নিতি নিতি মোরে ডাকে সে

বাণী

নিতি নিতি মোরে ডাকে সে স্বপনে,
নিরাশার আলো জ্বলিয়া গোপনে।
জানি না মায়াবিনী কী মায়া জানে
কেবলি বাহিরে পরান টানে,
ঘুরে ঘুরে মরি আঁধার-গহনে।।
শত পথিকে ও-রূপে ছল হানে,
অপরূপ শতরূপে শত গানে।
পথে পথে বাজে তাহারি বাঁশি,
সে-সুরে নিখিল-মন উদাসী;
দহে যাদুকরী বিধুর দহনে।।

বল ভাই মাভৈঃ মাভৈঃ নবযুগ ঐ এলো ঐ

বাণী

বল ভাই মাভৈঃ মাভৈঃ, নবযুগ ঐ এলো ঐ
		এলো ঐ রক্ত যুগান্তর রে।
বল জয় সত্যের জয় আসে ভৈরব বরাভয়,
		শোন অভয় ঐ রথ-ঘর্ঘর রে।।
রে বধির! শোন পেতে কান ওঠে ঐ কোন মহাগান,
হাঁকছে বিষাণ ডাকছে ভগবান রে।
জগতে জাগলো সাড়া জেগে ওঠ উঠে দাঁড়া,
ভাঙ্‌ পাহারা মায়ার কারা-ঘর রে।
যা আছে যাক্‌ না চুলায় নেমে পড় পথের ধূলায়,
নিশান দুলায় ঐ প্রলয়ের ঝড় রে।।
সে ঝড়ের ঝাপটা লেগে ভীম আবেগে উঠনু জেগে
পাষাণ ভেঙে প্রাণ-ঝরা নির্ঝর রে।
ভুলেছি পর ও আপন ছিঁড়েছি ঘরের বাঁধন,
স্বদেশ স্বজন স্বদেশ মোদের ঘর রে।
যারা ভাই বদ্ধ কুয়ায় খেয়ে মার জীবন গোঁয়ায়
তাদের শোনাই প্রাণ-জাগা মন্তর রে।।
ঝড়ের ঝাঁটার ঝাণ্ডা নেড়ে মাভৈঃ বানীর ডঙ্কা মেরে
শঙ্কা ছেড়ে হাঁক প্রলয়ঙ্কর রে।
তোদের ঐ চরণ-চাপে যেন ভাই মরণ কাঁপে
মিথ্যা পাপের কণ্ঠ চেপে ধর্‌ রে।
শোনা তোর বুক-ভরা গান জাগা তোর দেশ-জোড়া প্রাণ,
দে বলিদান প্রাণ ও আত্মপর রে।।
মোরা ভাই বাউল চারণ মানি না শাসন বারণ,
জীবন মরণ মোদের অনুচর রে।
দেখে ঐ ভয়ের ফাঁসি হাসি জোর জয়ের হাসি,
অ-বিনাশী নাইকো মোদের ডর রে,
গেয়ে যাই গান গেয়ে যাই মরা প্রাণ উট্‌কে দেখাই,
ছাই-চাপা ভাই অগ্নি ভয়ঙ্কর রে।।
খুঁড়ব কবর তুড়ব শ্মশান মড়ার হাড়ে নাচাব প্রাণ,
আনব বিধান নিদান কালের বর রে
শুধু এই ভরসা রাখিস মরিস্‌নি ভির্মি গেছিস
ঐ শুনেছিস ভারত বিধির স্বর রে।
ধর্‌ হাত ওঠ্‌ রে আবার দুর্যোগের রাত্রি কাবার,
ঐ হাসে মা'র মূর্তি মনোহর রে।।

জ্যোতির্ময়ী মা এসেছে আঁধার আঙিনায়

বাণী

জ্যোতির্ময়ী মা এসেছে আঁধার আঙিনায়।
ভুবনবাসী ছেলেমেয়ে আয় রে ছুটে আয়॥
আনন্দ আজ লুট হতেছে কে কুড়াবি আয়,
আনন্দিনী দশভূজা দশ হাতে ছড়ায়,
মা অভয় দিতে এলো ভয়ের অসুর’ দ’লে পায়॥
বুকের মাঝে টইটম্বুর ভরা নদীর জল,
ওরে দুলছে টলমল, ওরে করছে ঝলমল।
ঝিলের জলে ফুটল কত রঙের শতদল
	ছুঁতে মায়ের পদতল।
দেব সেনারা বাইচ্ খেলে রে আকাশ গাঙের স্রোতে,
সেই আনন্দে যোগ দিবি কে? আয় রে বাহির পথে,
আর দেব না যেতে মাকে রাখব ধ’রে পায়
মাতৃহারা মা পেলে কি ছাড়তে কভু চায়॥

বলেছিলে তুমি ভালোবাস মোরে

বাণী

বলেছিলে তুমি ভালোবাস মোরে, মোর হাতখানি ধ’রে।
সেই দুটি কথা ভুলিতে পারি না, নিশিদিন মনে পড়ে।।
		সেই কথা যবে মনে জাগে
		সারা দেহে শিহরণ লাগে,
মোর হৃদয়ের পুষ্পাঞ্জলি অশ্রু হইয়া ঝরে।।
পথ চেয়ে থাকি’ মনে মনে ডাকি, তেমনি সন্ধ্যা হল,
সেদিন যে কথা বলেছিলে বঁধু, আবার সে কথা বল।
	প্রিয়	সেদিনের মত এসে
	মোর	হাত ধর ভালোবেসে,
হের ছিন্নলতার মত সেই হাত প’ড়ে আছে অনাদরে।।

যাক্ না নিশি গানে গানে

বাণী

যাক্ না নিশি গানে গানে জাগরণে
আজকে গানের বান এসেছে আমার মনে।।
	মন ছিল মোর পাতায় ছাওয়া
	হঠাৎ এলো দিখন্ হাওয়া
পাতার কোলে কথার কুঁড়ি ফুট্‌লো অধীর হরষণে।।
সেই কথারই মুকুলগুলি সুরের সুতোয় গেঁথে গেঁথে,
কা’রে যেন চাই পরাতে কাহারে চাই কাছে পেতে।
	জানি না সে কোন্ বিজনে
	নিশীথ জেগে এ গান শোনে
না-দেখা তার চোখের চাওয়ায় আবেশ জাগায় মোর নয়নে।।

ফিরে এলো সেই কৃষ্ণাষ্টমী তিথি

বাণী

ফিরে এলো সেই কৃষ্ণাষ্টমী তিথি, হে শঙ্খচক্রধারী!
তোমার মাভৈঃ অভয় আকাশবাণী, কেন নাহি শুনি? হে মুরারি!!
	সেই ঘনঘটা দুর্যোগ-নিশি
	নিরাশা-আঁধারে ঢাকা দশদিশি;
গগনে তেমনি ঘোর দুন্দুভি বাজে, ঝরে তেমনি অশ্রু-বারি।।
আজো মানুষের আত্মা তেমনি কাঁদে আশা-যমুনার দুই পারে,
এ-পারে দেবকী ও-পারে যশোদা আজো ডাকে মুক্তির বিধাতারে।
	আবার প্রেমের বংশী বাজাও,
	এই হানাহানি হিংসা ভুলাও,
আর্ত-কলির গানের এ শেষ-কলি দাও শেষ করে ব্যথাহারী।।