সই নদীর পারে বকুল তলায় সুবাস শীতল ছায়

বাণী

		সই নদীর পারে বকুল তলায় সুবাস শীতল ছায়
(সখি)	আকুল তাহার আঁখি দুটি কাহার পানে চায়॥
		সই যা না লো দাঁড়ায়ে, কাঁটা বিঁধেছে মোর পায়ে
		তোরা দাঁড়া সখি ক্ষণেক, (সখি) ওকি হাসিস্ কেন হায়॥
		আমার কলসিটি যে ভারি, ডালে বেঁধেছে মোর শাড়ি
		তোরা বলিস ছলে হেরি ওরে (ওলো) ছি ছি একি দায়!
		যদি হেরেই থাকি ওরে, তোরা দুষিস্ কেন মোরে
ওলো		আমার আমি বশে নাই মোর (পাগল) আঁখির নেশায়॥

ওরে সর্বনাশী মেখে এলি

বাণী

ওরে	সর্বনাশী! মেখে এলি এ কোন চুলোর ছাই!
	শ্মশান ছাড়া খেলার তোর জায়গা কি আর নাই॥
	মুক্তকেশী, কেশ এলিয়ে
ওমা	বেড়াস কখন কোথায় গিয়ে
আমি	এক নিমেষ তোকে নিয়ে (আমি) শান্তি নাহি পাই॥
ওরে	হাড়-জ্বালানী মেয়ে, হাড়ের মালা কোথায় পেলি,
	ভুবন-মোহন গৌরী রূপে কালি মেখে এলি!
তোর	গায়ের কালি চোখের জলে
আমি	ধুইয়ে দেব আয় মা কোলে;
তোরে	বুকে ধরেও মরি জ্ব’লে, আমি দিই মা গালি তাই॥

কমলা রূপিণী শক্তি-স্বরূপিণী

বাণী

কমলা রূপিণী, শক্তি-স্বরূপিণী
পতিব্রতা সতী ধর্ম-বিধায়িনী — সীতা, জয় সীতা।
জনক দুলারী রাজকুমারী
লব-কুশ-জননী, রাম-কী পিয়ারী — সীতা, জয় সীতা।।
	আওধ-প্রজাকুল শান্তি-বিধায়িনী
	পতি-অনুগামিনী, বন-বনচারিণী,
অশোক-কানন উজ্জ্বলকারিণী — সীতা, জয় সীতা।।
	বসুমতী-অঙ্ক সমুজ্জ্বল-কারিণী
	সতীকে তেজ-বল-অগ্নিনিবারণী,
সুখ-দুখমে পতি-চরম ভিখারিনী — সীতা, জয় সীতা।।

মায়ের চেয়েও শান্তিময়ী মিষ্টি বেশি মেয়ের চেয়ে

বাণী

	মায়ের চেয়েও শান্তিময়ী মিষ্টি বেশি মেয়ের চেয়ে
	চঞ্চলা এই লীলাময়ী মুক্তকেশী কালো মেয়ে।।
সে	মিষ্টি যত দুষ্টু তত এই কালো মেয়ে
	গিরিঝর্ণা সম এলো ধেয়ে এই পাবর্তী মেয়ে
	করুণা অমৃত ধারায় ভুবন ছেয়ে এলো এই কালো মেয়ে।।
	মাকে চোখে চোখে রাখি
	যদি কভু দেয় সে ফাঁকি
	আমি ভয়ে ভয়ে থাকি গো
	এই মায়াময়ী মেয়ে নিয়ে ভয়ে ভয়ে থাকি গো।
আমি	বহু সাধ্য-সাধনাতে পেয়েছি এই মা-কে রে
	কোটি জনম তপস্যাতে পেয়েছি এই মা-কে রে
	কোথায় রাখি, আমি কাঙালিনী
	কোথায় রাখি স্বর্গের এই রত্ন পেয়ে
আমি	কোথায় রাখি স্বর্গের এই রত্ন পেয়ে।।

শ্রীকৃষ্ণ রূপের করো ধ্যান অনুক্ষণ

বাণী

শ্রীকৃষ্ণ রূপের করো ধ্যান অনুক্ষণ
হবে নিমেষে সংসার-কালীয় দমন।।
	নব-জলধর শ্যাম
	রূপ যাঁর অভিরাম
(যাঁর)	আনন্দ ব্রজধাম লীলা নিকেতন।।
বিদ্যুৎ - বর্ণ পীতান্বরধারী,
বনমালা-বিভূষিত মধুবনারী;
গোপ-সখা গোপী-বঁধু মনোহারী
নওল-কিশোর তনু মদনমোহন।।

আজি জ্যোৎস্না বিজড়িত ফাল্গুনী

বাণী

উভয়ে	:	আজি জ্যোৎস্না বিজড়িত ফাল্গুনী রাতে।
		ল’য়ে মঞ্জুল-মল্লিকা মালিকা হাতে।।
		আজি এসেছি মোরা এসেছি
		দোঁহে মিলেছি বাহুপাশে হিন্দোলাতে।।
শ্যাম	:	আজি বিকশিত উন্মুখ চিত্ত
রাধা	:	দিছি পদতলে ঢালি সব বিত্ত
		দিছি তনুমন যৌবন রিক্ত আজি হে
শ্যাম	:	ঊষর প্রাণের এ চির-পিপাসা কর গো তারে সিক্ত
		আজি মিলন প্রেম-বারি পাতে।।
রাধা	:	থর কম্পিত হিয়া-পরে বাঞ্ছিত এসো গো
শ্যাম	:	মম স্পন্দিত বাহুপাশে নন্দিতা এসো গো
রাধা	:	আন অন্তরে নিবিড় চেতনা
		হর মন্তরে এ চির বেদনা
শ্যাম	:	এসো মালতী বল্লরি বিতানে
		এসো মিলন-পুলকিত প্রাণে
		চির উৎসুক বিরহ অবসানে
		নবপ্রেমে আজি প্রাণ মাতে।।