সন্ধ্যা-গোধূলি লগনে কে

বাণী

সন্ধ্যা–গোধূলি লগনে কে
রাঙিয়া উঠিলে কারে দেখে।।
হাতের আলতা পড়ে গেল পায়ে
অস্ত–দিগন্ত বনান্ত রাঙায়ে,
আঁখিতে লজ্জা, অধরে হাসি —
কেন অঞ্চলে মালা ফেলিলে ঢেকে।।
চিরুনি বিনোদ বিনুনীতে বাঁধে
দেখিলে সে কোন সুন্দর চাঁদে,
হৃদয়ে ভীরু প্রদীপ শিখা
কাঁপে আনন্দে থেকে থেকে।।

বিদায়ের বেলা মোর ঘনায়ে আসে

বাণী

বিদায়ের বেলা মোর ঘনায়ে আসে।
দিনের চিতা জ্বলে অস্ত আকাশে।।
দিন শেষে শুভদিন এলো বুঝি মম
মরণের রূপে এলে মোর প্রিয়তম,
গোধূলির রঙে তাই দশ দিশি হাসে।।
দিন গুণে নিরাশার পথ-চাওয়া ফুরালো,
শ্রান্ত এ জীবনের জ্বালা আজ জুড়ালো।
ওপার হ’তে কে এলো তরী বাহি’
হেরিলাম সুন্দরে, আর ভয় নাহি,
আঁধারের ’পারে তার চাঁদ-মুখ ভাসে।।

হায় আঙিনায় সখি আজো সেই চাঁপা ফোটে

বাণী

হায় আঙিনায় সখি আজো সেই চাঁপা ফোটে।
হায় আকাশে সখি আজো কি সেই চাঁদ ওঠে।।
	সখি তাহার হাতের হেনা গাছে
	বুঝি প্রথম মুকুল ধরিয়াছে।
হায় যমুনায়, বাঁশি বাজে কি আর ছায়ানটে।।
শিয়রে জানালা খুলে দে বাহিরে চাহিয়া দেখি
আমার বাগানে আবার বসন্ত আসিয়াছে কি?
দেখি সে ডালিম ফুলে হায় আছে কি সে রঙ আগেকার।
ও-বাড়ির ছাদের টবে সই বেলফুল ফুটলো কি আবার?
	আজি আসিবে সে মনে লাগে
	তারি আসার আভাস মনে জাগে
হায় বুঝি তাই, মোর মরণ মধুর হয়ে ওঠে।।

কৃষ্ণা নিশীথ নাচে ঝিল্লির নূপুর

বাণী

কৃষ্ণা নিশীথ নাচে ঝিল্লির নূপুর বাজে।
রিমিঝিমি রিমিঝিমি মৃদু আওয়াজে।।
আঁধারের চাঁচর চিকুর খুলিয়া
আপন মনে নাচে হেলিয়া দুলিয়া,
মুঠি মুঠি হিম-কণা তারা-ফুল তুলিয়া
ছুঁড়ে ফেলে ধরণী মাঝে।।
তার	মণি-হার খুলে পড়ে উল্কা-মানিক,
তার	নাচের নেশায় ঝিমায় দশ্‌দিক।
	আধো-রাতে আমি শুনি স্বপনে
তার	গুঞ্জন-গীত কানে-কথা গোপনে,
	কালো-রূপের শিখা, ওকি শ্যামা বালিকা
	নাচে নাচে জাগাইতে নটরাজে।।

এসো মা ভারত-জননী আবার

বাণী

এসো	মা ভারত-জননী আবার জগৎ-তারিণী সাজে।
	রাজরানী মা’র ভিখারিনী বেশ দেখে প্রাণে বড় বাজে॥
		শিশু-জগতেরে মায়ের মতন,
		তুমি মা প্রথম করিলে পালন,
আজ	মাগো তোরই সন্তানগণ কাঁদিছে দৈন্য-লাজে॥
		আঁধার বিশ্বে তুমি কল্যাণী
		জ্বালিলে প্রথম জ্ঞান-দীপ আনি;
	হইলে বিশ্ব-নন্দিতা রানী নিখিল নর-সমাজে॥
		দেখা মা পুন সে অতীত মহিমা,
		মুছে দে ভীরুতা গ্লানির কালিমা,
	রাঙায়ে আবার দশদিক-সীমা দাঁড়া মা বিশ্ব-মাঝে॥

মরালী-গমনশ্রী মদ-অলস চরণে

বাণী

মরালী-গমনশ্রী মদ-অলস চরণে।
কে পূর্ণ-যুবতী গো চল নীর-ভরণে।
	বেণী-বিলম্বিতা
	উন্‌মনা অসম্বৃতা,
দেশকার লোভাতে চল মুনি-মন হরণে।।
পূর্বাচল-বিভাসিত গো তব গৌরী অঙ্গে,
ব্রজে তুমি কি বিরাজ কর গোপী-মাধব সঙ্গে।
	পঞ্চমে পাপিয়া বোলে
	চমকি’ থাম তরুতলে,
সরসী-নীরে কমল রাঙে তব অরুণ-বরণে।