টলমল টলে হৃদয়-সরসী

বাণী

টলমল টলে হৃদয়-সরসী।
নীর ভরণে এলে কে ষোড়শী।।
এলে কি নাহিতে, পরশ চাহিতে
এলে কি অলস তরণী বাহিতে,
এলে কি ভুলিতে কমল তুলিতে —
	আমার স্বপন-মানসী।।

কে বলে মোর মাকে কালো

বাণী

কে বলে মোর মাকে কালো, মা যে আমার জ্যোতির্মতী।
কোটি চন্দ্র সূর্য তারা নিত্য করে যার আরতি।।
	কালো রূপের মায়া দিয়ে
	মহামায়া রয় লুকিয়ে,
মায়ের শুভ্ররূপ দেখেছে শুভ্র শুচি যার ভকতি।।
যোগীন্দ্র যাঁর চরণ-তলে ধ্যান করে রে যাঁর মহিমা,
দু’টি নয়ন-প্রদীপ জ্বেলে খুঁজি সেই অসীমার সীমা।
	সাজিয়ে কালী গৌরী মাকে
	পূজা করি তমসাকে,
মায়ের শুভ্ররূপ দেখেছে শুভ্র শুচি যার ভকতি।।

স্বপনের ফুলবনে যেদিন দেখিনু

বাণী

স্বপনের ফুলবনে যেদিন দেখিনু রূপরানী তোমায়।
চকিতে ঐ চোখে তোমার শরমের কোন হাসি লুকায়।।
নিরালার কুঞ্জ বীথিকায় সে প্রথম প্রেম নিবেদনে
দেখেছি ঐ অধর কোণে সে-ভীরু কোন হাসি পালায়।।
বিদায়ের সে-বেদন বেলায় মানা না মানলে আঁখি-জল
ভোরে ম্লান চাঁদসম সখি বিমলিন কোন হাসি লুকায়।।
আজ আর নাই হাসি খেলা নিভেছে সে-উজল আলো
ভাবি আজ সব চেয়ে তোমার ভুলালো কোন্‌ হাসি আমায়।।

চুড়ির তালে নুড়ির মালা

বাণী

চুড়ির তালে নুড়ির মালা রিনিঝিনি বাজে লো –
খোঁপায় দোলে বুনো ফুলের কুঁড়ি।
কালো ছোঁড়ার কাঁকাল ধ’রে নাচে মাতাল ছুঁড়ি লো।।
মহুয়া মদের নেশা পিয়ে বুঁদ হয়েছে বৌয়ে–ঝিয়ে
চাঁদ ছুটছে মনকে নিয়ে
ডুরি ছেঁড়া ঘুড়ি (যেন) লো।।
বাজে নুপূর পাঁইজোড় সারা গায়ে নাচের ঘোর
ওলো লেগেছে, মন হ’ল নেশায় বিভোর;
ওই আকাশে চাঁদ হের মেঘের সাথে যেন করে খুনসুড়ি লো।।

কুলের আচার নাচার হয়ে আছিস কেন

বাণী

কুলের আচার নাচার হয়ে আছিস কেন শিকায় ঝুলে
কাচের জারে বেচারা তুই মরিস কেন ফেঁপে ফু’লে।।
কাঁচা তেঁতুল পেয়ারা আম
ডাঁশা জামরুল আর গোলাপ জাম —
যেমনি তোরে দেখিলাম অমনি সব গেলাম ভুলে।।

নাটিকাঃ ‘পুতুলের বিয়ে’

গগনে সঘন চমকিছে দামিনী

বাণী

গগনে সঘন চমকিছে দামিনী
মেঘ-ঘন-রস রিমঝিম বরষে।
একেলা ভবনে বসি’ বাতায়নে
পথ চাহে বিরহিণী কামিনী।।
পূবালি পবন বহে দাদুরি ডাকে,
অভিসারে চলে খুঁজে’ কাহাকে।
বৈরাগিনী সাজে উন্মনা যামিনী।।