ও কালো ডাগর চোখে

বাণী

ও কালো ডাগর চোখে বল জল আনিল কে।
কে গো সেই নিঠুর হিয়া না জানি কিসের ঝোঁকে।।
দু আঁখি ছাপিয়ে গেল তিতিল
কপোলখানি উজল নীলাকাশে সহসা ঢাকিল কে।।
পড়েছে ঘোমটা খসে খোঁপাটি গেছে খুলে
ঢেকেছে মুখখানি তার পাগল এলো চুলে।
না জানি কাহার কথা ব্যথিত ভাবছে মনে
সে জনা দেখিল না এ ছবি এমন ক্ষণে
স্বরগে হয়তো মেলে, মেলে না মর্তলোকে।।

জয় বিবেকানন্দ সন্ন্যাসী বীর

বাণী

জয় বিবেকানন্দ সন্ন্যাসী বীর চির গৈরিকধারী।
জয় তরুণ যোগী, শ্রীরামকৃষ্ণ-ব্রত-সহায়কারী।।
	যজ্ঞাহুতির হোমশিখা সম,
	তুমি তেজস্বী তাপস পরম
ভারত-অরিন্দম নমো নমঃ বিশ্বমঠ বিহারী।।
(মদ) গর্বিত বল-দর্পীর দেশে মহাভারতের বাণী
শুনায়ে বিজয়ী ঘুচাইলে স্বদেশের অপযশ গ্লানি।
(নব)	ভারতে আনিলে তুমি নব বেদ
	মুছে দিলে জাতি ধর্মের ভেদ
জীবে ঈশ্বরে অভেদ আত্মা জানাইলে হুঙ্কারি।।

১. উচ্চারি

যাও মেঘদূত দিও প্রিয়ার হাতে

বাণী

যাও মেঘদূত, দিও প্রিয়ার হাতে
আমার বিরহ–লিপি লেখা কেয়া পাতে।।
আমার প্রিয়ার দিরঘ নিশাসে
থির হয়ে আছে মেঘ যে–দেশেরই আকাশে
আমার প্রিয়ার ম্লান মুখ হেরি’
ওঠে না চাঁদ আর যে–দেশে রাতে।।
পাইবে যে–দেশে কুন্তল–সুরভি বকুল ফুলে
আমার প্রিয়া কাঁদে এলায়ে কেশ সেই মেঘনা–কূলে।
স্বর্ণলতার সম যার ক্ষীণ করে
বারে বারে কঙ্কণ চুড়ি খুলে পড়ে
মুকুল’ বয়সে যথা বরষার ফুল–দল
বেদনায় মুরছিয়া আছে আঙিনাতে।।

এলো শিবানী-উমা এলো

বাণী

এলো শিবানী-উমা এলো এলোকেশে।
এলো রে মহামায়া দনুজদলনী বেশে।।
এলো আনন্দিনী গিরি-নন্দিনী
রবে না কেহ আর বন্দী-বন্দিনী,
শক্তি প্রবাহ বহিল মৃতদেশে।।
এলো রে বরাভয়া ভয় হরিতে,
শ্মশান কঙ্কালে বজ্র গড়িতে।
এলো মা অন্নদা, আয় রে ভিখারি
বর চেয়ে নে যার যে অধিকারী
মুক্তি বন্যায় ভারত যাক্ ভেসে।।

আমি অলস উদাস আন্‌মনা

বাণী

আমি	অলস উদাস আন্‌মনা।
আমি	সাঁঝ-আকাশে শান্ত নিথর রঙীন্ মেঘের আল্‌পনা।।
		অলস যেমন বনের ছায়া
		নীড়ের পাখি শ্রান্ত-কায়া,
	যেমন অলস তৃণের মুখে ভোরের শিশির হিম-কণা।।
	নদীর তীরে অলস রাখাল একলা ব’সে রয় যেমন,
	তেমনি অলস উদাস আমি রই ব’সে রই অকারণ।
		যেমন অলস দীঘির জলে
		থির হ’য়ে রয় কমল-দলে,
	নিতল ঘুমে স্বপন সম অলস আমি কল্পনা।।

হে গোবিন্দ ও অরবিন্দ চরণে

বাণী

হে গোবিন্দ, ও অরবিন্দ চরণে শরণ দাও হে।
বিফল জনম কাটিল কাঁদিয়া, শান্তি নাহি কোথাও হে।।
	জীবন-প্রভাত কাটিল খেলায়,
	দুপুর ফুরাল মোহের মেলায়।
ডাকিব যে নাথ সন্ধ্যা-বেলায়, ডাকিতে পারিনি তাও হে।।
এসেছি দুঃখ-জীর্ণ পথিক মৃত্যু-গহন রাতে।
কিছু নাহি প্রভু সম্বল, শুধু জল আছে আঁখি-পাতে।।
	সন্তান তব বিপথগামী,
	ফিরিয়া এসেছে হে জীবন-স্বামী।
পাপী তাপী তবু সন্তান আমি ধূলা মুছে-কোলে নাও হে।।