সখি সাজায়ে রাখ্ লো পুষ্প-বাসর

বাণী

সখি		সাজায়ে রাখ্ লো পুষ্প-বাসর তেমনি করিয়া তোরা,
		কে জানে কখন্ আসিবে ফিরিয়া গোপিনীর মনোচোরা।
		(সে কি) ভুলিয়া থাকিতে পারে, তা’র চির-দাসী রাধিকারে,
		কত ঝড় ঝঞ্চায় বাদল-নিশীথে এসেছে সে অভিসারে।।
		মধু-বন হ’তে চেয়ে আন্ আধ-ফোটা বনফুল,
		পাপিয়ারে বল গান গাহিতে অনুকূল।
		চাঁপার কলিকা এনে নূপুর গেঁথে রাখ
		তেমনি তমাল-ডালে ঝুলনা বাঁধা থাক্।
		দেহের ডালায় রূপ-অঞ্জলি ধরিয়া
		রাস-মঞ্চে চল্ বেশ ভূষা করিয়া।
আখর	:	[বেঁধে রাখ্ লো — ঝুলনা তেমনি বেঁধে রাখ লো —
		তমাল-ডালে ঝুলনা তেমনি বেঁধে রাখ্ লো]
		সখি, যোগিনীর বেশ ছাড়িয়া আবার পরিব নীলাম্বরী,
		মথুরা ত্যজিয়া এ ব্রজে ফিরিয়া আসিবে কিশোর হরি।।
		হরি ফিরিয়া আসিবে, সময় পাবি না তোরা মুছিতে চোখের জল
		আনন্দে ভাসিবে, আনন্দ ব্রজধাম আনন্দে ভাসিবে।।
আখর	:	[ফিরে আসিবে — কিশোর নটবর ফিরে আসিবে —
		এই ব্রজে পদরজ দিতে ফিরে আসিবে আসিবে]
		আনন্দে ভাসিবে — নিরানন্দ ব্রজপুর আনন্দে ভাসিবে —
		এই নিরানন্দ ব্রজপুর হরিপদ-রজ লভি’ আনন্দে ভাসিবে।।

সাধ জাগে মনে পর-জীবনে

বাণী

		সাধ জাগে মনে পর-জীবনে
(আমি)		তব কপোলে যেন তিল হই।
		ভালবাসিয়া মোরে দিল্‌ দিবে তুমি
(যেন)		আমি তোমার মত বে-দিল্‌ হই।।
		মোর দেওয়া যে হার নিলে না অকরুণা
(যেন)		হয়ে সে হার তব বক্ষে রই।।
		যাহারে ভালবেসে তুমি চাহ না মোরে
		মরিয়া আসি যেন তাহারি রূপ ধ’রে
(তুমি)		হার মানিবে আমি হ’ব জয়ী।।
		হৃদি নিঙাড়ি মম আল্‌তা হব পায়ে
		অধরে হব হাসি রূপ-লাবনি গায়ে
		আমার যাহা কিছু তোমাতে হবে হারা
(প্রিয়)		তুমি জানিবে না আমা বৈ।।

তুমি প্রভাতের সকরুণ ভৈরবী

বাণী

তুমি প্রভাতের সকরুণ ভৈরবী।
শিশির-সজল ভোরের আকাশে ভাসে তোমারি উদাস ছবি।।
	বিষাদ গভীর কার কল্পনা
	রূপ ধ’রে তুমি ফের আনমনা,
তোমারি মূরতি ধেয়ায় স্বপনে বিরহী সুরের কবি।।
তুমি ধরা দিতে যেন আস নাই ধরণীতে,
একা-একা খেলা খেল সারাবেলা সাথিহীন তরণীতে।
	আঘাত হানিয়া সে-কোন্ নিঠুর
	জাগাবে তোমাতে আশাবরি সুর,
পাষাণ টুটিয়া গলিয়া পড়িবে অশ্রুর জাহ্নবী।।

গাগরী ভরণে চলে চপলা ব্রজনারী

বাণী

গাগরী ভরণে চলে চপলা ব্রজনারী
যৌবন-লাবনি অঙ্গে বিথারি’।
কাজল-কালো নয়ন গরল মাখানো বাণ,
চকিত চাহনি হানে চতুরা শিকারী।।
চঞ্চল-অঞ্চল উড়ায়ে সাঁজের বায়
আধো আলো আধো ছায়া লুকোচুরি খেলে যায়,
রাঙা তপন হেসে লুকায় লতার পাশে কাঁদে দরশ-ভিখারি।।

দাঁড়ালে দুয়ারে মোর

বাণী

	দাঁড়ালে দুয়ারে মোর		কে তুমি ভিখারিনী।
	গাহিয়া সজল চোখে		বেলা-শেষের রাগিণী॥
	মিনতি-ভরা আঁখি			ওগো কে তুমি ঝড়ের পাখি
(ওগো)	কি দিয়ে জুড়াই ব্যথা		কেমনে কোথায় রাখি
	কোন্ প্রিয় নামে ডাকি’		মান ভাঙাব মানিনী॥
	বুকে তোমায় রাখতে প্রিয়	        চোখে আমার বারি ঝরে,
(ওগো)	চোখে যদি রাখিতে চাই		বুকে উঠে ব্যথা ভ’রে।
	যত দেখি তত হায়,		ওগো পিপাসা বাড়িয়া যায়
	কে তুমি যাদুকরী			স্বপন-মরু-চারিণী॥

সোনার মেয়ে! সোনার মেয়ে

বাণী

সোনার মেয়ে! সোনার মেয়ে!
তোমার রূপের মায়ায় আমার নয়ন- ভুবন গেল ছেয়ে'।।
	ঝরে তোমার রূপের ধারা—
	চন্দ্র জাগে তন্দ্রাহারা,
আকাশ-ভরা হাজার তারা তোমার মুখে আছে চেয়ে'।।
	কোন গ্রহ-লোক ব্যথায় ভ'রে
	কোন অমরা শূন্য ক'রে
(ওগো) রাখলে চরণ ধরার পরে রঙ-সায়রের রঙের নেয়ে।
	শিল্পী আকেঁ তোমার ছবি
	তোমারি গান গাহে কবি
নিশীথিনী হারিয়ে রবি চাঁদ হাতে পায় তোমায় পেয়ে।।