আমায় আঘাত যত হানবি শ্যামা

বাণী

আমায়		আঘাত যত হানবি শ্যামা ডাকব তত তোরে।
		মায়ের ভয়ে শিশু যেমন লুকায় মায়ের ক্রোড়ে।।
ওমা		চারধারে মোর দুখের পাথার
তুই		পরখ্ কত করবি মা আর,
আমি		জানি তবু পার হ’ব মা চরণতরী ধ’রে।।
আমি		ছাড়বো না তোর নামের ধেয়ান বিশ্বভুবন পেলে,
আমায়		দুঃখ দিয়ে নাম ভুলাবি, নই মা তেমন ছেলে।
		আমায় দুঃখ দেওয়ার ছলে
		তুই স্মরণ করিস পলে পলে,
আমি		সেই আনন্দে দুখের অসীম-সাগর যাব ত’রে।।

ওমা দনুজ-দলনী মহাশক্তি

বাণী

ওমা দনুজ-দলনী মহাশক্তি নমো অনন্ত কল্যাণ-দাত্রী (নমো)।
পরমেশ্বরী মহিষ-মর্দিনী চরাচর-বিশ্ব-বিধাত্রী (নমো নমঃ)।।
		সর্বদেব-দেবী তেজোময়ী
		অশিব-অকল্যাণ-অসুর-জয়ী,
দশভুজা তুমি মা, ভীতজন-তারিণী জননী জগৎ-ধাত্রী।।
দীনতা ভীরুতা লাজ গ্লানি ঘুচাও, দলন কর মা লোভ দানবে;
রূপ দাও, জয় দাও, যশ দাও, মান দাও, দেবতা কর ভীরু মানবে।
		শক্তি বিভব দাও, দাও মা আলোক
		দুঃখ-দারিদ্র্য অপগত হোক্‌,
জীবে জীবে হিংসা, এই সংশয় (মাগো) দূর হোক পোহাক এ দুর্যোগ রাত্রি।।

ওর নিশীথ-সমাধি ভাঙিও না

বাণী

ওর নিশীথ-সমাধি ভাঙিও না।
মরা ফুলের সাথে ঝরিল যে ধূলি-পথে —
সে আর জাগিবে না, তারে ডাকিও না।।
তাপসিনী-সম তোমারি ধ্যানে
সে চেয়েছিল তব পথের পানে,
জীবনে যাহার মুছিলে না আঁখি ধার আজি তাহার পাশে কাঁদিও না।।
মরণের কোলে সে গভীর শান্তিতে পড়েছে ঘুমায়ে,
তোমারি তরে গাঁথা শুকানো মালিকা বক্ষে জড়ায়ে
যে মরিয়া জুড়ায়েছে, ঘুমাইতে দাও তারে জাগিও না।।

ওরে মাঝি ভাই

বাণী

				ওরে মাঝি ভাই।
ও তুই, কি দুখ পেয়ে কূল হারালি অকূল দরিয়ায়॥
চোখের জল্ তুই ছাপাতে চাস্, নদীর জলে এসে,
শেষে নদীই এলো চক্ষে রে তোর; তুই চলিলি ভেসে।
ও তুই কলস দেখে নামলি জলে রে, এখন ডুবে দেখিস্ কলস নাই॥
	ও তুই কূলে যাহার কূল পেলিনে তরী অগাধ জলে
	মিছে খুঁজে মরিস ওরে পাগল, তরী বাওয়ার ছলে।
ও রে দুই ধারে এর চোরা বালি রে, (ও) তোর হেথায় মনের মানুষ নাই॥

নিশি-পবন নিশি-পবন

বাণী

নিশি-পবন! নিশি-পবন! ফুলের দেশে যাও
ফুলের বনে ঘুমায় কন্যা তাহারে জাগাও — যাও যাও যাও।।
মৌ-টুস্‌টুস্‌ মুখখানি তার ঢেউ-খেলানো চুল
(ওরে) ভোমরার ঝাঁক-ঘেরা যেন ভোরের পদ্ম-ফুল
হাসিতে তার মাঠের সরল বাঁশির আভাস পাও
				যাও যাও যাও।।
চাঁপা ফুলের পুত্‌লি-ঘেরা চাঁপা রঙের শাড়ি
তারেই দেখতে আকাশ-গাঙে (ওরে) চাঁদ দেয় রে পাড়ি।
তার একটুখানি চোখের আদল বাদল-মেঘে পাও।
				যাও যাও যাও।।
	ধীরে ধীরে জাগাইয়ো তায়
	ঝরা-কুসুম ফেলিয়া গায়
জাগলে কন্যা যেন রে মোর পত্রখানি দাও —
				যাও যাও যাও।।

ঐ নন্দন নন্দিনী দয়িতা চির-আনন্দিতা

বাণী

ঐ নন্দন নন্দিনী দয়িতা, চির-আনন্দিতা।
যেন প্রথম কবির প্রথম লেখা কবিতা ॥
	তব চরণের নূপুরধ্বনি
	মধুকর গুঞ্জর তোলে যে রণি,
মন মোর ভোলে হেরি তোমারে যে গো ঐ যে যৌবন-গর্বিতা ॥
	দোলায় দোদুল দুল তব নৃত্য
	আবেশে আকুল হয় মোর চিত্ত,
	নৃত্যশেষে তব পায়ের নূপুর
	গ্রহ তারকায় রয় আকাশের সুদূর,
সুরলোক উর্বশী তুমি যে আমার রও চির-অনিন্দিতা ॥