উপল নুড়ির কাঁকন চুড়ি বাজে

বাণী

উপল নুড়ির কাঁকন চুড়ি বাজে
	বাজে ঘুমতি নদীর জলে।
বুনো হাঁসের পাখার মত মন যে ভেসে চলে
	সেই ঘুমতি নদীর জলে।।
মেঘ এসেছে আকাশ ভ'রে —
যেন শ্যামল ধেনু চরে
নাগিনীর সম বিজলি-ফনা তুলে
	নাচে,নাচে নাচে রে।
	মেঘ-ঘন গগন তলে।।
পাহাড়িয়া অজগর ছুটে আসে ঝর্‌ ঝর্‌ বেনো-জল্‌
দিয়ে করতালি প'রে পিয়াল পাতার মাথালি
ছিটায় জল,গেঁয়ো কিশোরীর দল।
রিনিক,ঝিনিক,বাজে চাবি আঁচলে
কাল নাগিনীর মত পিঠে বেনী দোলে
তীর-ধনুক হাতে বন-শিকারির সাথে
	মন ছুটে যায় বনতলে।।

এসো মা পরমা শক্তিমতী

বাণী

এসো মা পরমা শক্তিমতী।
দাও শ্রী দাও কান্তি-আনন্দ-শান্তি অন্তরে বাহিরে দিব্য জ্যোতি।।
	দাও অপরাজেয় পৌরুষ শক্তি
	দাও দুর্জয় শৌর্য পরা-ভক্তি,
দাও সূর্য সম তেজ প্রদীপ্ত প্রাণ ঝঞ্ঝার সম বাধাহীন গতি।।
	এসো মা পরম অমৃতময়ী,
	নির্জিত জাতি হোক মৃত্যুজয়ী।
	পরম জ্ঞান দাও পরম অভয়
	রূপ-সুন্দর তনু প্রাণ প্রেমময়,
আকাশের মত দাও মুক্ত জীবন সকল কর্মে হও তুমি সারথি।।

খেলিছে জলদেবী সুনীল সাগর জলে

বাণী

খেলিছে জলদেবী সুনীল সাগর জলে।
তরঙ্গ - লহর তোলে লীলায়িত কুন্তলে।।
ছল-ছল উর্মি-নূপুর
স্রোত-নীরে বাজে সুমধুর,
চল-চঞ্চল বাজে কাঁকন কেয়ূর
ঝিনুকের মেখলা কটিতে দোলে।।
আনমনে খেলে জল-বালিকা
খুলে পড়ে মুকুতা মালিকা
হরষিত পারাবারে উর্মি জাগে
লাজে চাঁদ লুকালো গগন তলে।।

পলাশ ফুলের মউ পিয়ে ঐ

বাণী

পলাশ ফুলের মউ পিয়ে ঐ বউ-কথা-কও উঠ্ল ডেকে।
শিশ্ দিয়ে যায় উদাস হাওয়া নেবু-ফুলের আতর মেখে।।
	এমন পূর্ণ চাঁদের রাতি
	নেই গো আমার জাগার সাথী,
ফুল-হারা মোর কুঞ্জ-বীথি — কাঁটার স্মৃতি গেছে রেখে।।
	শূন্য মনে এক্‌লা গুণি
	কান্না-হাসির পান্না-চুণী,
বিদায়-বেলার বাঁশি শুনি — আস্‌ছে ভেসে ওপার থেকে।।

১. শঙ্করা মিশ্র — দাদ্‌রা, ২. সাথে।

বন-কুন্তল এলায়ে বন শবরী ঝুরে

বাণী

বন-কুন্তল এলায়ে বন শবরী ঝুরে সকরুণ সুরে।
বিষাদিত ছায়া তার চৈতালী সন্ধ্যার চাঁদের মুকুরে।।
	চপলতা বিসরি যেন বন-যৌবন
	বিরহ-ক্ষীণ আজি উদাস উন্মন,
তোলে না ঝঙ্কার আর ঝরা পাতার মর্মর নূপুরে।।
যে কুহু কুহরিত মধুর পঞ্চমে বিভোর ভাবে,
ভগ্ন কণ্ঠে তার থেমে যায় সুর করুণ রেখাবে।
	কোন বন-শিকারীর অকরুণ তীর
	আলো হ’রে নিল ওই উজল আঁখির —
ফেলে যাওয়া বাঁশি তা’র অঞ্চলে লুকায়ে —
	গিরি–দরি–প্রান্তরে খোঁজে সে নিঠুরে।।

আজি কুসুম-দীপালি জ্বলিছে বনে

বাণী

আজি		কুসুম-দীপালি জ্বলিছে বনে।
জ্বলে		দীপ-শিখা আম্র-মুকুলে
রাঙা		পলাশ অশোকে বকুলে,
আসে		সে আলোর টানে বন-তল
		মৌমাছি প্রজাপতি দলে দল
পুড়ে		মরিতে সে রূপ-শিখাতে
প্রাণ		সঁপিতে বাসন্তিকাতে;
		পরিমল অঞ্জন মাখিয়া নয়নে
হের		ঝিমায় আকাশ চাঁদের স্বপনে।।
জ্বলে		গগনে তারার দীপালি
আজি		ধরাতে আকাশে মিতালি
ধরা		চাঁপার গেলাস ভরিয়া
মধু		উর্ধ্বে তুলে গো ধরিয়া
পান		করিতে সে মধু পরীরা
আসে		নেমে কাননে স-শরীরা;
		বাজে উৎসব বাঁশি গগনে পবনে
		হের ঝিমায় আকাশ চাঁদের স্বপনে।।