বাণী
কেন চঞ্চল অঞ্চল দুলিয়া ওঠে রহি’ রহি’। মুহু মুহু কুহু কুহু কুহু যে কহে এলে কে বিরহী।। কেন নূপুর বেজে ওঠে ছন্দে দোলা লাগে অঙ্গে আনন্দে, দখিন হাওয়া কেন অধীর হল হেন — কুসুমের কানে যায় কি কথা কহি’।।
রাগ ও তাল
রাগঃ
তালঃ
কেন চঞ্চল অঞ্চল দুলিয়া ওঠে রহি’ রহি’। মুহু মুহু কুহু কুহু কুহু যে কহে এলে কে বিরহী।। কেন নূপুর বেজে ওঠে ছন্দে দোলা লাগে অঙ্গে আনন্দে, দখিন হাওয়া কেন অধীর হল হেন — কুসুমের কানে যায় কি কথা কহি’।।
রাগঃ
তালঃ
বাজে মঞ্জুল মঞ্জির রিনিকি ঝিনি নীর ভরণে চলে রাধা বিনোদিনী তার চঞ্চল নয়ন টলে টলমল যেন দু'টি ঝিনুকে ভরা সাগর জল।। ও সে আঁখি না পাখি গো রাই ইতি-উতি চায় কভু তমাল-বনে কভু কদম-তলায়। রাই শত ছলে ধীরে পথ চলে কভু কন্টক বেঁধে চরণে তবু যে কাঁটা-লতায় আঁচল জড়ায় বেণী খুলে যায় অকারণে। গিয়ে যমুনার তীরে চায় ফিরে ফিরে আনমনে ব'সে গণে ঢেউ চকিতে কলসি ভরি’লয় তার যেই মনে হয় আসে কেউ। হায় হায় কেউ আসে না “ভোলো অভিমান রাধারানী” বলি’ শ্যাম এসে সম্ভাষে না। রাই চলিতে পারে না পথ আর, বিরস বদন অলস চরণ শূন্য-কলসি লাগে ভার। বলি,কালা নাহি এলো যমুনা তো ছিল লইয়া শীতল কালো জল। কেন ডুবিয়া সে-কলে উঠিলি আবার কাঁদায়ে ভাসাতে ধরাতল।।
রাগঃ
তালঃ ফের্তা (দাদ্রা ও কাহার্বা)

পথে কি দেখলে যেতে আমার গৌর দেবতারে। যা’রে কোল যায় না দেওয়া, কোল দেয় সে ডেকে তারে।। নবীন সন্ন্যাসী সে রূপে তার পাগল করে আঁখির ঝিনুকে তা’র অবিরল মুক্তা ঝরে। কেঁদে সে কৃষ্ণের প্রেম ভিক্ষা মাগে দ্বারে দ্বারে।। জগতের জগাই-মাধাই মগ্ন যারা পাপের পাঁকে সকলের পাপ নিয়ে সে সোনার গৌর-অঙ্গে মাখে। উদার বক্ষে তাহার ঠাঁই দেয় সকল জাতে দেখেছ প্রেমের ঠাকুর সচল জগন্নাথে? একবার বললে হরি যায় নিয়ে সে ভবপারে।।
রাগঃ
তালঃ ফের্তা (দাদ্রা ও কাহার্বা)

আমার সকলি হরেছ হরি এবার আমায় হ’রে নিও। যদি সব হরিলে নিখিল-হরণ তবে ঐ চরণে শরণ দিও।। আমায় ছিল যারা আড়াল ক’রে হরি তুমি নিলে তাদের হ’রে, ছিল প্রিয় যারা গেল তারা (হরি) এবার তুমিই হও হে প্রিয়।।
রাগঃ আশাবরী / জৌনপুরী
তালঃ কাওয়ালি

ছি ছি ছি কিশোর হরি, হেরিয়া লাজে মরি সেজেছ এ কোন রাজ সাজে যেন সঙ্ সেজেছ, হরি হে যেন সঙ্ সেজেছ — ফাগ মুছে তুমি পাপ বেঁধেছ হরি হে যেন সঙ্ সেজেছ; সংসারে তুমি সঙ্ সাজায়ে নিজেই এবার সঙ্ সেজেছ। বামে শোভিত তব মধুরা গোপিনী নব সেথা মথুরার কুবুজা বিরাজে। মিলেছে ভাল, বাঁকায় বাঁকায় মিলেছে ভাল, ত্রিভঙ্গ অঙ্গে কুবুজা সঙ্গে বাঁকায় বাঁকায় মিলেছে ভাল। হরি ভাল লাগিল না বুঝি হৃদয়-আসন তাই সিংহাসনে তব মজিয়াছে মন প্রেম ব্রজধাম ছেড়ে নেমে এলে কামরূপ হরি, এতদিনে বুঝিলাম তোমার স্বরূপ তব স্বরূপ বুঝি না হে গোপাল রূপ ফেলে ভূপাল রূপ নিলে স্বরূপ বুঝি না হে। হরি মোহন মুরলী কে হরি’ নিল কুসুম কোমল হাতে এমন নিঠুর রাজদন্ড দিল মোহন মুরলী কে হরি। দন্ড দিল কে, রাধারে কাঁদালে বলে দন্ড দিল কে দন্ডবৎ করি শুধাই শ্রীহরি দন্ড দিল কে রাঙা চরণ মুড়েছে কে সোনার জরিতে খুলে রেখে মধুর নূপুর, হরি হে খুলে রেখে মধুর নূপুর। হেথা সবাই কি কালা গো ? কারুর কি কান নাই নূপুর কি শোনে নাই, সবাই কাল গো কালায় পেয়ে হল হেথায় সবাই কি কালা গো। তব এ রূপ দেখিতে নারি, হরি আমি ব্রজনারী, ফিরে চল তব মধুপুর সেথা সকলি যে মধুময়, অন্তরে মধু বাহিরে মধু সেথা সকলি যে মধুময় — ফিরে চল হরি মধুপুর।
রাগঃ
তালঃ ফের্তা

ছাড়িয়া যেও না আর। বিরহের তরী মিলনের ঘাটে লাগিল যদি আবার।। কত সে-বিফল জনমের পর পথ-চাওয়া মোর ফিরে এলে ঘর, এলো শুভ দিন, কাটিল অসহ রাতের অন্ধকার।। দেবতা গো ফিরে চাও, মোর বেদনার তপস্যা-শেষ, মিলনের বর দাও। ল’য়ে জীবনের সঞ্চিত ব্যথা তোমার চরণে হলাম প্রণতা, লহ পূজা মোর নয়নের লোর শীর্ণা তনুর হার।।
রাগঃ
তালঃ