এসো বঁধূ ফিরে এসো

বাণী

এসো বঁধূ ফিরে এসো, ভোলো ভোলো অভিমান।
দিব ও-চরণে ডারি’ মোর তনু মন প্রাণ।।
	জানি আমি অপরাধী
	তাই দিবানিশি কাঁদি’,
নিমেষের অপরাধের কবে হবে অবসান।।
	ফিরে গেলে দ্বারে আসি’
	বাসি কিনা ভালোবাসি,
কাঁদে আজ তব দাসী — তুমি তার হৃদে ধ্যান।।
	সে-দিন বালিকা-বধূ
	শরমে মরম-মধু
পি’য়াতে পারিনি বঁধূ — আজ এসে কর পান।।
	ফিরিয়া আসিয়া হেথা
	দিও দুখ দিও ব্যথা,
সহে না এ নীরবতা — হে দেবতা পাষান।।

তৌহিদেরি মুর্শিদ আমার মোহাম্মদের নাম

বাণী

তৌহিদেরি মুর্শিদ আমার মোহাম্মদের নাম।
ঐ নাম জপলেই বুঝতে পারি খোদায়ী কালাম —
			মুর্শিদ মোহাম্মদের নাম।।
ঐ নামেরি রশি ধ’রে যাই আল্লার পথে,
ঐ নামেরি ভেলা ধ’রে ভাসি নূরের স্রোতে,
ঐ নামেরি বাতি জ্বেলে দেখি আরশের মোকাম।
			মুর্শিদ মোহাম্মদের নাম।।
ঐ নামের দামন ধ’রে আছি আমার কিসের ভয়,
ঐ নামের গুনে পাব (আমি) খোদার পরিচয়,
তাঁর কদম মোবারক যে আমার বেহেশ্‌তী তাঞ্জাম।
			মুর্শিদ মোহাম্মদের নাম।।

আকাশে আজ ছড়িয়ে দিলাম প্রিয়

বাণী

	আকাশে আজ ছড়িয়ে দিলাম প্রিয়।
	আমার কথার ফুল গো,
	আমার গানের মালা গো —
			কুড়িয়ে তুমি নিও।।
	আমার সুরের ইন্দ্রধনু
	রচে আমার ক্ষণিক তনু,
	জড়িয়ে আছে সেই রঙে মোর
			অনুরাগ অমিয়।।
আমার	আঁখি-পাতায় নাই দেখিলে
			আমার আঁখি-জল,
আমার	কণ্ঠের সুর অশ্রুভারে
			করে টলমল।
	আমার হৃদয়-পদ্ম ঘিরে
	কথার ভ্রমর কেঁদে ফিরে,
	সেই ভ্রমরের কাছে আমার
			মনের মধু পিও।।

গীতি আলেখ্য: ‌‘আকাশবাণী’

উম্মত আমি গুনাহগার

বাণী

উম্মত আমি গুনাহগার তবু ভয় নাহি রে আমার।
আহমদ আমার নবী যিনি খোদ্ হবিব খোদার।।
যাঁহার উম্মত্ হ’তে চাহে সকল নবী,
তাঁহারি দামন ধরি’ পুলসরাত হব পার।।
	কাঁদিবে রোজ হাশরে সবে
	যবে ‘নফ্‌সি য়্যা নফ্‌সি’ রবে,
‘য়্যা উম্মতী’ ব’লে একা কাঁদিবেন আমার মোখতার।।
কাঁদিবেন সাথে মা ফাতেমা ধরিয়া আরশ্ আল্লার।
হোসায়নের খুনের বদলায় মাফী চাই পাপী সবাকার।
দোজখ্ হয়েছে হারাম যে-দিন পড়েছি কলেমা।
যেদিন হয়েছি আমি কোরানের নিশান-বর্দার।।

রাস-মঞ্চে দোল-দোল লাগে রে

বাণী

রাস-মঞ্চে দোল-দোল লাগে রে, জাগে ঘূর্ণি-নৃত্যের দোল।
আজি রাস-নৃত্য নিরাশ চিত্ত জাগো রে,
চল যুগলে যুগলে বন-ভবনে -  
আনো নিথর হেমন্ত হিম পবনে চঞ্চল হিল্লোল॥
শতরূপে প্রকাশ আজি শ্রী হরি,
শত দিকে শত সুরে বাজে বাঁশরি -  
সকল গোপিনী আজি রাই কিশোরী, -
যাবে তৃষ্ণা, পাবে কৃষ্ণের কোল॥
তরল তাল ছন্দ-দুলাল নন্দ-দুলাল নাচে রে,
অপরূপ রঙ্গে নৃত্য-বিভঙ্গে অঙ্গের পরশ যাচে রে;
মানস-গঙ্গা অধীর-তরঙ্গা প্রেমের-যমুনা হ’ল রে উতরোল॥

স্বপনে দেখেছি ভারত-জননী

বাণী

স্বপনে দেখেছি ভারত-জননী
			তুই যেন রাজরাজেশ্বরী।
নবীন ভারত! নবীন ভারত!
			স্তব-গান ওঠে ভুবন ভরি’।।
শস্যে ফসলে ডেকেছে মা বান
মাঠে ও খামারে ধরে নাকো ধান
মুখভরা হাসি, হসিভরা প্রাণ
			নদী ভরা যেন পণ্যতরী।।
পড়ুয়ারা পড়ে বকুল-ছায়ে
সুস্থ সবল আদুল গায়ে
মেয়েরা ফিরিছে মুক্ত বায়ে
			কল-গীতে দিক মুখর করি’।
ভুলিয়া ঈর্ষা ভোগ আসক্তি
ধরার ক্লান্ত অসুর-শক্তি
এসেছে শিখিতে প্রেম ও ভক্তি
			নব-ভারতের চরণ ধরি’।।