মম তনুর ময়ূর সিংহাসনে এসো রূপকুমার

বাণী

মম	তনুর ময়ূর সিংহাসনে এসো রূপকুমার কবি নৌজোয়ান।
মোর	ঘুম যবে ভাঙিল, প্রিয়তম, উঠিল পূর্ণিমা চাঁদ,
					জোছনায় হাসিল আসমান।।
	আমি মদিনা হেরেমের নন্দিনী যে
	আমি প্রাসাদে বন্দিনী যে,
	ভেবেছিনু তুমি শুধু রূপের পাগল —
	যদি সমান ভালোবেসে থাকো,
	তা হলে আমায় শিখাও এসে তোমার গান।।
তুমি	অনেক ছবি এঁকেছ যে মম, মোরে দিলে যে মধু,
	সেই মধু চেয়ে, সেই মধু বুকে ল‘য়ে বলি
				ফিরে এসো ফিরে এসো বঁধু।
	আমার ঘরে এসো হে প্রেমিকা বিরহী
	কেন গান গেয়ে ফির ‘মদিনা মদিনা’ কহি’,
	চ’লে গেছে বিষাদের বিলাপ, ভাঙাও এসে মোর অভিমান।।

নাটক : ‘মদিনা’

তোমার আমার এই বিরহ সইব কত আর

বাণী

তোমার আমার এই বিরহ সইব কত আর
রইবে কত আড়াল টেনে গ্রহ-তারকার।।
	তৃষিত মোর হৃদয় যাচে
	এসো আমার বুকের কাছে
যেমন দূরের চাঁদকে ডাকে ব্যাকুল পারাবার।।
হাত চাহে মোর ব'সো কাছে করবো সেবা তব,
নয়ন বলে নয়ন পাতায় রাখবো হে বল্লভ।
	হে নাথ তোমার তীর্থ পথে
	এ প্রাণ চাহে ধূলি হ'তে
ঘুচবে কবে মোদের মাঝে অসীম অন্ধকার।।

বাজো বাঁশরি বাজো বাঁশরি বাজো বাঁশরি

বাণী

বাজো বাঁশরি বাজো বাঁশরি বাজো বাঁশরি
	সেই চির-চেনা সুরে।
যে সুরে বিরহী প্রাণ আজও ঝুরে।।
যে সুরে হৃদয়ে হোরির রং লাগে
ভুলে যাওয়া যৌবন-স্মৃতি মনে জাগে,
আকাশ কাঁদে যে সকরুণ রাগে —
যে সুর ঘুমায়ে আছে প্রিয়ার নূপুরে।।
যে সুর শুনি আজো পল্লীর প্রান্তে
মল্লিকা-কুঞ্জে শ্রান্ত দিনান্তে,
বিরহ বিধূর দূর হারানো দিনের —
ছায়া ফেলে যে-সুর মনের মুকুরে।।

ঝুম্‌কো লতায় জোনাকি

বাণী

ঝুম্‌কো লতায় জোনাকি, মাঝে মাঝে বৃষ্টি।
আবোল-তাবোল বকে কে, তারও চেয়ে মিষ্টি।।
আকাশে সব ফ্যাকাশে, ডালিম-দানা পাকেনি
চাঁদ ওঠেনি কোলে তার, মা ব’লে সে ডাকেনি।।
রাগ করেছে বাঘিনী, বারো বছর হাসে না
স্বপ্ন তাহার ভেঙ্গে যায়, খোকা কেন আসে না।।
পাথর হয়ে আছে ঝিনুক, দুধের বাটি, দোলনা!
মাকে বলে ‘খোকা কই?’ কিছুই খেলা হ’ল না।।
তেমনি আছে ঘরের জিনিস, কিছুই ভাল লাগে না
পা আছড়ে মা কেঁদে কয় ‘খোকা কেন ভাঙে না!’

চলচ্চিত্র : ‘দিকশূল’

ভুলে যাও ব’লে জানাও মনে রাখার আবেদন

বাণী

ভুলে যাও ব’লে জানাও মনে রাখার আবেদন
অনুরোধে ভুলব যদি মনে রাখা সে কেমন॥
		মনে যে রাখতে জানে
		সে কি মুখের মানা মানে
ভুলে দিয়ে যার মন ভরা তারে ভুলতে বলা অকারণ॥
চাঁদ চ’লে যায় আবার আসে ফিরে আসে ফাগুন হাওয়া
কোয়েল এসে যায় ক’য়ে তার মনে রাখার দাবি দাওয়া।
		ভালোবাসায় ফুলের বাগে
		ঝরে কুসুম আবার জাগে
বন্ধ দুয়ার মন দেউলের খোলো হাজার বাতায়ন॥

রূপের দীপালি-উৎসব আমি দেখেছি

বাণী

	রূপের দীপালি-উৎসব আমি দেখেছি তোমার নয়ন অঙ্গে।
	শথ ফুলশর মুরছায় প্রিয়া, তোমার নয়ন-ভঙ্গে।।
		যে আঁখি পরম সুন্দরে দেখিয়াছে
		সেই আঁখি কাঁদে তোমার পায়ের কাছে,
	দেখেছে সে-আঁখি, বিশ্ব দুলিছে তোমার রূপ-তরঙ্গে।।
	তোমারে দেখিতে আমার আকাশ আনত হইয়া কাঁদে,
(তব)	মণিহার হ’তে বিবাদ করে গো কোটি গ্রহ তারা চাঁদে।
	তুমি দেখিতে যদি গো আপন রূপের আলো
	আমারে ভুলিয়া নিজেরে বাসিতে ভালো,
	তোমারে আড়াল করিয়া গো তাই ছায়া-সম ফিরি সঙ্গে।।