হাসে আকাশে শুকতারা হাসে

বাণী

হাসে আকাশে শুকতারা হাসে।
অরুণ-রঞ্জনী-ঊষার পাশে॥
	ওকি ঊষসীর সাথী
	বাসর ঘরে জাগে রাতি,
(ওকি) সখীর মনের কথা জানে আভাসে॥
হাসির ছটায় ওর আঁখি কেন নাচে,
রবির রথের ধ্বনি ওকি শুনিয়াছে।
(ও) কেন দিবা আসিবার আগে
শ্রান্ত বধূর ঘুম ভাঙে,
(ওকি) ধরার সূযমুখী ফুটেছে নভে —
প্রিয়তমে প্রথম দেখার আশে॥

নমো নারায়ণ অনন্ত লীলা সিন্ধু

বাণী

নমো নারায়ণ অনন্ত লীলা সিন্ধু বিশাল।
কভু প্রশান্ত উদার কভু কৃতান্ত করাল।।
বিরাট বিপুল তব মহা বিশ্বে,
অনন্ত প্রকাশ অনন্ত দৃশ্যে,
গদা-পদ্মধারী কভু গোলক-বিহারী
কভু গোপাল ব্রজ-দুলাল কিশোর রাখাল।।

জয় দুর্গা জননী দাও শক্তি

বাণী

[ওম্ সর্বমঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থসাধিকে।
শরণ্যে ত্র্যম্বকে গৌরী নারায়ণী নমোস্তুতে।।]
	জয় দুর্গা, জননী, দাও শক্তি
	শুদ্ধ জ্ঞান দাও, দাও প্রেম-ভক্তি,
অসুর-সংহারি কবচ-অস্ত্র দাও মা, বাঁধি বাহুতে।।
অর্থ-বিভব দাও, যশ দাও মাগো, প্রতি ঘরে দাও শান্তি,
পরম-অমৃত দাও, দূর কর’ মৃত্যু-সম বাঁচিয়া থাকার এই ক্লান্তি।
	শ্রান্তিবিহীন উৎসাহ দাও কর্মে
	নবীন দীক্ষা দাও শক্তির ধর্মে
মোদের রক্ষা কর’ বরাভয় বর্মে, চিন্ময় জ্যোতি দাও প্রতি অণুতে।।

ভোল লাজ ভোল গ্লানি জননী

বাণী

ভোল লাজ ভোল গ্লানি জননী মুক্ত আলোকে জাগো।
কবে সে ঘুমালি মরণ-ঘুমে মা আর তো জাগিলি না গো।।
চরণে কাঁদে মা তেমনি জলধি
বক্ষ আঁকড়ি কাঁদে নদ-নদী,
ত্রিশ কোটি সন্তান নিরবধি — 
			কাঁদে আর ডাকে মা গো।।
যে তিতিক্ষা যে শিক্ষা ল’য়ে
অতীতে ছিলি মা রাজরানী হয়ে,
ল’য়ে সে-মহিমা পুন নির্ভয়ে — 
			বিশ্ব-বুকে-দাঁড়া গো।।
বিশ্বের এই খল কোলহলে
তুই আয় কল্যাণ-দীপ জ্বেলে’,
বিরোধের শেষে তুই শান্তি মা — 
			মৃত্যু শেষে সুধা গো।।

পথে পথে কে বাজিয়ে চলে বাঁশি

বাণী

পথে পথে কে বাজিয়ে চলে বাঁশি
হ’ল বিশ্ব-রাধা ঐ সুরে উদাসী।।
শুনে ঐ রাখালের বেণু
আসে ছুটে আলোক-ধেনু,
ঐ নীল গগনে রাঙা মেঘে ওড়ে গো-খুর রেণু,
ওসে শ্যাম-পিয়ারী গোপ-ঝিয়ারি গ্রহ তারার রাশি।।
	সেই বাঁশির অন্বেষণে
	যত মন-বধু যায় বনে,
তাদের প্রেম যমুনায় বান ডেকে যায় কুল খোয়ায় গোপনে।
তারা রাস দেউলে রসের বাউল আনন্দ-ব্রজবাসী।।

দোলে প্রাণের কোলে প্রভূর নামের মালা

বাণী

দোলে প্রাণের কোলে প্রভূর নামের মালা।
সকাল সাঁঝে সকল কাজে জপি সে নাম নিরালা।।
সেই নাম বসন-ভূষণ আমারি
সেই নামে ক্ষুধা-তৃষ্ণা নিবারি,
সেই নাম লয়ে বেড়াই কেঁদে
	সেই নামে আবার জুড়াই জ্বালা।।
সেই নামরেই নামাবলী গ্রহ তারা রবি শশী দোলে গগন কোলে।
	মধুর সেই নাম প্রাণে সদা বাজে,
	মন লাগে না সংসার কাজে
		সে নামে সদা মন মাতোয়ালা।।
আদর-সোহাগ মান -অভিমান আপন মনে তার সাথে;
	কাঁদায়ে কাঁদি, পায়ে ধ'রে সাধি,
	কভু করি পূজা, কভু বুকে বাঁধি,
	আমার স্বামী সে ভুবন-উজালা।।