমার তটিনীর মত
বয়ে গেছে বাধা উপল-আহত
আত্মারে রাখি চির জাগ্রত
	অম্বরে শির রেখেছিলে ধরি’।।
তোমার এ স্মৃতি বাসরে আমরা
	তোমারে শ্রদ্ধা তর্পণ দানি,
তোমার ধর্ম তোমার কর্ম
	দিক অভিনব মহিমা আনি।
এসো আমাদের করুণ স্মৃতিতে
নয়নের জলে বিষাদিত চিতে
জীবনের পরপার হতে
	পড়ুক আশিস সান্ত্বনা বারি।।

কাছে তুমি থাকো যখন তখন আমি দিই না ধরা

বাণী

কাছে তুমি থাকো যখন তখন আমি দিই না ধরা।
দূরে থেকে কাঁদো যখন তখনি হই স্বয়ম্বরা।।
	তখন তোমার অভিসারে
	মন ছুটে যায় অন্ধকারে
তখন ওঠে বিরহেরি ব্যাকুল রোদন পাগল পারা।।
প্রিয়, তুমি যবে রহ পাশে —
কেন এতো ভয় জাগে গো, কেন মনে দ্বিধা আসে!
	ভিক্ষা যখন চাও ভিখারি
	হাত কাঁপে গো দিতে নারি,
তুমি চ'লে গেলে লুকিয়ে কাঁদি ভিক্ষা নিয়ে আঁচল ভরা।।

ঝর ঝর ঝরে শাওন ধারা

বাণী

ঝর ঝর ঝরে শাওন ধারা।
ভবনে এলো মোর কে পথহারা।।
বিরহ রজনী একেলা যাপি
সঘনে বহে ঝড় সভয়ে কাঁপি,
উথলি’ উঠে ঢেউ কুটীরে নাহি কেউ —
গগনে নাহি মোর চন্দ্রতারা।।
নিভেছে গৃহদীপ নয়নে বারি,
আঁধারে তব মুখ নাহি নেহারি।
তোমার আকুল কুন্তল বাসে
চেনা দিনের স্মৃতি স্মরণে আসে,
আজি কি এলে মোর প্রলয়-সুন্দর —
	ঝলকে বিদ্যুতে আঁখি-ইশারা।।