এসো আনন্দিতা ত্রিলোক-বন্দিতা

বাণী

এসো আনন্দিতা ত্রিলোক-বন্দিতা কর দীপান্বিতা আঁধার অবনি মা।
ব্যাপিয়া চরাচর শারদ অম্বর ছড়াও অভয় হাসির লাবনি মা।।
	সারাটি বরষ নিখিল ব্যথিত
	চাহিয়া আছে মা তব আসা-পথ,
ধরার সন্তানে ধর তব কোলে ভুলাও দুঃখ-শোক চির-করুণাময়ী মা।।
	অটুট স্বাস্থ্য দীর্ঘ পরমায়ু
	দাও আরো আলো নির্মল বায়ু,
দশ হাতে তব আনো মা কল্যাণ পীড়িত-চিত গাহে অকাল জাগরণী মা।।

এস হে সজল শ্যাম ঘন দেয়া

বাণী

এসো হে সজল শ্যাম-ঘন দেয়া 
বেণু-কুঞ্জ-ছায়ায় এসো তাল-তমাল বনে 
এসো শ্যামল ফুটাইয়া যূথী কুন্দ নীপ কেয়া।। 
বারিধারে এসো চারিধার ভাসায়ে 
বিদ্যুৎ ইঙ্গিতে দশদিক হাসায়ে 
বিরহী মনে জ্বালায়ে আশার আলেয়া 
ঘন দেয়া, মোহনীয়া, শ্যাম-পিয়া।। 
শ্রাবণ বরিষণ হরষণ ঘনায়ে 
এসো নব ঘন শ্যাম নূপুর শুনায়ে। 
হিজল তমাল ডালে ঝুলন ঝুলায়ে 
তাপিতা ধরার চোখে অঞ্জন বুলায়ে 
যমুনা স্রোতে ভাসায়ে প্রেমের খেয়া 
ঘন দেয়া, মোহনীয়া, শ্যাম-পিয়া।। 

চোখের জলে মন ভিজিয়ে যায় চলে

বাণী

চোখের জলে মন ভিজিয়ে যায় চলে ঐ কোন্ উদাসী।
বুকে কেন নীরব বীণা মুখে কেন নেইকো হাসি।।
	আকাশে চাঁদ তারার মেলা
	বনের পথে রঙের ডালা
তবু কেন আঁখিতে ওর উথলে পড়ে অশ্রুরাশি।।
	বনের হাওয়ায় বাজিয়ে বেণু,
	ছড়িয়ে চলে ফুলের রেণু
বিদেশিকে আন্‌না ডেকে সাধ হয়েছে ভালবাসি।।

১. ফুলেল হাওয়া

স্নিগ্ধ-শ্যাম-বেণী-বর্ণা

বাণী

স্নিগ্ধ-শ্যাম-বেণী-বর্ণা এসো মালবিকা
অর্জুন-মঞ্জরি-কর্ণে গলে নীপ-মালিকা, মালবিকা।।
ক্ষীণা তন্বী জল-ভার-নমিতা
শ্যাম জম্বু-বনে এসো অমিতা
আনো কুন্দ মালতী যুঁই ভরি থালিকা, মালবিকা।।
ঘন নীল বাসে অঙ্গ ঘিরে
এসো অঞ্জনা রেবা-নদীর তীরে।
পরি’ হংস-মিথুন আঁকা শাড়ি ঝিল্‌মিল্‌
এসো ডাগর চোখে মাখি সাগরের নীল
ডাকে বিদ্যুৎ ইঙ্গিতে দিগ্‌-বালিকা, মালবিকা।।

এই দেহেরই রঙমহলায় খেলিছেন

বাণী

এই দেহেরই রঙমহলায় খেলিছেন লীলা-বিহারী।
মিথ্যা মায়া নয় এ কায়া কায়ায় হেরি ছায়া তাঁরি।।
	রূপের রসিক রূপে রূপে
	খেলে বেড়ায় চুপে চুপে,
মনের বনে বাজায় বাঁশি মন-উদাসী বন-চারী।।
	তার খেলা-ঘর তোর এ দেহ
	সে ত নহে অন্য কেহ
সে যে রে তুই, — তবু মোহ ঘুচল না তোর হায় পূজারি।।
	খুঁজিস্ তারে ঠাকুর-পূজায়
	উপাসনায় নামাজ রোজায়,
চাল কলা আর সিন্নি দিয়ে ধর্‌বি তারে হায় শিকারি!
পালিয়ে বেড়ায় মন-আঙিনায় সে যে শিশু প্রেম-ভিখারি।।

কেহ বলে তুমি রূপ সুন্দর

বাণী

		কেহ বলে তুমি রূপ সুন্দর, কেহ বলে তুমি জ্যোতি!
		আমি জানি প্রভু তুমি যে আমার চির-জনমের পতি।।
			কেহ বলে তুমি চিরদিন দূরে রহ
			কেহ বলে, আছে অন্তরে অহরহ,
যার		যাহা সাধ ডাকে সেই নামে (প্রভু) তোমার নাহিক ক্ষতি।।
		অন্ধ দেখে না চন্দ্র-সূর্য তবু জানে আলো আছে,
(আমি) 	দেখিনি, তবুও তোমার প্রকাশ সহজ-আমার কাছে
			রূপ কি অরূপ কাহারেও নাহি দুষি,
			নাই দেখি ফুল সুরভি পেয়েই খুশি,
(আমি)		অঞ্জলি ভরি’ অমৃত চাই, পাত্রে নাহিক মতি।।