রহি' রহি' কেন সে-মুখ পড়ে মনে

বাণী

রহি' রহি' কেন সে-মুখ পড়ে মনে
ফিরায়ে দিয়াছি যারে অনাদরে অকারণে।
উদাসী অলস দুপুরে
মন উড়ে' যেতে চায় সুদূরে
যে বন-পথে সে ভিখারির বেশে
করুণা জাগায়ে ছিল সকরুণ নয়নে।।
তার বুকে ছিল তৃষ্ণা মোর ঘটে ছিল বারি
পিয়াসি ফটিকজল জল পাইল না গো
ঢলিয়া পড়িল হায় জলদ নেহারি।
তার অহ্জলির ফুল পথ-ধূলিতে
ছড়ায়েছি-সেই ব্যথা নারি ভুলিতে
অন্তরালে যারে রাখিনু চিরদিন
অন্তর জুড়িয়া কেন কাঁদে সে গোপনে।।

ঝড় এসেছে ঝড় এসেছে কাহারা যেন ডাকে

বাণী

ঝড় এসেছে ঝড় এসেছে কাহারা যেন ডাকে।
বেরিয়ে এলো নতুন পাতা পল্লবহীন শাখে।।
	ক্ষুদ্র আমার শুকনো ডালে
	দুঃসাহসের রুদ্র ভালে
কচি পাতার লাগলো নাচন ভীষণ ঘূর্ণিপাকে।
স্তবির আমার ভয় টুটেছে গভীর শঙ্খ-রবে,
মন মেতেছে আজ  নতুনের ঝড়ের মহোৎসবে।
	কিশলয়ের জয়-পতাকা
	অন্তরে আজ মেললো পাখা
প্রণাম জানাই ভয়-ভাঙানো অভয়-মহাত্মাকে।।

হের আহিরিণী মানস-গঙ্গা

বাণী

কৃষ্ণ	: হের আহিরিণী মানস-গঙ্গা দুকূল পাথার।
রাধা	: হরি ভয়ে মরি একা নারী কিসে হব পার।।
কৃষ্ণ	: পারের কাণ্ডারি আমি প্যারী এসো আমার নায়।
রাধা	: ওগো একেলা গোপের কুলবধু আমি, তুমিও তরুণ মাঝি তায়।।
কৃষ্ণ	: যৌবন ভার ভারি পসার রাধে! তবু নাহি ভয়।
রাধা	: ওইটুকু তরী, ভয়ে মরি হরি, ভার যদি নাহি সয়।
উভয়ে	: হের মানস-গঙ্গায় উঠিয়াছে ঢেউ ঝড় বহে অনিবার।।
রাধা	: নাই পারের কড়ি পারে যাব কি করি,
কৃষ্ণ	: দিয়ে মন বাঁধা পারে চল কিশোরী।
উভয়ে	: মোরা ভেসেছি অকূলে প্রেমের গোকুলে কুলের ভয় কি আর।।

মোরে মায়ার ডোরে বাঁধিস যদি মা

বাণী

মোরে মায়ার ডোরে বাঁধিস যদি মা
তোরেই সে ডোর খুলতে হবে।
খুলিয়া মায়া ডোর মুছিবি আঁখি লোর
(আমি) আকুল হয়ে মা কাঁদব যবে।।
ওমা তোর কালী নাম যখনই মনে হয়
মনের কালিমা অমনি হয় লয়,
অভাবে দুঃখে শোকে আমার কিবা ভয়;
আমি যে গর্ব করি তোরই গরবে।।
শত অপরাধ করে দিনের খেলায়
ছুটে আসি তোর কোলে সন্ধ্যাবেলায়;
সংসার পথে মা মাখি যতই ধূলি,
মুছিয়ে রাঙা হাতে কোলে নিবি তুলি।
আমি সেই ভরসাতে মা হাসি খেলি ভবে।।

নূরের দরিয়ায় সিনান করিয়া

বাণী

নূরের দরিয়ায় সিনান করিয়া কে এলো মক্কায় আমিনার কোলে
ফাগুন-পূর্ণিমা-নিশীথে যেমন আস্‌মানের কোলে রাঙা চাঁদ দোলে।।
	কে এলো কে এলো গাহে কোয়েলিয়া,
	পাপিয়া বুল্‌বুল্‌ উঠিল মাতিয়া,
গ্রহতারা ঝুঁকে করিছে কুর্নিশ হুরপরী হেসে পড়িছে ঢ’লে।।
	জিন্নাতের আজ খোলা দরওয়াজা পেয়ে
	ফেরেশ্‌তা আম্বিয়া এসেছে ধেঁয়ে
	তাহ্‌রীমা বেঁধে ঘোরে দরুদ গেয়ে
	দুনিয়া টলমল্‌, খোদার আরশ টলে।।
	এলো রে চির-চাওয়া এলো আখেরি নবী
	সৈয়দে মক্কী মদনী আল্‌-আরবি,
	নাজেল হয়ে সে যে ইয়াকুত-রাঙা ঠোঁটে
	শাহ্‌দতের বাণী আধো আধো বোলে।।

আমি যদি বাবা হতুম বাবা হ’ত খোকা

বাণী

আমি যদি বাবা হতুম বাবা হ’ত খোকা
না হলে তার নাম্‌তা পড়া মারতাম মাথায় টোকা।।
	রোজ যদি হ’ত রবিবার!
	কি মজাটাই হ’ত গো আমার!
কেবল ছুটি! থাকত নাক’ নামতা লেখাজোঁখা
থাকত না কো যুক্ত অক্ষর, অঙ্কে ধর্‌ত পোকা।।