প’রো প’রো চৈতালি-সাঁজে কুস্‌মি শাড়ি

বাণী

প’রো প’রো চৈতালি-সাঁজে কুস্‌মি শাড়ি।
আজি তোমার রূপের সাথে চাঁদের আড়ি॥
প’রো ললাটে কাঁচপোকার টিপ,
তুমি আলতা প’রো পায়ে হৃদি নিঙাড়ি’॥
প্রজাপতির ডানা-ঝরা সোনার টোপাতে,
ভাঙা ভুরু জোড়া দিও বাতুল শোভাতে।
বেল-যূথিকার গ’ড়ে মালা প’রো খোঁপাতে
দিও উত্তরীয় শিউলি-বোঁটার রঙে ছোপাতে,
রাঙা সাঁঝের সতিনী তুমি রূপ-কুমারী॥

তুমি কি নিশীথ-চাঁদ ভাঙাতে ঘুম

বাণী

স্ত্রী	:	তুমি কি নিশীথ-চাঁদ ভাঙাতে ঘুম
		চুপি চুপি আসিলে বাতায়নে।
পুরুষ	:	তুমি কি গো বন-দেবী পুষ্প-শোভিতা
		চেয়ে আছ কোন দূরে আনমনে।।
স্ত্রী	:	তোমারে হেরিয়া ফোটে মালতী হেনা
		হে চির চেনা
পুরুষ	:	সুদুর বনান্তে সমীরণ হেরি' তোমায় হ'লো অধীর
		পাপিয়া ডাকে বকুল বনে।।
স্ত্রী	:	তব কলঙ্ক অধিক মধুর লাগে হে কলঙ্কী চাঁদ,
		তোমারে হেরিয়া যত সাধ জাগে প্রাণে জাগে তত অবসাদ।
পুরুষ	:	তোমার ছায়া প'ড়ে মোর আননে
		কলঙ্কী নাম হলো মোর এই ভুবনে।
উভয়ে	:	আকাশের চাঁদে কুমুদ ফুলে
		মিলন হ'লো ধরার ভুলে
		অশ্রুসায়রে সঙ্গোপনে।।

মোর ঘনশ্যাম এলে কি আজ

বাণী

মোর ঘনশ্যাম এলে কি আজ কালো মেঘের বেশে।
দূর মথুরার নীল-যমুনা পার হ’য়ে মোর দেশে।।
		এলে কালো মেঘের বেশে।।
	বৃষ্টি ধারায় টাপুর টুপুর
	বাজে তোমার সোনার নূপুর,
বিজলিতে চপল আঁখির চমক বেড়ায় হেসে।।
তোমার তনুর সুগন্ধ পাই, যুঁই কেতকীর ফুলে
ওগো রাজাধিরাজ! ব্রজে আবার এলে কি পথ ভুলে।
	মেঘ-গরজনের ছলে
	ডাকো ‘রাধা রাধা’ বলে
বাদল হাওয়ায় তোমার বাঁশির বেদন আসে ভেসে।।

আজ্‌কা হইবো মোর বিয়া কাল্‌কা আইমু বউ লইয়া

বাণী

আজ্‌কা হইবো মোর বিয়া কাল্‌কা আইমু বউ লইয়া,
থাইগ্‌বা তোমরা ফ্যাল-ফ্যালাইয়া বুঝ্‌ল্যা গোপ্‌লা মুকুন্দ্যা।।
তাইরে নাইরে নাইরে না, রইমু ঘরে বাইরে না
হকাল হইন্ধ্যা দুপইত্‌ত্যা চইল্যা যাইবো কোহান্ দ্যা।।

[আরে ও পরামানিকের পো, ক্ষুরবার লইয়া যাইতাছো কই?
আমারে বর কামান কামাইয়া দিয়া যাওছ্যান!
আইজগ্যা যে আমার বিয়া হইবো! [হ আরে আহো! আহো]
তাইরে নাইরে নাইরে না, রইমু ঘরে বাইরে না
হকাল হইন্ধ্যা দুপইত্‌ত্যা চইল্যা যাইবো কোহান্ দ্যা।।

[হউর হাউরী পাইমু কাল্‌, হুমুন্দী, আর হালার পাল
কইবো মোরে, হুনত্যাছ? ও-জামাই, কড়াকড়ির কী কাম আছে,
আর দুইডা দিন থাইক্যা যাও না ক্যা? অ্যা!]
আরে আমি উঠ্‌মু কি গাছত্ গিয়া, উৎকা মাইর্যা  ফাল দিয়া,
ভাইরে, হালার পরান ডা, (ভাইরে) নাইচ্যা উঠ্‌ছে এ্যাহন্ থ্যা।
তাইরে নাইরে নাইরে না, রইমু ঘরে বাইরে না
হকাল হইন্ধ্যা দুপইত্‌ত্যা চইল্যা যাইবো কোহান্ দ্যা।।

