মালঞ্চে আজ কাহার যাওয়া আসা

বাণী

মালঞ্চে আজ কাহার যাওয়া আসা।
ঝরা পাতায় বাজে
মৃদুল তাহার পায়ের ভাষা।।
আসার কথা জানায়
ঐ যে ফুলের আখর সবুজ পাতায়,
ঐ দোয়েল শ্যামার কূজন কয় যে বাণী
ঐ ঐ তার ভালোবাসা।।
মদির সমীরণে
তনুর সুবাস পাই যে ক্ষণে ক্ষণে,
সবুজ বসন ফেলি’
পরল ঐ বন কুস্‌মী রাঙা চেলি।
তাই বসুন্ধরায় জাগে অরুণ আশা —
ঐ ঐ যে আলোকের পিপাসা।।

চুড়ির তালে নুড়ির মালা

বাণী

চুড়ির তালে নুড়ির মালা রিনিঝিনি বাজে লো –
খোঁপায় দোলে বুনো ফুলের কুঁড়ি।
কালো ছোঁড়ার কাঁকাল ধ’রে নাচে মাতাল ছুঁড়ি লো।।
মহুয়া মদের নেশা পিয়ে বুঁদ হয়েছে বৌয়ে–ঝিয়ে
চাঁদ ছুটছে মনকে নিয়ে
ডুরি ছেঁড়া ঘুড়ি (যেন) লো।।
বাজে নুপূর পাঁইজোড় সারা গায়ে নাচের ঘোর
ওলো লেগেছে, মন হ’ল নেশায় বিভোর;
ওই আকাশে চাঁদ হের মেঘের সাথে যেন করে খুনসুড়ি লো।।

আমার সারা জনম কেঁদে গেল

বাণী

আমার সারা জনম কেঁদে গেল
	(কবে) শেষ হবে মোর কাঁদা।
পথে পথে ঘুরে মরি, পদে পদে বাধা।।
	বাঁচ্‌তে চাইরে যে ডাল ধরে’
	সে ডাল অম্‌নি ভেঙে পড়ে,
সুখের আশায় ছুটে ছুটে দুঃখ হ’ল সাধা।।
দুঃখী জনের বন্ধু কোথায় দীনের সহায় কোথা,
(নাই) অসহায়ের তরে বুঝি বিধাতারও ব্যথা।
	আকুল হয়ে কাঁদি যত
	বেড়ে ওঠে বোঝা তত,
আদায় ক’রে ফিরি যেন আমি দুখের চাঁদা।।

মম মায়াময় স্বপনে কার বাঁশি বাজে

বাণী

মম	মায়াময় স্বপনে কার বাঁশি বাজে গোপনে
	বিধূর মধুর স্বরেকে এলো,কে এলো সহসা।।
যেন	স্নিগ্ধ আনন্দিত চন্দ্রালোকে ভরিল আকাশ
	হাসিল তমসা কে এলো,কে এলো সহসা।।
	অচেনা সুরে কেন ডাকে সে মোরে
	এমন ক'রে ঘুমের ঘোরে —
	নব-নীরদ-ঘন-শ্যামল কে এ চঞ্চল
	হেরিয়া তৃষিত-প্রাণ হলোসরসা
		কে এলো,কে এলো সহসা।।
	কভু সে অন্তরে কভু দিগন্তরে
	এই সোনার মৃগ ভুলাতে আসে মোরে,
	দেখেছি ধ্যানে যেন এই সে সুন্দরে
	শুনেছি ইহারি বেণু প্রাণ-বিবশা
		কে এলো,কে এলো সহসা।।

আমি মৃতের দেশে এনেছি রে

বাণী

আমি মৃতের দেশে এনেছি রে মাতৃ নামের গঙ্গা ধারা।
আয় রে নেয়ে শুদ্ধ হবি অনুতাপে মলিন যারা।।
	আয় আশাহীন ভাগ্য হত
	শক্তি-বিহীন পদানত,
	(আয় রে সবাই আয়),
এই অমৃতে, আয়, উঠ্‌বি বেঁচে জীবন্মৃত সর্বহারা।।
	ওরে এই শক্তির গঙ্গা-স্রোতে
	অনেক আগে এই সে-দেশে,
মৃত সগর-বংশ বেঁচে উঠেছিল এক নিমেষে।
	এই গঙ্গোত্রীর পরশ লেগে
	নবীন ভারত উঠ্ল জেগে,
এই পুণ্য স্রোত ভেঙেছিল ভেদবিভেদের লক্ষ কারা।।

চাঁদিনী রাতে কানন-সভাতে আপন হাতে

বাণী

চাঁদিনী রাতে কানন-সভাতে আপন হাতে গাঁথিলে মালা।
সয়েছি বুকে নিবিড় সুখে তোমারি হাতের সূচিব জ্বালা।।
আজিও জাগে লোহিত রাগে রঙিন গোলাবে তাহারি ব‍্যথা
তব ও গলে দুলিব ব’লে দিয়েছি কুলে কলঙ্ক-কালা ।।
যদি ও গলে নেবে না তুলে কেন বধিলে ফুলের পরান
অভিমানে হায় মালা যে শুকায় ঝ’রে ঝ’রে যায় লাজে নিরালা।।

নাটকঃ‘আলেয়া’