আরক্ত কিংশুক কাঁপে

বাণী

আরক্ত কিংশুক কাঁপে, মালতীর বক্ষ ভরি’
চন্দ্রের অমৃত স্পর্শে উঠিতেছে শিহরি’ শিহরি’।।
		নীরব কোকিলের গুঞ্জন
চৈত্র পূর্ণিমা রাত্রি, বাড়িয়াছে বক্ষের স্পন্দন,
মোদের নাচের নূপুরের ছন্দ কভু চপল কভু মৃদুমন্দ,
বসন্ত-উৎসব সজ্জা অন্তরাল হতে মৃদু ভাষে
সুন্দর গুঞ্জন ধ্বনি কেন ভেসে আসে।
মমতার মধু-বিন্দু ক্ষরিল মোরা মধু খেয়ে বলিলাম — আহা মরি।।
ধরণীর অঙ্গ হতে বাসরের সজ্জা পড়ে খুলি’
গভীর আনন্দে মোরা চাহি দুটি আঁখি তুলি,
চৈত্রের পূর্ণিমা রাত্রি এলো ফিরি
প্রিয় তুমি কেন চ’লে গেলে ধীরি ধীরি।
তুমি ফিরে এলে মোরা লভিতাম অমৃতের স্বাদ চন্দ্রের অমিয়া পান করি।।

নাটক : ‘মদিনা’

যা সখি যা তোরা গোকুলে ফিরে

বাণী

যা সখি যা তোরা গোকুলে ফিরে।
যে পথে শ্যামরায় চ’লে গেছে মথুরায়
কাঁদিতে দে ল’য়ে সেই পথ ধূলিরে॥
এ তো ধূলি নয়, ধূলি নয়
হরি-চরণ-চিহ্ন-আঁকা এ যে হরি-চন্দন ধূলি নয়, ধূলি নয়
এই ধূলি মাখিয়া,
হ’য়ে পাগলিনী ফিরিব ‘শ্যাম শ্যাম’ ডাকিয়া।
হব যোগিনী এই ধূলি-তিলক-আঁকিয়া॥ (সখি গো)
শুনিয়াছি দূতি মুখে, প্রিয়তম আছে সুখে সেই মম পরম প্রসাদ।
ভুলিয়া এ রাধিকায়, সে যদি সুখ পায় তার সে সুখে সাধিব না বাদ॥
আমার দীরঘ শ্বাসে উৎসব-বাতি তার যদি নিভে যায়।
তাই ওলো ললিতা আমি হব ধূলি-দলিতা যাব না লো তার মথুরায়॥
আমি মথুরায় যাব, না গেলে মথুরাতে মোর শ্যামে আর ফিরে পাব না। (সখি গো)
হারানো মানিক কভু ফিরে লোকে পায়
হারানো হৃদয় ফিরে নাহি পাওয়া যায়॥

এসো বঁধু ফিরে এসো

বাণী

এসো বঁধু ফিরে এসো, ভোলো ভোলো অভিমান।
দিব ও-চরণে ডারি’ মোর তনু মন প্রাণ।।
	জানি আমি অপরাধী
	তাই দিবানিশি কাঁদি’,
নিমেষের অপরাধের কবে হবে অবসান।।
	ফিরে গেলে দ্বারে আসি’
	বাসি কিনা ভালোবাসি,
কাঁদে আজ তব দাসী — তুমি তার হৃদে ধ্যান।।
	সে-দিন বালিকা-বধূ
	শরমে মরম-মধু,
পি’য়াতে পারিনি বঁধু — আজ এসে কর পান।।
	ফিরিয়া আসিয়া হেথা
	দিও দুখ দিও ব্যথা,
সহে না এ নীরবতা — হে দেবতা পাষাণ।।

হায় আঙিনায় সখি আজো সেই চাঁপা ফোটে

বাণী

হায় আঙিনায় সখি আজো সেই চাঁপা ফোটে।
হায় আকাশে সখি আজো কি সেই চাঁদ ওঠে।।
	সখি তাহার হাতের হেনা গাছে
	বুঝি প্রথম মুকুল ধরিয়াছে।
হায় যমুনায়, বাঁশি বাজে কি আর ছায়ানটে।।
শিয়রে জানালা খুলে দে বাহিরে চাহিয়া দেখি
আমার বাগানে আবার বসন্ত আসিয়াছে কি?
দেখি সে ডালিম ফুলে হায় আছে কি সে রঙ আগেকার।
ও-বাড়ির ছাদের টবে সই বেলফুল ফুটলো কি আবার?
	আজি আসিবে সে মনে লাগে
	তারি আসার আভাস মনে জাগে
হায় বুঝি তাই, মোর মরণ মধুর হয়ে ওঠে।।

চম্‌’কে চম্‌’কে ধীর ভীরু পায়

বাণী

চম্‌’কে চম্‌’কে ধীর ভীরু পায়,
পল্লী–বালিকা বন–পথে যায় একেলা বন–পথে যায়।।
শাড়ি তার কাঁটা লতায়, জড়িয়ে জড়িয়ে যায়,
পাগল হাওয়াতে অঞ্চল ল’য়ে মাতে —
		যেন তার তনুর পরশ চায়।।
শিরীষের পাতায় নূপুর, বাজে তার ঝুমুর ঝুমুর,
কুসুম ঝরিয়া মরিতে চাহে তার কবরীতে,
		পাখী গায় পাতার ঝরোকায়।।
চাহি’ তা’র নীল নয়নে, হরিণী লুকায় বনে,
হাতে তা’র কাঁকন হ’তে মাধবী লতা কাঁদে,
		ভ্রমরা কুন্তলে লুকায়।।

মদির অধীর দখিন হাওয়া

বাণী

মদির অধীর দখিন হাওয়া।
ফিরে গেল, এলো না (মোর) পথ-চাওয়া।।
ফুরাইয়া যায় পরানের ফাগুন, আসিল না জীবন-দেবতা,
ঝরা পল্লব-প্রায় সাধ আশা ঝ’রে যায় শুকাল এ তনু-লতা।
শ্রান্ত গানের পাখি ডেকে ডেকে চ’লে যায় চির-বসন্ত যথা।।
আকাশে আজিও ঝরে জোছনার-ঝর্না,
তুমি আসিবে বলি’ এ দেহ চাঁপার কলি আজও আছে বঁধু চন্দন-বর্ণা।
নিরাশায় সায়রে আজিও একটি দু’টি কুসুম ফোটে,
কৃষ্ণা-তিথি, তবু আধেক রাতের পরে আজও চাঁদ ওঠে।
এ চাঁদ উঠিবে না, এ ফুল ফুটিবে না আর এ জীবন-তটে।।
	এসো ফিরে, এসে লহ প্রিয়তম
	তোমারে নিবেদিত অঞ্জলি মম,
রূপের প্রেমের অঞ্জলি মম — এসো ফিরে, এসে লহ প্রিয়তম।।