[আরে ও মুখুজ্যা ভাই, মুখুজ্যা ভাই, আরে যাও কই, হুইনা যাও।
হুইনা যাও। হক্‌কল দিনই তো বলদ লইয়া মাঠে চরাইবার যাও।
আজকা আমারে লইয়া মাইয়ার বাড়ি যাওন লাগ্‌বো,
খাওন-দাওন আছে খাওন-দাওন আছে! ঠইগ্‌বা না, ঠইগ্‌বা না!]
তাইরে নাইরে নাইরে না, রইমু ঘরে বাইরে না
হকাল হইন্ধ্যা দুপইত্‌ত্যা চইল্যা যাইবো কোহান্ দ্যা।।

[খাইমু কি কি আরে হুনছ — গোপ্‌লা, ও মুকুন্দ্যা!
আরে, মুকুন্দ্যা ঐ খানে যাইয়া খারাইয়া আছত্ কিল্ল্যাইগ্যা? আহো, হুনো!
মাংস খাইমু, লুচি খাইমু, পাত্‌ক্ষীর খাইমু, আর দইও খাইমু। আর তোমরা
অভাগ্যা, অভাগ্যার পাল! তোমরা তো খাইবা না, তোমরা চাইটবা! চুকা কাসুন্দ্যা চাইটবা।]
ফুচ্‌কি দিয়া তোমরা চোর, দেখ্‌বার চাইবা বউরে মোর,
রাখুম তারে লুকাইয়া, হোগলার বস্তা চাপুনদ্যা।।
তাইরে নাইরে নাইরে তাই, বউরে ছাইর্যা  যাইরে ভাই
থাক্‌তে পরান অসুম্ না, (ভাই) পইচ্যা হইমু ফাপুন্দ্যা।।

[আরে গোরা-চাঁন যে, অকালের গাড়িতে আইল্যা বুঝি?
তোমরা দুই ভাইয়েই তো কোলকাতায় আষ্ট বছর কাল
ঘরজামাই হইয়া আছো। বউর লগে ভাব ক্যামুন। চালতাছে ক্যামন? অ্যা?]

এ কোথায় আসিলে হায়

বাণী

এ কোথায় আসিলে হায়, তৃষিত ভিখারি।
হায়, পথ-ভোলা পথিক, হায়, মৃগ মরুচারী।।
	মোর ব্যথায় চরণ ফেলে
	চির-দেবতা কি এলে,
হায়, শুকায়েছে যবে মোর নয়নে নয়ন-বারি।।
তোমার আসার পথে প্রিয় ছিলাম যবে পরান পাতি’,
সেদিন যদি আসিতে নাথ হইতে ব্যথার ব্যথী।
ধোওয়ায়ে নয়ন-জলে পা মুছাতাম আকুল কেশে
আজ কেন দিন-শেষে এলে নাথ মলিন বেশে!
হায়, বুকে ল’য়ে ব্যথা আসিলে ব্যথা-হারী।।
স্মৃতির যে শুকানো মালা যতনে রেখেছি তুলি’
ছুঁয়ে সে হার ঝরায়ো না ম্লান তার কুসুমগুলি,
হায়, জ্বলুক বুকে চিতা, তা’য় ঢেলো না আর বারি।।

আমি ভাই ক্ষ্যাপা বাউল

বাণী

আমি ভাই ক্ষ্যাপা বাউল, আমার দেউল আমারি এই আপন দেহ।
আমার এ প্রাণের ঠাকুর নহে সুদূর অন্তরে মন্দির-গেহ।।
সে থাকে সকল সুখে সকল দুখে আমার বুকে অহরহ,
কভু তায় প্রণাম করি, বক্ষে ধরি, কভু তা’রে বিলাই স্নেহ।।
ভুলায়নি আমারি কুল, ভুলেছে নিজেও সে কুল,
ভুলে বৃন্দাবন গোকুল মোর সাথে মিলন বিরহ।
সে আমার ভিক্ষা-ঝুলি কাঁধে তুলি’, চলে ধূলি-মলিন পথে,
নাচে গায় আমার সাথে একতারাতে, কেউ বোঝে, বোঝে না কেহ।।