নূরের দরিয়ায় সিনান করিয়া

বাণী

নূরের দরিয়ায় সিনান করিয়া কে এলো মক্কায় আমিনার কোলে
ফাগুন-পূর্ণিমা-নিশীথে যেমন আস্‌মানের কোলে রাঙা চাঁদ দোলে।।
	কে এলো কে এলো গাহে কোয়েলিয়া,
	পাপিয়া বুল্‌বুল্‌ উঠিল মাতিয়া,
গ্রহতারা ঝুঁকে করিছে কুর্নিশ হুরপরী হেসে পড়িছে ঢ’লে।।
	জিন্নাতের আজ খোলা দরওয়াজা পেয়ে
	ফেরেশ্‌তা আম্বিয়া এসেছে ধেঁয়ে
	তাহ্‌রীমা বেঁধে ঘোরে দরুদ গেয়ে
	দুনিয়া টলমল্‌, খোদার আরশ টলে।।
	এলো রে চির-চাওয়া এলো আখেরি নবী
	সৈয়দে মক্কী মদনী আল্‌-আরবি,
	নাজেল হয়ে সে যে ইয়াকুত-রাঙা ঠোঁটে
	শাহ্‌দতের বাণী আধো আধো বোলে।।

বন্ধু রে বন্ধু — পরান বন্ধু

বাণী

		বন্ধু রে, বন্ধু — পরান বন্ধু
আমার	দূরের বন্ধু আছে আমার ঐ গাঙের পারের গাঁয়ে।
		ঝরা-পাতর পত্র আমার যায় ভেসে তার পায়ে।।
			জানি জানি আমার দেশে
			আমার নেয়ে আসবে ভেসে,
ওরে		চির ঋণী আছে সে যে আমার প্রেমের দায়ে।।
		নূতন আশার পাল তু সে আসবে ফিরে ঘরে
		ফুটেছে তাই কাশ-কুসুমের হাসি শুকনো চরে।
			পিদমি জ্বেলে তারি আশায়
			গহীন গাঙের স্রোতে ভাসায়
ওরে		ঐ পিদিমের পথ ধ'রে সে আসবে সোনার নায়ে।।

সখি কেন এত সাজিলাম যতন করি

বাণী

সখি কেন এত সাজিলাম যতন করি
জাগিয়া পোহাল হায় বিভাবরী।।
	চাহিতে মুকুর পানে
	সজ্জা লজ্জা হানে।
অভিমানে লুটাইয়া কাঁদে কবরী।।
সখি লুকায়ে হাসিবে সবে দেখিয়া মোরে
বল এ মুখ দেখাব আমি কেমন করে?
	সখি ঐ দেখ লোক জাগে
	কেহ জাগিবার আগে
নিয়ে চল যমুনাতে ডুবিয়া মরি।।

এসো মা ভারত-জননী আবার

বাণী

এসো	মা ভারত-জননী আবার জগৎ-তারিণী সাজে।
	রাজরানী মা’র ভিখারিনী বেশ দেখে প্রাণে বড় বাজে॥
		শিশু-জগতেরে মায়ের মতন,
		তুমি মা প্রথম করিলে পালন,
আজ	মাগো তোরই সন্তানগণ কাঁদিছে দৈন্য-লাজে॥
		আঁধার বিশ্বে তুমি কল্যাণী
		জ্বালিলে প্রথম জ্ঞান-দীপ আনি;
	হইলে বিশ্ব-নন্দিতা রানী নিখিল নর-সমাজে॥
		দেখা মা পুন সে অতীত মহিমা,
		মুছে দে ভীরুতা গ্লানির কালিমা,
	রাঙায়ে আবার দশদিক-সীমা দাঁড়া মা বিশ্ব-মাঝে॥

আসিলে এ ভাঙা ঘরে কে মোর রাঙা অতিথি

বাণী

আসিলে এ ভাঙা ঘরে কে মোর রাঙা অতিথি।
হরষে বরিষে বারি শাওন-গগন তিতি'।।
বকুল-বনের সাকি নটীন পুবালি হাওয়া
বিলায় সুরভি-সুরা মাতায় কানন-বীথি।।
তিতির শিখীর সাথে নোটন-কপোতী নাচে;
ঝিঁঝির ঝিয়ারি গাহে ঝুমুর কাজরি-গীতি।
হিঙুল হিজল-তলে ডাহুক পিছল-আঁখি,
বধূর তমাল-চোখে ঘনায় নিশীথ-ভীতি।
তিমির-ময়ুর আজি তারার পেখম খোলে
জড়ায় গগন-গলে চাঁদের ষোড়শী তিথি।।

আহার দেবেন তিনি রে মন

বাণী

		আহার দেবেন তিনি রে মন জিভ দিয়াছেন যিনি।
		তোরে সৃষ্টি ক'রে তোর কাছে যে আছেন তিনি ঋণী।।
		সারা জীবন চেষ্টা ক'রে,ভিক্ষা-মুষ্টি আনলি ঘরে
(ও মন)	তাঁর কাছে তুই হাত পেতে দেখ কি দান দেন তিনি।।
		না চাইতে ক্ষেতের ফসল পায় বৃষ্টির জল
		তুই যে পেলি পুত্র-কন্যা তোরে কে দিল তা বল।
		যাঁর করুণায় এত পেলি,তাঁরেই কেবল ভুলে গেলি
(তোর)	ভাবনার ভার দিয়ে তাঁকে ডাক রে নিশিদিন-ই।।