ও মা বক্ষে ধরেন শিব যে চরণ

বাণী

ও মা	বক্ষে ধরেন শিব যে চরণ শরণ নিলাম সেই চরণে
	জীবন আমার ধন্য হলো ভয় নাই মা আর মরণে।।
		যা ছিল মা মোর ত্রিলোকে
		তোকে দিলাম, দিলাম তোকে
	আমার ব’লে রইল শুধু তোর চরণের ধ্যান, এ মনে।।
তোর	কেশ নাকি মা মুক্ত হলো ছুঁয়ে তোর ওই রাঙা চরণ
	মুক্তকেশী, মুক্ত হবো ওই চরণে নিয়ে শরণ।
	তোর	চরণ-চিহ্ন বক্ষে এঁকে
		বিশ্বজনে বলবো ডেকে — মা
	‘দেখে যা কোন্ রত্ন রাজে আমার হৃদয়-সিংহাসনে’।।

হরি নাচত নন্দদুলাল

বাণী

(হরি) নাচত নন্দদুলাল
শ্যামল সুন্দর মদন মনোহর
নওল কিশোর কানাইয়া গোপাল।
নাচত গিরিধারী ময়ূর মুকুট পরি
দিকে দিকে ছন্দ আনন্দ পড়িছে ঝরি
নাচে গোপী সখা বংশীওয়ালা হরি
রুনুঝুনু বাজওত ঘুঙ্গুর তাল।

নাটিকাঃ ‘মীরাবাঈ’

শত জনম আঁধারে আলোকে

বাণী

শত জনম আঁধারে আলোকে তারকা-গ্রহে লোকে লোকে
প্রিয়তম! খুঁজিয়া ফিরেছি তোমারে।।
	স্বপন হয়ে রয়েছ নয়নে
	তপন হ’য়ে হৃদয়-গগনে,
হেরিয়া তোমারে বিরহ-যমুনা, প্রিয়তম! দুলিয়া উঠে বারে বারে।।
হে লীলা-কিশোর! ডেকেছে আমারে তোমার বাঁশি,
যুগে যুগে তাই তীর্থ-পথিক ফিরি উদাসী।
	দেখা দাও, তবু ধরা নাহি দাও
	ভালোবাস ব’লে তাই কি কাঁদাও,
তোমারি শুভ্র পূজার-পুষ্প প্রিয়তম! ফুটিয়া ওঠে অশ্রুধারে।।

বল্লরি-ভুজ-বন্ধন খোলো

বাণী

	বল্লরি-ভুজ-বন্ধন খোলো।
	অভিসার-নিশি অবসান হ’ল।।
	পান্ডুর চাঁদ হের অস্তাচলে
	জাগিয়া শ্রান্ত-তনু পড়েছে ঢ’লে,
তার 	মল্লিকা মালা ম্লান বক্ষতলে — 
	অভিমান-অবনত আঁখি তোলো।।
	উতল সমীর আমি নিমেষের ভুল,
	কুসুম ঝরাই কভু ফোটাই মুকুল।
	আলোকে শুকায় মোর প্রেমের শিশির
	দিনের বিরহ আমি মিলন নিশির,
	হে প্রিয়, ভীরু এ স্বপন-বিলাসীর — 
	অকরুণ প্রণয় ভোলো ভোলো।।

১. মিলনের, ২. ক্ষণিকের, ৩. আমি

কেন আসিলে যদি যাবে চলি’

বাণী

কেন আসিলে যদি যাবে চলি’।
গাঁথিলে না মালা ছিঁড়ে ফুল-কলি।।
কেন বারে বারে আসিয়া দুয়ারে
ফিরে গেলে ‘পারে কথা নাহি বলি’,
কী কথা বলিতে, আসিয়া নিশীথে,
শুধু ব্যথা-গীতে গেলে মোরে ছলি’।।
প্রভাতের বায়ে কুসুম ফুটায়ে,
নিশীথে লুকায়ে উড়ে গেল অলি।।
কবি শুধু জানে, কোন্ অভিমানে,
চাহি যারে গানে কেন তা’রে দলি।।

নারায়ণী উমা খেলে হেসে হেসে

বাণী

নারায়ণী উমা খেলে হেসে হেসে
হিম-গিরির বুকে পাহাড়ি বালিকা বেশে॥
গিরি-গুহা হতে জ্যোতির ঝরনা ছুটে চলে যেন চল ঝরনা,
তুষার-সায়রে সোনার কমল যেন বেড়া ভেসে।
			— খেলে হেসে হেসে।
মাধবী চাঁদ ওঠে কৈলাস-চূড়ে,
খেলা ভুলিয়া যায়, অনিমেষ চোখে চায়
পাষাণ প্রতিমা প্রায় সেই সুদূরে।
সতী-হারা যোগী পাগল শঙ্করে
মনে পড়িয়া তার নয়নে বারি ঝরে,
শিব-সীমন্তনী পাগলিনী প্রায় ‘শিব শিব’ বলে ধায় মুক্তকেশে॥