আমার দুখের বন্ধু তোমার কাছে

বাণী

আমার	দুখের বন্ধু, তোমার কাছে চাইনি ত’ এ সুখ।
আমি	জানিনি ত বুকে পেয়েও কাঁদবে এ মন বুক।।
		আমার শাখায় যবে ফোটেনি ফুল
		আমি চেয়েছি পথ আশায় আকুল,
আজ	ফোটা ফুলে কাঁদে কেন কুসুম ঝরার দুখ।।
প্রিয়	মিলন-আশায় ছিনু সুখে ছিলে যবে দূর,
আজ	কাছে পেয়ে পরান কাঁদে বিদায়-ভয়াতুর।
		এ যে অমৃতে গরল মিশা
		প্রাণে কেবলি বাড়িছে তৃষা,
আমার	স্বর্গে কেন মলিন ধরার বেদন জাগরূক।।

নমঃ নমঃ নমো বাঙলাদেশ মম

বাণী

নমঃ নমঃ নমো		বাঙলাদেশ মম
চির মনোরম		চির মধুর
বুকে নিরবধি		বহে শত নদী
চরণে জলধির		বাজে নূপুর।।
গ্রীষ্মে নাচে বামা		কালবোশেখি ঝড়ে
সহসা বরষাতে		কাঁদিয়া ভেঙ্গে পড়ে
শরতে হেসে চলে		শেফালিকা-তলে
গাহিয়া আগমনী		গীতি বিধুর।।
হরিত অঞ্চল		হেমন্তে দুলায়ে
ফেরে সে মাঠে মাঠে		শিশির ভেজা পায়ে
শীতের অলস বেলা		পাতা ঝরারি খেলা
ফাগুনে পরে সাজ		ফুল-বধূর।।
এই দেশের মাটি		জল ও ফুলে ফলে
যে রস যে সুধা		নাহি ভূমণ্ডলে
এই মায়েরি বুকে		হেসে খেলে সুখে
ঘুমাবো এই বুকে		স্বপ্নাতুর।।

আজ প্রভাতে বাহির পথে

বাণী

আজ প্রভাতে বাহির পথে কে ডাকে কোন্‌ (সই) ইশারায়।
সিঁথিতে তার সিঁদুর মাখা কে পরালে নিরালায়।।
	ঘুম ভরা তার নয়ন দুটি
	ফুলেরি মত উঠল ফুটি,
সুখের আভায় ঢেউ খেলে যায় আজকে ধরার আঙিনায়।।
হাততালি দেয় গ্রামের বঁধু পল্লীপথের ধারে;
জলের পথে যাবার বেলায় কুলের বধূ আড়ে।
	লুট করে আজ তারার আলো
	গহীন রাতে আঁধার কালো
কে এলে আজ বঁধুর বেশে আমার ঘরের কিনারায়।।

টলমল্ টলমল্ টলে সরসী

বাণী

টলমল্ টলমল্ টলে সরসী
জল নিতে এলে কি গো ষোড়শী।।
হেরিয়া তোমার রাঙা পদতল
ফুটিল প্রেমের কুমুদ কমল
খেলিছে চঞ্চল তরঙ্গ-দল ল’য়ে তব কলসি।।
হেরি’তোমার নীলাম্বরী কাজল-আঁখি
হলোকাজ্‌লা দীঘির জল সুনীল না-কি!
হাতেশাপলা মৃণাল দিয়ে বাঁধে রাখি
নাচেলীলায়িত ঢেউ তব তনু পরশি’।।

কেন মনোবনে মালতী-বল্লরি দোলে

বাণী

কেন	মনোবনে মালতী-বল্লরি দোলে - জানি না।
কেন	মুকুলিকা ফুটে ওঠে পল্লব-তলে - জানি না।।
কেন	ঊর্মিলা-ঝরনার পাশে
সে	আপন মঞ্জরি-ছায়া দেখে' হাসে,
কেন	পাপিয়া কুহু মুহু মুহু বোলে, জানি না।।
চৈতালি-চাঁপা কয়, মালতী শোন
শুনেছিস বুঝি মধুকর গুঞ্জন,
তাই বুঝি এত মধু সুরভি উথলে —
মধু-মালতী বলে, জানি না, জানি না।।

নীরব সন্ধ্যা নীরব দেবতা খোলো

বাণী

নীরব সন্ধ্যা, নীরব দেবতা খোলো মন্দির দ্বার।
ম্লান হ’ল বেদনায় অঞ্জলি নিশি-গন্ধ্যার।।
	নিভিয়া যায় হায় অঞ্চল-তলে
	নয়নের প্রদীপ নয়নের জলে,
শুকাইল নিরাশায় চন্দন ফুলদল তোমার বরণ ডালার।।
মৌন র’বে আর কতকাল বল পাষাণ-বেদীতে,
কত জনম কত পূজারিণীর আয়ু-দীপ নিভাইতে।
দিনের তপস্যার শেষে সাঁঝ-লগনে
আশার চাঁদ কি গো উঠিবে না গগনে,
আমার শেষ বাণী তোমার চরণে —
নিবেদনের ক্ষণ পাব নাকি আর।।