অন্ধকারে এসে তুমি অন্ধকারে গেছ চ’লে

বাণী

অন্ধকারে এসে তুমি অন্ধকারে গেছ চ’লে।
তোমার পায়ের রেখা জাগে শূন্য গৃহের অঙ্গন-তলে।।
		কেন আমায় জাগালে না
		আঘাতে ঘুম ভাঙালে না,
দ’লে কেন গেলে না গো যাবার বেলা চরণ-তলে।।
কৃষ্ণা তিথির চাঁদের মত এসেছিলে গভীর রাতে,
আলোর পরশ বুলিয়ে দিলে ঘুমন্ত মোর নয়ন-পাতে;
		তাই রজনীগন্ধা সুখে
		চেয়ে আছে উর্ধ্ব মুখে,
ফুলগুলিরে জাগিয়ে গেলে নিঠুর আমায় গেলে ছ’লে।।

চলো সাম্‌লে পিছল পথ

বাণী

	চলো সাম্‌লে পিছল পথ গোরী।
	ভরা যৌবন তায় ভরা গাগরি।।
	নীর ভরণে এসে সখি নদী-তীর
	তীর খেয়ো না হৃদয়ে ডাগর আঁখির,
	জলে ভাসিবে নয়ন কিশোরী।।
	হৃদি নিঙাড়ি এ পথে প্রেমিক কত
সখি	করেছে রুধির-পিছল এ পথ,
	কেহ উঠিল না এ পথে পড়ি’।।
	তব ঘটের সলিল চাহিয়া সই
কত	তৃষ্ণা-আতুর পথিক দাঁড়ায়ে ঐ,
	মরুভূমে তুমি মেঘ-পরী।।

শ্যামের সাথে চল সখি খেলি সবে হোরি

বাণী

শ্যামের সাথে চল সখি খেলি সবে হোরি।
রঙ নে, রঙ দে, মদির আনন্দে, আয় লো বৃন্দাবনী গোরী।।
আয় চপল যৌবন-মদে মাতি অল্প-বয়সী কিশোরী।।
রঙ্গিলা গালে তাম্বুল-রাঙা ঠোঁটে হিঙ্গুল রঙ লহ ভরি;
ভুরু-ভঙ্গিমা সাথে রঙ্গিম হাসি পড়ুক মুহু মুহু ঝরি’।।
আগুন-রাঙা ফুলে ফাগুন লাগে লাল,
কৃষ্ণচূড়ার পাশে অশোক গালে-গাল।
আকুল করে ডাকি’ বকুল বনের পাখি,
যমুনার জল লাল হ’ল আজ আবির, ফাগের রঙে ভরি।।

১. শ্যাম অঙ্গ আজি রঙে রঙে রাঙা হয়ে কি শোভা ধরেছে মরি! মরি!

তুমি যে-হার দিলে ভালোবেসে

বাণী

(তুমি)	যে-হার দিলে ভালোবেসে সে-হার আমার হ’ল ফাঁসি।
(প্রিয়)	সেই হার আজ বক্ষে চেপে আকুল নয়ন-জলে ভাসি।।
		তুমি জান অন্তর্যামী
		দান তো তোমার চাইনি আমি,
	তোমায় শুধু চেয়েছিলাম সাধ ছিল মোর হ’তে দাসী।।
	দুখের মালা কেড়ে নিয়ে কেন দিলে মতির মালা,
	মালায় শীতল হবে কি নাথ! শূন্য আমার বুকের জ্বালা?
	(মোরে)	রেখো না আর সোনার রথে
			ডাকো তোমার তীর্থ-পথে,
(আমার) সুখের ঘরে আগুন জ্বালো শোনাও বাঁশি সর্বনাশী।।

১. চেয়েছিলাম তোমায় স্বামী

নীল যমুনা সলিল কান্তি

বাণী

নীল যমুনা সলিল কান্তি চিকন ঘনশ্যাম।
তব শ্যামরূপে শ্যামল হল সংসার ব্রজধাম।।
রৌদ্রে পুড়িয়া তপিতা অবনি
চেয়েছিল শ্যাম-স্নিগ্ধা লাবনি,
আসিলে অমনি নবনীত তনু
ঢলঢল অভিরাম চিকন ঘনশ্যাম।।
আধেক বিন্দু রূপ তব দুলে ধরায় সিন্ধুজল
তব বেণু শুনি’, ওগো বাঁশুরিয়া,
প্রথম গাহিল কোকিল পাপিয়া,
হেরি কান্তার-বন-ভুবন ব্যাপিয়া
বিজড়িত তব নাম; চিকন ঘনশ্যাম।।

আমার অহঙ্কারের মূল কেটে দে

বাণী

মা, মা গো —
আমার অহঙ্কারের মূল কেটে দে কাঠুরিয়ার মেয়ে,
কত নিরস তরু হ'ল মঞ্জুরিত তোর চরণ-পরশ পেয়ে।।
রোদে পুড়ে জলে ভিজে মা দিয়েছি ফুল ফল
শাখায় আমার, নীড় বেঁধেছে বিহঙ্গের দল।
বটের মত সারা দেহ মাগো মায়ার জটে আছে ছেয়ে।।
ও মা মূল আছে তাই বৈতরণীর কূলে আছি পড়ি
নইলে হ'তাম খেয়াঘাটের পারাপারের তরী।
	তুই খড়গের ভয় দেখাস মিছে
	মুক্তি আছে এরি পিছে মাগো
তোর হাসির বাঁশি শুনতে পাবো অসির আঘাত খেয়ে।।