ওরে হতভাগী রক্ত-খাগী

বাণী

(ওরে)		হতভাগী রক্ত-খাগী, কোথায় ছিলি বল্!
(তোর)		দেখে ছিরি ভয়ে মরি চোখে আসে জল।।
			বেণী খুলে এলোকেশে
			বেড়াস্ এ কোন্ পাগল-বেশে,
		চাঁদকে ফেলে নীল আকাশে আন্‌লি কোন্ অনল।।
		(কপালে জ্বাল্‌লি কোন্ অনল)
(ঐ)		সদ্য ফোঁটা পদ্মফুলে কে মাখাল কালি?
		মা আমরি কপাল মন্দ কারে দিব গালি।
			রাজ-দুলালী আদর পেয়ে
			সাজ্‌লি ছি ছি নাগর মেয়ে,
(তোর)		চিন্‌তে পারি, গৌরী দেখে রাঙা পদতল।।

গভীর নিশীথে ঘুম ভেঙ্গে যায়

বাণী

গভীর নিশীথে ঘুম ভেঙ্গে যায়, কে যেন আমারে ডাকে —
	সে কি তুমি, সে কি তুমি?
কার স্মৃতি বুকে পাষাণের মত ভার হয়ে যেন থাকে —
	সে কি তুমি, সে কি তুমি?
কাহার ক্ষুধিত প্রেম যেন, হায়, ভিক্ষা চাহিয়া কাঁদিয়া বেড়ায়;
কার সকরুণ আঁখি দু’টি যেন রাতের তারার মত
মুখপানে চেয়ে থাকে – সে কি তুমি, সে কি তুমি?
নিশির বাতাস কাহার হুতাশ দীরঘ নিশাস সম
ঝড় তোলে এসে অন্তরে মোর, ওগো দুরন্ত মম।
	সে কি তুমি, সে কি তুমি?
মহাসাগরের ঢেউ–এর মতন, বুকে এসে বাজে কাহার রোদন,
‘পিয়া পিয়া’ নাম জপে অবিরাম বনের পাপিয়া পাখি
আমার চম্পা শাখে – সে কি তুমি, সে কি তুমি?

তুমি যে-হার দিলে ভালোবেসে

বাণী

(তুমি)	যে-হার দিলে ভালোবেসে সে-হার আমার হ’ল ফাঁসি।
(প্রিয়)	সেই হার আজ বক্ষে চেপে আকুল নয়ন-জলে ভাসি।।
		তুমি জান অন্তর্যামী
		দান তো তোমার চাইনি আমি,
	তোমায় শুধু চেয়েছিলাম সাধ ছিল মোর হ’তে দাসী।।
	দুখের মালা কেড়ে নিয়ে কেন দিলে মতির মালা,
	মালায় শীতল হবে কি নাথ! শূন্য আমার বুকের জ্বালা?
	(মোরে)	রেখো না আর সোনার রথে
			ডাকো তোমার তীর্থ-পথে,
(আমার) সুখের ঘরে আগুন জ্বালো শোনাও বাঁশি সর্বনাশী।।

১. চেয়েছিলাম তোমায় স্বামী

বনের মনের কথা ফুল হয়ে

বাণী

বনের মনের কথা ফুল হয়ে জাগে।
কয় না সে কথা তবু তারে ভালো লাগে।।
	শ্যাম পল্লবে তনু ছেয়ে যায়,
	ভরে ওঠে সুরভিত সুষমায়।
ফুটে ওঠে তার না বলা বাণী রক্তিম অনুরাগে।।
বন মর্মরে সেই মৌনীর শুনি মৃদু গুঞ্জন
ললিতার মত তার ভালোবাসা, গভীর-চির গোপন।
	যত সে নিজেরে লুকাইতে চায়,
	তত মধু তার উছলিয়া যায়।
কত সে পলাশে, কত সে অশোকে কত কুঙ্কুম ফাগে।।

থাক্ এ গৃহ ঘিরিয়া সদা মঙ্গল কল্যাণ

বাণী

থাক্ এ গৃহ ঘিরিয়া সদা মঙ্গল কল্যাণ হে ভগবান।
দাও পুত পবিত্রতা প্রশান্তি অফুরান, হে ভগবান॥
অন্তরে দেহে দাও বিমল্-জ্যোতি
কর্মে প্রেরণা দাও ধর্মে মতি;
এ গৃহের নারী হোক পুণ্যবতী
বীরত্বে ত্যাগে হোক পুরুষ মহান; হে ভগবান॥
এ গৃহের বারি হোক নির্মল সুশীতল হে ভগবান,
এ গৃহের আলো হোক পুণ্যে সমুজ্জ্বল হে ভগবান।
সকলের সাথে হেথা প্রীতি যেন রয়
যেন নাহি থাকে হেথা রোগ শোক ভয়;
দূর কর হিংসা পাপ সংশয়
সার তব পায়ে নিবেদিত সকলের মনপ্রাণ, হে ভগবান॥

মালা গাঁথা শেষ না হ’তে

বাণী

		মালা গাঁথা শেষ না হ’তে তুমি এলে ঘরে।
		শূন্য হাতে তোমায় বরণ করব কেমন ক’রে।।
			লজ্জা পাবার অবসর মোর
			দিলে না হে চঞ্চল, চোর
		সজ্জা-বিহীন মলিন তনু দেখলে নয়ন ভ’রে।।
		বিফল মালার ফুলগুলি হায় কোথায় এখন রাখি,
		ক্ষণিক দাঁড়াও, ঐ কুসুমে (তোমার) চরণ দু’টি ঢাকি।
			আকুল কেশে পা মুছিয়ে
			করব বাতাস আঁচল দিয়ে,
(মোর) 	নয়ন হবে আরতি-দীপ তোমার পূজার তরে।।