আমি কেমন ক’রে কোথায় পাব

বাণী

আমি	কেমন ক’রে কোথায় পাব কৃষ্ণ চাঁদের দেখা।
	অন্ধকারে খুঁজি তাঁহার ব্রজের পথ-রেখা।।
		মেঘে ঢাকা আকাশ সম
		পাপে মলিন হৃদয় মম
	সে-আকাশে উঠবে কি সে কৃষ্ণ-শশী-লেখা।।
		অশান্ত তার বেণু বাজে
		আমার ব্যাকুল বুকের মাঝে,
	(আমি) শুনেছি, সে ডাকে তা’রেই যে বিরহী একা।।

নাটক : ‘বিল্বমঙ্গল’ (বিল্বমঙ্গলের গান)

প্রদীপ নিভায়ে দাও উঠিয়াছে চাঁদ

বাণী

প্রদীপ নিভায়ে দাও, উঠিয়াছে চাঁদ।
বাহুর ডোর১ আছে, মালায় কি সাধ।।
ফুল আনিও না ভবনে
কেশের সুবাস তব ঘনাক মনে,
হৃদয়ের লাগি মোর হৃদয় কাঁদে চন্দন লাগে বিস্বাদ।।
খোলো গুণ্ঠন, ফেলে দাও আভরণ,
হাতে রাখ হাত, তোলো আনত নয়ন।
বাহিরে বহুক বাতাস
বক্ষে লাগুক মোর তব ঘন শ্বাস,
চম্পার ডালে ব’সে মোদেরে দেখে,
কুহু আর পাপিয়ায় করুক বিবাদ।।

১. বাহু-বন্ধন

সন্ধ্যা-আঁধারে ফোটাও দেবতা

বাণী

সন্ধ্যা-আঁধারে ফোটাও দেবতা, শুভ্র রজনীগন্ধা।
নিরাশা-শুষ্ক পরানে বহাও প্রেমের অলকানন্দা।।
	অশ্রু-জলের অকূল সায়রে
	ফুটুক কমল তব শুভ্র বরে
বেদনা-আহত কবির চিত্তে বাণী দাও মধু-ছন্দা।।
	দুঃখ আসিলে, সে-দুখ ভুলিলে
	দাও আনন্দ দুঃখীর চিতে,
আঁধার-গহন নিবিড় নিশীথে ভাঙিয়ো না সুখ-তন্দ্রা।।

শ্যাম-সুন্দর-গিরিধারী

বাণী

শ্যাম-সুন্দর-গিরিধারী।
মানস মধু-বনে মধুমাধবী সুরে মুরলী বাজাও বনচারী।।
মধুরাতে হে হৃদয়েশ মাধবী চাঁদ হয়ে এসো,
হৃদয়ে তুলিও ভাবেরই উজান রস-যমুনা-বিহারী।।
অন্তর মন্দিরে প্রীতি ফুলশয্যায় বিলাস কর লীলা-বিলাসী,
আঁখির প্রদীপ জ্বালি' শিয়রে জাগিয়া রব শ্যাম, তব রূপ-পিয়াসি।
যত সাধ আশা গেল ঝরিয়া, পর তাই গলে মালা করিয়া;
নূপুর করিব তব চরণে গাঁথি' মম নয়নের বারি।।

কাছে আমার নাইবা এলে হে বিরহী

বাণী

কাছে আমার নাইবা এলে হে বিরহী দূর ভালো।
নাই কহিলে কথা তুমি ব'লো গানে সুর ভালো।।
	নাই দাঁড়ালে কাছে আসি'
	দূরে থেকেই বাজিয়ো বাঁশি।
চরণ তোমার নাই বা পেলাম চরণের নূপুর ভালো।।
ওগো পথে পাওয়ার চেয়ে আমায় চাওয়ায় যেন পথ-বঁধু
দুই কূলেতে রইব দুজন বইবে মাঝে স্রোত-বঁধূ।
	পরশ তোমার চাই না প্রিয়
	তোমার হাতের আঘাত দিও
মিলন তোমার সইতে নারি বেদনা-বিধুর ভালো।।

পিয়া গেছে কবে পরদেশ

বাণী

পিয়া গেছে কবে পরদেশ পিউ কাঁহা ডাকে পাপিয়া,
দোয়েল শ্যামার শিসে তারি হুতাশ উঠিছে ছাপিয়া।।
	পাতারি আড়ালে মুখ ঢাকি'
	মুহুমুহু কুহু ওঠে ডাকি,
বাজে ধ্বনি তারি উহু উহু বিরহী পরাণ ব্যাপিয়া।।
	'বউ কথা কও' পাখি ডাকে —
	কেন মনে প'ড়ে যায় তাকে,
কথা কও বউ — ডাকিত সে মোরে, নিশীথ উঠিত কাঁপিয়া।।