নাহি কেহ আমার ব্যথার সাথী

বাণী

নাহি কেহ আমার ব্যথার সাথী,
জ্বলি পিল্‌সুজে একা মোমের বাতি।
পতঙ্গ সুখি, পুড়ে এক নিমেষে –
পুড়িয়া মরি আমি সারা রাতি।।
আসে যে সুখের দিনে বন্ধু রূপে,
অসময়ে যায় স’রে চুপে চুপে।
	উড়ে গেছে অলি
	ফুল ঝরেছে বলি’ – 
কাঁদি একাকী কণ্টক-শয্যা পাতি’।।
কেহ কারো নয় তবু প্রাণ কাঁদে
চকোর চাহে যেন সুদূর চাঁদে,
শুধু বেদনা পাই প্রেম-মোহে মাতি’।।

তোমার মহাবিশ্বে কিছু হারায় না তো কভু

বাণী

তোমার মহাবিশ্বে কিছু হারায় না তো কভু।
আমরা অবোধ, অন্ধ মায়ায় তাই তো কাঁদি প্রভু।।
তোমার মতই তোমার ভুবন
চির পূর্ণ, হে নারায়ণ!
দেখতে না পায় অন্ধ নয়ন তাই এ দুঃখ প্রভু।।
ঝরে যে ফল ধূলায় জানি, হয় না তাহা (কভু) হারা,
ঐ ঝরা ফলে নেয় যে জনম তরুণ তরুর চারা —
তারা হয় না কভু হারা।
হারালো (ও) মোর প্রিয় যারা,
তোমার কাছে আছে তারা;
আমার কাছে নাই তাহারা — হারায়নিক’ তবু।।

ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ এলো রে দুনিয়ায়

বাণী

ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ এলো রে দুনিয়ায়।
আয় রে সাগর আকাশ বাতাস দেখ্‌বি যদি আয়।।
ধূলির ধরা বেহেশ্‌তে আজ, জয় করিল দিল রে লাজ।
আজকে খুশির ঢল নেমেছে ধূসর সাহারায়।।
দেখ্‌ আমিনা মায়ের কোলে, দোলে শিশু ইসলাম দোলে।
কচি মুখে শাহাদাতের বাণী সে শোনায়।।
আজকে যত পাপী ও তাপী, সব গুনাহের পেল মাফী।
দুনিয়া হতে বে-ইনসাফী জুলুম নিল বিদায়।।
নিখিল দরুদ পড়ে লয়ে নাম, সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম।
জীন পরী ফেরেশ্‌তা সালাম জানায় নবীর পায়।।

আহ্‌মদের ঐ মিমের পর্দা উঠিয়ে দেখ্ মন

বাণী

আহ্‌মদের ঐ মিমের পর্দা উঠিয়ে দেখ্ মন।
(আহা) আহাদ সেথা বিরাজ করেন হেরে গুণীজন।।
যে চিন্‌তে পারে রয় না ঘরে হয় সে উদাসী,
সে সকল ত্যজে ভজে শুধু নবীজীর চরণ।।
ঐ রূপ দেখে পাগল হ’ল মনসুর হল্লাজ,
সে ‌‘আনল্ হক্‌’ ‌‘আনল্ হক্‌’ ব’লে ত্যজিল জীবন।।
তুই খোদ্‌কে যদি চিন্‌তে পারিস্‌ চিন্‌বি খোদাকে,
তুই দেখ্‌রে তাই তোরই চোখে সেই নূরী রওশন।।

মাগো তোরি পায়ের নূপুর বাজে

বাণী

মাগো তোরি পায়ের নূপুর বাজে
এই বিশ্বের সকল ধ্বনির মাঝে।।
জীবের ভাষায় পাখির মধুর গানে,
সাগর রোলে নদীর কলতানে
সমীরণের মরমরে শুনি সকাল সাঁঝে।।
আমার প্রতি নিঃশ্বাসে মা রক্তধরার মাঝে
প্রাণের অনুরণনে তোর চরণধ্বনি বাজে।
গভীর প্রণব ওঙ্কারে তোর কালি (মা গো মহাকালী)
সেই নৃত্যলীলার স্তবগাথা গান চরণতলে নটরাজে।।

আঁধার রাতে দেবতা মোর

বাণী

আঁধার রাতে দেবতা মোর এসে গেছে চ’লে
রেখে গেছে চরণ-চিহ্ন শূন্য গৃহ-তলে।।
	জেগে দেখি বুকের কাছে
	পূজার মালা প’ড়ে আছে
ফেলে গেছে মালাখানি বুঝি খানিক প’রে গলে।।
তার অঙ্গের সুবাস ভাসে মন্দির-অঙ্গনে,
তাহার ছোঁওয়া লেগে আছে কুমকুম-চন্দনে।
	অপূর্ণ মোর প্রণামখানি
	দেবো কবে নাহি জানি,
সে আস্‌বে বুঝি বাসনা-ধূপ পুড়িয়া শেষ হলে’।।