ঈদজ্জোহার তকবীর শোন ঈদ্গাহে

বাণী

ঈদজ্জোহার তকবীর শোন ঈদ্গাহে!
(তোর) কোরবানিরই সামান নিয়ে চল্ রাহে।।
কোরবানির রঙে রঙিন পর লেবাস্
পিরহানে মাখ্‌রে ত্যাগের গুল্-সুবাস,
হিংসা ভুলে প্রেমে মেতে
ঈদগাহেরই পথে যেতে দে মোবারকবাদ দ্বীনের বাদ্শাহে।।
খোদারে দে প্রাণের প্রিয়, শোন্ এ ঈদের মাজেরা
যেমন পুত্র বিলিয়ে দিলেন খোদার নামে হাজেরা,
	ওরে কৃপণ, দিস্‌নে ফাঁকি আল্লাহে।।
তোর পাশের ঘরে গরীব কাঙাল কাঁদছে যে
তুই তারে ফেলে ঈদ্গাহে যাস্ সঙ সেজে,
	তাই চাঁদ উঠ্ল, এলো না ঈদ্
	নাই হিম্মৎ, নাই উম্মিদ,
শোন্ কেঁদে কেঁদে বেহেশ্‌ত হ’তে হজরত আজ কি চাহে।।

আমি বাউল হ’লাম ধূলির পথে

বাণী

আমি বাউল হ’লাম ধূলির পথে ল’য়ে তোমার নাম।
আমার একতারাতে বাজে শুধু তোমারই গান, শ্যাম।।
	নিভিয়ে এলাম ঘরের বাতি
	এখন তুমিই সাথের সাথি,
আমি যেখানে যাই সেই সে এখন আমার ব্রজধাম।।
আমি আনন্দ-লহরি বাজাই নূপুর বেঁধে পায়ে,
শ্রান্ত হ’লে জুড়াই তনু বন-বীথি বটের ছায়ে।১
	ভাবনা আমার তুমি নিলে
	আমায় ভিক্ষা-পাত্র দিলে
কখন তুমি আমার হবে পূরবে মনস্কাম।।

১. শ্রান্ত হলে জুড়াই তবু বংশী-বটের ছায়ে।

বাজো বাঁশরি বাজো বাঁশরি বাজো বাঁশরি

বাণী

বাজো বাঁশরি বাজো বাঁশরি বাজো বাঁশরি
	সেই চির-চেনা সুরে।
যে সুরে বিরহী প্রাণ আজও ঝুরে।।
যে সুরে হৃদয়ে হোরির রং লাগে
ভুলে যাওয়া যৌবন-স্মৃতি মনে জাগে,
আকাশ কাঁদে যে সকরুণ রাগে —
যে সুর ঘুমায়ে আছে প্রিয়ার নূপুরে।।
যে সুর শুনি আজো পল্লীর প্রান্তে
মল্লিকা-কুঞ্জে শ্রান্ত দিনান্তে,
বিরহ বিধূর দূর হারানো দিনের —
ছায়া ফেলে যে-সুর মনের মুকুরে।।

মাঠে আমার ফল্‌ল ফসল

বাণী

মাঠে আমার ফল্‌ল ফসল মনের ফসল কই
শূন্য মনে আল্লা তোমার পানে চেয়ে রই।।
আরব মরুভূমে নবীজীরে পাঠাইলে
আমার মনের মরুভূমি বিফল রাখিলে,
গরীব ব’লে আমি কি গো বান্দা তব নই।।
চাই না যশ মান আমি চাহি না দৌলৎ,
আমি চাহি শুধু — তোমার নামেরি সরবত
যে যাহা চায় তুমি নাকি তারে তাহাই দাও
আমার মানত পূর্ণ ক’রে পরান বাঁচাও,
আমি যেন আল্লা নামের তস্‌বি শুধু বই।।

একেলা গোরী জল্‌কে চলে গঙ্গাতীর

বাণী

একেলা গোরী জল্‌কে চলে গঙ্গাতীর
অঙ্গে ঢুলিয়া পড়ে লালসে অলস সমীর।।
কাঁকনে কলসে বাজে
কত কথা পথ মাঝে
		আঁচল চুমিছে শিশির।।
তটিনীতে চলে কি গো
সোনার বরণ মায়া-মৃগ
		নয়নে আবেশ মদির।।

মিনতি রাখো রাখো পথিক থাকো থাকো

বাণী

মিনতি রাখো রাখো পথিক থাকো থাকো,
	এখনি যেয়ো না গো, না না না।
ক্ষণিক অতিথি বিদায়ের গীতি
	এখনি গেয়ো না গো, না না না।।
চৈতী পূর্ণিমা চাঁদের তিথি,
পুষ্প পাগল এ বনবীথি,
ধূলায় ছেয়ো না গো, না না না।।
বলি বলি ক'রে হয়নি যা বলা,
যে কথা ভরিয়াছিল বুকের তলা;
সে কথা না শুনে সুন্দর অতিথি হে
	যেতে চেয়ো না গো, না না না।।