বনের তাপস কুমারী আমি গো

বাণী

বনের তাপস কুমারী আমি গো, সখি মোর বনলতা।
নীরবে গোপনে দুইজনে কই আপন মনের কথা।।
যবে 	গিরিপথে ফিরি সিনান করিয়া,
	লতা টানে মোর আঁচল ধরিয়া,
হেসে বলি, ওরে ছেড়ে দে, আসিছে তোদের বন-দেবতা।।
ডাকি যদি তারে আদর করিয়া — ওরে বন বল্লরি,
আনন্দে তার ফোটা ফুলগুলি অঞ্চলে পড়ে ঝরি'।
	লুকায়ে যখন মোর দেবতায়
	আবরিয়া রাখে কুসুমে পাতায়,
চরণে আমার (ও সে) আসিয়া জড়ায় যবে হই ধ্যানরতা।।

মসজিদে ঐ শোন্ রে আজান চল নামাজে চল্

বাণী

	মসজিদে ঐ শোন্ রে আজান, চল নামাজে চল্ ।
	দুঃখে পাবি সান্ত্বনা তুই বক্ষে পাবি বল।।
	ময়লা-মাটি লাগবে যা তোর দেহ-মনের মাঝে —
	সাফ হবে সব, দাঁড়াবি তুই যেম্‌নি জায়নামাজে;
(চল্)	রোজগার তুই করবি যদি আখেরের ফসল।।
	হাজার কাজের অছিলাতে নামাজ করিস কাজা
	খাজনা তারি দিলি না, যে দ্বীন-দুনিয়ার রাজা
তাঁরে	পাঁচ বার তুই করবি মনে, তাতেও এত ছল্।।
	কার তরে তুই মরিস খেটে; কে হবে তোর সাথী
	বে-নামাজীর আঁধার গোরে কে জ্বালাবে বাতি
(চল্)	খোদার নামে শির লুটায়ে জীবন কর্‌ সফল।।

আমি কৃষ্ণচূড়া হতাম যদি

বাণী

আমি		কৃষ্ণচূড়া হতাম যদি হতাম ময়ূর-পাখা, (সখা হে)!
তোমার		বাঁকা চূড়ায় শোভা পেতাম ওগো শ্যামল বাঁকা।।
		আমি হলে গোপীচন্দন, শ্যাম, অলকা-তিলকা হতাম;
		শ্যাম, ও-চাঁদমুখে অলকা-তিলকা হতাম।
		শ্রীঅঙ্গের পরশ পেতাম হ’লে কদম-শাখা।।
		আমি বৃন্দাবনে বন-কুসুম হতাম যদি কালা,
		কণ্ঠ ধ’রে ঝ’রে যেতাম হয়ে বনমালা।
			আমি নূপুর যদি হতাম হরি
			কাঁদতাম শ্রীচরণ ধরি’
		ব্রজবুলি হলে রেইত বুকে চরণ-চিহ্ন আঁকা।।

গান ভুলে যাই

বাণী

গান ভুলে যাই, মুখ পানে চাই, সুন্দর হে (সুন্দর মোর!)।
তব নয়ন পানে চাহি’ কণ্ঠের সুর কাঁপে থর থর হে (সুন্দর মোর!)।।
		তোমার অনুরাগে, ওগো বুল্‌বুল্‌
	মোর	গানের লতায় ফোটে কথার ফুল,
অশ্রু হয়ে সেই ফুল তব পায়ে ঝরিতে চায় ঝর ঝর হে।।
এ নহে গান প্রিয়, কান্না এ যে তব বিরহে,
অন্তর-শিলাতলে রোদনের সুরধুনী সুর হয়ে বহে।
		প্রিয়, এ নহে গানের ছন্দ,
		এ যে আনন্দে-বিষাদে মনের দ্বন্দ্ব,
(এ যে) রাগিণীর তলে তব অনুরাগিণীর মর্মের ক্রন্দন-বিলাপ মর্মর হে।।

সাঁঝের পাখিরা ফিরিল কুলায়

বাণী

সাঁঝের পাখিরা ফিরিল কুলায় তুমি ফিরিলে না ঘরে,
আঁধার ভবন জ্বলেনি প্রদীপ মন যে কেমন করে।।
	উঠানে শূন্য কলসির কাছে
	সারাদিন ধরে ঝ’রে প’ড়ে আছে
তোমার দোপাটি গাঁদা ফুলগুলি যেন অভিমান ভরে।।
বাসন্তী রাঙা শাড়িখানি তব ধূলায় লুটায় কেঁদে,
তোমার কেশের কাঁটাগুলি বুকে স্মৃতির সমান বেঁধে।
	যাইনি বাহিরে আজ সারাদিন
	ঝরিছে বাদল শ্রান্তিবিহীন
পিয়া পিয়া ব’লে ডাকিছে পাপিয়া এ বুকের পিঞ্জরে।।

মরালী-গমনশ্রী মদ-অলস চরণে

বাণী

মরালী-গমনশ্রী মদ-অলস চরণে।
কে পূর্ণ-যুবতী গো চল নীর-ভরণে।
	বেণী-বিলম্বিতা
	উন্‌মনা অসম্বৃতা,
দেশকার লোভাতে চল মুনি-মন হরণে।।
পূর্বাচল-বিভাসিত গো তব গৌরী অঙ্গে,
ব্রজে তুমি কি বিরাজ কর গোপী-মাধব সঙ্গে।
	পঞ্চমে পাপিয়া বোলে
	চমকি’ থাম তরুতলে,
সরসী-নীরে কমল রাঙে তব অরুণ-বরণে।