বাদল-মেঘের মাদল-তালে

বাণী

বাদল-মেঘের মাদল-তালে ময়ূর নাচে দু’লে দু’লে।
আকাশে নাচে মেঘের পরী বিজ্‌লি-জরীন্ ফিতা পড়ে খুলে’।।
	কদম্ব-ডালে ঝুলনিয়া ঝুলায়ে
	বনের বেণী কেয়াফুল দুলায়ে,
তাল তমাল বনে কাজল বুলায়ে — বর্ষারানী নাচে এলোচুলে।।
	তরঙ্গ-রঙ্গ নাচে নটিনী
	ভরা-যৌবন ভাদর-তটিনী,
পরি’ ফুলমালা নাচে বনমালা — সবুজ সুধার লহর তু’লে।।

ফুল চাই চাই ফুল টগর চম্পা চামেলি

বাণী

ফুল চাই — চাই ফুল — টগর চম্পা চামেলি
ফিরি ফুলওয়ালী নিয়ে ফুল ডালি —
	মল্লিকা মালতী যুঁই বেলি।।
যার প্রাণে বিরহ জ্বালা
লহ এ অশোক মাধবী মালা,
এ হাস্নুহানা নেবে যে বালা —
	কাটিবে জীবন তার হাসি খেলি।।
মোর এই বকুল মালা পরে যে আদর ক’রে
বঁধু তার ব্যাকুল হয়ে ফিরিয়া আসে ঘরে।
আমার এই পলাশ জবা রঙন ও কৃষ্ণচূড়া
বিনোদ বেণীতে খোঁপায় পরে নববধূরা,
শুনি মোর ফুলের বাণী সন্ধ্যারানী পরে গোধূলি রাঙা চেলি।।

শ্যাম-সুন্দর-গিরিধারী

বাণী

শ্যাম-সুন্দর-গিরিধারী।
মানস মধু-বনে মধুমাধবী সুরে মুরলী বাজাও বনচারী।।
মধুরাতে হে হৃদয়েশ মাধবী চাঁদ হয়ে এসো,
হৃদয়ে তুলিও ভাবেরই উজান রস-যমুনা-বিহারী।।
অন্তর মন্দিরে প্রীতি ফুলশয্যায় বিলাস কর লীলা-বিলাসী,
আঁখির প্রদীপ জ্বালি' শিয়রে জাগিয়া রব শ্যাম, তব রূপ-পিয়াসি।
যত সাধ আশা গেল ঝরিয়া, পর তাই গলে মালা করিয়া;
নূপুর করিব তব চরণে গাঁথি' মম নয়নের বারি।।

এ ঘোর শ্রাবণ-নিশি কাটে কেমনে

বাণী

এ ঘোর শ্রাবণ-নিশি কাটে কেমনে।
রহি’ রহি’ সেই মুখ পড়িছে মনে।।
	বিজলিতে সেই আঁখি
	চমকিছে থাকি’ থাকি’
শিহরিত এমনি সে বাহু-বাঁধনে।।
শন শন বহে বায় সে কোথায় সে কোথায়
নাহি নাহি ধ্বনি শুনি উতল পবনে হায়
চরাচর দুলিছে অসীম রোদনে।।

ও কে মুঠি মুঠি আবীর কাননে ছড়ায়

বাণী

ও কে মুঠি মুঠি আবীর কাননে ছড়ায়
রাঙা-হাসির পরাগ-ফুল আননে ঝরায়।।
তার রঙের আবেশ লাগে চাঁদের চোখে
তার লালসার রঙ জাগে রাঙা অশোকে
তার রঙিন নিশান দোলে কৃষ্ণ চূড়ায়।।
তার পুষ্প ধনু দোলে শিমূল শাখায়
তার কানা কাঁপে গো ভোমরা পাখায়,
সে খোঁপাতে বেল-ফুলের মালা জড়ায়।।
সে কুসমী শাড়ি পরায় নীল বসনায়
সে আঁধার মনে জ্বালে লাল রোশনাই
সে শুকনো বনে ফাগুন আগুন ধরায়।।

একটুখানি দাও অবসর বসতে কাছে

বাণী

একটুখানি দাও অবসর বসতে কাছে,
তোমায় আমার অনেক যুগের অনেক কথা বলার আছে।।
গ্রহ ঘিরে উপগ্রহ, ঘোরে যেমন অহরহ;
আমার আকুল এ বিরহ তেমনি প্রিয় তোমায় যাচে॥
চিরকালই রইলে তুমি আমার পাওয়ার বহুদূরে
আজকে ক্ষণিক কইব কথা সকরুণ গানের সুরে।
করব পূজা গানে গানে, চাইব না আর নয়ন পানে;
আমার চোখের অশ্রুলেখা দেখে তুমি চেন পাছে॥