বরিষণ শেষে ডাকিয়া যূথীরে

বাণী

বরিষণ-শেষে ডাকিয়া যূথীরে কহিল মালতী-কলি — 
‘আমি দুলিব পিয়াল-কোলে পিয়া, পিয়া বলি’।।
	চাহিয়া বারেক রবিকরে
	তুমি বুঝিবে ধূলির ’পরে,
সৌরভ তব থরে থরে, তবু আসিবে না তব অলি।।
	সিক্ত বাতাসে চাঁদের আবেশে
	শ্বেত পুষ্পের স্নিগ্ধ সুবাসে,
প্রেম ও প্রীতির সুরভি-আকাশে — যূথী-দল প’ড়ে ঢলি’।।
বিদায়-বেলায় যূথিকা কহিল — বিলাতে আমি
			আসিনু ধরায় নামি’,
প্রেমের মিলন-বাসরে, আমারে যেয়ো গো দলি’।।

ঘর-ছাড়া ছেলে আকাশের চাঁদ

বাণী

	ঘর-ছাড়া ছেলে আকাশের চাঁদ আয় রে।
	জাফ্‌রানি রঙের পরাব পিরান তোর গায় রে।।
	আস্‌মানে যেতে চায় তারা হয়ে আমার নয়ন-তারা
(তোর)	খেলার সাথি কাঁদে শাপ্‌লার ফুল, ফিরে আয় পথ-হারা,
	দু’নয়ন ঘুমে ঢুলে, হৃদয় ঘুমায় না, কাছে পেতে চায় রে।।
	চোখের কাজল তোর চাঁদ-মুখে লেগেছে, (আয়) মুছাব আঁচলে
	দেখ্ মায়ের তোর স্নেহের সাগর আছে উথলে,
(মোর)	মনের ময়না! ঘরে মন রয় না, পথ চেয়ে’ রাত কেটে যায় রে।।

চলচ্চিত্র : ‘চৌরঙ্গী’

জোছনা-হসিত মাধবী নিশি

বাণী

জোছনা-হসিত মাধবী নিশি আজ।
পর পর প্রিয়া বাসন্তি-রাঙা সাজ।।
রাঙা কমল-কলি দিও কর্ণ-মূলে
পর সোনালি চেলি নব সোনাল্ ফুলে,
স্বর্ণলতার প’র সাতনরী-হার আজি উৎসব-রাত,
		রাখ রাখ গৃহ-কাজ।।
পর কবরী-মূলে নব আমের মুকুল
হাতে কাঁকন পর গেঁথে অতসীর ফুল,
দূরে গাহুক ডাহুক পাখি সখি, মুখর নিলাজ।।

পূবালী পবনে বাঁশি বাজে রহি' রহি'

বাণী

পূবালী পবনে বাঁশি বাজে রহি' রহি'।
ভবনের বধূরে ডাকে বনের বিরহী।।
রতন হিন্দোলা নীপ ডালে বাঁধা',
দোলে দোলে, বলে যেন 'রাধা রাধা',
দুরু দুরু বুকে বাজে গুরু গুরু দেয়া
কেয়া ফুল আনে সোম-সুগন্ধ বহি'।।
চোখে মাখি সজল কাজলের ছলনা
অভিসারিকার সাজে সাজে গোপ-ললনা।
বৃষ্টির টিপ ফেলে ননদীর নয়নে
কদম-কুঞ্জে চলে গোপন চরণে,
মিলন বিরহ শোক তার বুকে
কাঁদে 'রাধা-শ্যাম রাধা-শ্যাম' কহি।।

হেরেমের বন্দিনী কাঁদিয়া ডাকে

বাণী

হেরেমের বন্দিনী কাঁদিয়া ডাকে তুমি শুনিতে কি পাও?
আখেরি নবী প্রিয় আল-আরবি বারেক ফিরে চাও।।
পিঁজরার পাখি সম অন্ধকারায়
বন্ধ থাকি' এ জীবন কেটে' যায়;
কাঁদে প্রাণ ছুটে যেতে তব মদিনায়
	চরণের এই জিঞ্জির খুলে' দাও।।
ফতেমার মেয়েদের হেরি' আঁখি-নীর
বেহেশতে কেমনে আছ তুমি থির!
যেতে নারি মসজিদে শুনিয়া আজান,
বাহিরে ওয়াজ হয়, ঘরে কাঁদে প্রাণ
ঝুটা এই বোরখার হোক অবসান —
	আঁধারে হেরেমে আশা-আলোক দেখাও।।

গান ভুলে যাই

বাণী

গান ভুলে যাই, মুখ পানে চাই, সুন্দর হে (সুন্দর মোর!)।
তব নয়ন পানে চাহি’ কণ্ঠের সুর কাঁপে থর থর হে (সুন্দর মোর!)।।
		তোমার অনুরাগে, ওগো বুল্‌বুল্‌
	মোর	গানের লতায় ফোটে কথার ফুল,
অশ্রু হয়ে সেই ফুল তব পায়ে ঝরিতে চায় ঝর ঝর হে।।
এ নহে গান প্রিয়, কান্না এ যে তব বিরহে,
অন্তর-শিলাতলে রোদনের সুরধুনী সুর হয়ে বহে।
		প্রিয়, এ নহে গানের ছন্দ,
		এ যে আনন্দে-বিষাদে মনের দ্বন্দ্ব,
(এ যে) রাগিণীর তলে তব অনুরাগিণীর মর্মের ক্রন্দন-বিলাপ মর্মর হে।।