কেন চাঁদিনী রাতে মেঘ আসে ছায়া ক’রে

বাণী

কেন চাঁদিনী রাতে মেঘ আসে ছায়া ক’রে।
সুখের বাসরে কেন, প্রাণ ওঠে বিষাদে ভ’রে।।
কেন মিলন রাতে, সলিল আঁখি পাতে,
কেন ফাগুন প্রাতে, সহসা বারি ঝরে।।
ডাকিয়া ফুলবনে, থাকে সে আনমনে,
কাঁদায় নিরজনে, কাঁদে কে কিসের তরে।।

ফিরে ফিরে দ্বারে আসে যায়

বাণী

ফিরে ফিরে দ্বারে আসে যায় কে নিতি।
তার অধরে হাসি আর নয়নে প্রীতি।।
দোদুল্ তাহার কায়া ঘনায় চোখে মায়া,
জেগে ওঠে দেখে তা’য় পুরানো স্মৃতি।।
তাহার চরণ-পাতে তাহার সাথে সাথে,
আসে আঁধার রাতে শুক্লা চাঁদের তিথি।।
গেলে মন দিতে চাহে না সে নিতে,
ধরিতে গেলে চোখে সে কী তার ভীতি।।
ডাকি প্রিয় ব’লে তবু যায় সে চ’লে,
পায়ে পায়ে দ’লে হৃদয় ফুল-বীথি।।

জহরত পান্না হীরার বৃষ্টি

বাণী

পুরুষ	:	জহরত পান্না হীরার বৃষ্টি
		তব হাসি-কান্না চোখের দৃষ্টি
		তারও চেয়ে মিষ্টি মিষ্টি মিষ্টি॥
স্ত্রী	:	কান্না-মেশানো পান্না নেবো না, বঁধু।
		এই পথেরই ধূলায় আমার মনের মধু
		করে হীরা মানিক সৃষ্টি মিষ্টি আরো মিষ্টি॥
পুরুষ	:	সোনার ফুলদানি কাঁদে লয়ে শূন্য হিয়া
		এসো মধু-মঞ্জরি মোর! এসো প্রিয়া, প্রিয়া!
স্ত্রী	:	কেন ডাকে বউ কথা কও, বউ কথা কও,
		আমি পথের ভিখারিনী গো, নহি ঘরের বউ।
		কেন রাজার দুলাল মাগে মাটির মউ।
		বুকে আনে ঝড়, চোখে বৃষ্টি তার সকরুণ দৃষ্টি তবু মিষ্টি॥

সিনেমাঃ চৌরঙ্গী

ফণির ফণায় জ্বলে মণি

বাণী

ফণির ফণায় জ্বলে মণি কে নিবি তাহারে আয়।
মণি নিতে ডরে না কে ফণির বিষ জ্বালায়।।
করেছে মেঘ উজালা বজ্র মানিক মালা,
সে-মালা নেবে কি কালা মরিয়া অশনি যায়।।

নাটক : ‘মহুয়া’

তেমনি চাহিয়া আছে

বাণী

তেমনি চাহিয়া আছে নিশীথের তারাগুলি।
লতা-নিকুঞ্জে কাঁদে আজও বন-বুলবুলি —
	ফিরে এসো, ফিরে এসো প্রিয়তম।।
ঘুমায়ে পড়েছে সবে, মোর ঘুম নাহি আসে
তুমি যে ঘুমায়ে ছিলে সেদিন আমার পাশে,
সাজানো সে-গৃহ তব ঢেকেছে পথের ধূলি —
	ফিরে এসো, ফিরে এসো প্রিয়তম।।
আমার চোখের জলে মুছে যায় পথ-রেখা
রোহিণী গিয়াছে চলি’, চাঁদ কাঁদে একা একা,
কোন্ দূর তারা-লোকে কেমনে রয়েছে ভুলি’ —
	ফিরে এসো, ফিরে এসো প্রিয়তমা।।

পিয়া পিয়া পিয়া পাপিয়া পুকারে

বাণী

পিয়া পিয়া পিয়া পাপিয়া পুকারে।
চোখ গেল বিরহিণীর বধূর মনের কথা —
	কাঁদিয়া বেড়ায় বাদল-আঁধারে॥
প্রথম বিরহ অল্প-বয়সী
ভুলি’ গৃহকাজ রহে বাতায়নে বসি’,
পাখির পিয়া-স্বর বুকে তার তোলে ঝড় —  
	অঞ্চলে আঁখি-জল মোছে বারে বারে ॥
পরেনি বেশ, বাঁধেনি কেশ ম্লান-মুখী দীপালিকা,
নীরব দেহে যেন শুকায়ে যায় ওগো মালতীর মালিকা।
বনের বিহঙ্গ ছাড়ি’ বিহগীরে
যায় না বিদেশে, রহে সুখ-নীড়ে,
বলো কেমনে, ওগো প্রেমের বিধাতা —
	বিরহ-দাহ সহি’ হিয়ার মাঝারে ॥