বেদনার পারাবার করে হাহাকার

বাণী

বেদনার পারাবার করে হাহাকার
তোমার আমার মাঝে হে প্রিয়তম।
অনন্ত এই বিরহের নাহি পার,
হবে না মিলন আর এ জনম।।
এই বুঝি হায়, বিধির লিখন
দু’কূলে থাকি’ কাঁদিব দু’জন
রাতের চখা-চখীর সম।।
বাতায়নে জ্বালি’ আশা-দীপ
চাহিব তোমার আসার পথে
বিফল মালার মলিন কুসুম
ভাসাব নদীর ভাটীর স্রোতে।
নিশুতি রাতের তারার চোখে,
দলিত ফুলে ঝরা-কোরকে
খুঁজিও আমায় ফিরিয়া যদি
আসি এ-ঘরে প্রিয় মম।।

১. আস হে কভু হে বন্ধু মম

রাখ রাখ রাঙা পায় হে শ্যামরায়

বাণী

রাখ রাখ রাঙা পায়, হে শ্যামরায়!
ভুলে গৃহ স্বজন সবই সঁপেছি তোমায়॥
সংসার মরু ঘোর, নাহি তরু-ছায়া,
নব নীরদ শ্যাম, আনো মেঘ-মায়া;
আনন্দ-নীপবনে নন্দ-দুলাল এসো,
বাহও উজান, হরি, অশ্রুর যমুনায়॥
একা জীবন মোর গহন ঘন ঘোর,
এসো এ বনে বনমালী, গোপ কিশোর,
কুঞ্জ রচেছি দুখ-শোক তমাল-ছায় -  
প্রেম-প্রীতির গোপী চন্দন শুকায়ে যায়॥
দারা সুত প্রিয়জন, হরি হে, নাহি চাই,
পদ্মা-পলাশ-আঁখি যদি দেখিতে পাই;
রাখাল-রাজা এসো, এসো হে ঋষিকেশ,
গোকুলে লহ ডাকি’, অকূলে ভাসি হায়॥

সকল জাতির সব মানুষের বন্ধু হে মোহসীন

বাণী

সকল জাতির সব মানুষের বন্ধু, হে মোহসীন।
এ যুগে তুমিই শোধ করিয়াছ এক আল্লার ঋণ।।
ভোগ করনি ক’ বিপুল বিত্ত পেয়ে
ভিখারি হইলে শুধু আল্লারে চেয়ে,
মহাধনী হ’লে আল্লার কৃপা পেয়ে —
দুনিয়ায় তাই রহিলে কাঙাল দীন।।
মানুষের ভালোবাসায় দেখিলে আল্লার ভালোবাসা,
সৃষ্টির তরে কাঁদিয়া পুরালে তব স্রষ্টার আশা।
তব দান তাই ফুরায়ে নাহি ফুরায়
বিত্ত হইলে নিত্য এ দুনিয়ায়,
শিখাইয়া গেলে, মুসলিম তারে কয় —
অর্থ যাহারে কিনিতে পারে না যে নহে লোভ-মলিন।।

আমি রচিয়াছি নব ব্রজধাম হে মুরারি

বাণী

আমি	রচিয়াছি নব ব্রজধাম হে মুরারি
সেথা	করিবে লীলা এসো গোলক-বিহারী।।
মোর	কামনার কালীদহ করি মন্থন
	কালীয় নাগে হরি করিও দমন
আছে	গিরি-গোরবর্ধন মোর অপরাধ
যদি	সাধ যায় সেই গিরি ধ'রো গিরিধারী।।
আছে	ষড় রিপু কংসের অনুচর দল
আছে	অবিদ্যা পুতনা শোক দাবানল
আছে	শত জনমের সাধ আশা-ধেনুগণ
আছে	অসহায় রোদনের যমুনা-বারি
আছে	জটিলতা কুটিলতা প্রেমের বাধা
হরি	সব আছে, নাই শুধু আনন্দ-রাধা
তুমি	আসিলে হরি ব্রজে রাসেশ্বরী
	আসিবেন হ্লাদিনী রূপে রাধা প্যারী।।

কথা কও কও কথা থাকিও না চুপ ক'রে

বাণী

কথা কও, কও কথা, থাকিও না চুপ ক'রে।
মৌন গগনে হের কথার বৃষ্টি ঝরে।।
ধীর সমীরণ নাহি যদি কহে কথা
ফোটে না কুসুম, নাহি দোলে বনলতা।
কমল মেলে না দল, যদি ভ্রমর না গুঞ্জরে।।
শোন কপোতীর কাছে কপোত কি কথা কহে,
পাহাড়ের ধ্যান ভাঙি মুখর ঝর্ণা বহে।
আমার কথার লঘু মেঘগুলি হায়!
জ'মে হিম হয়ে যায় তোমার নীরবতায়;
এসো আরো কাছে এসো কথার নূপুর প'রে।।

গীতিচিত্রঃ অতনুর দেশ

চাঁপা রঙের শাড়ি আমার

বাণী

চাঁপা রঙের শাড়ি আমার যমুনা-নীর ভরণে গেল ভিজে।
ভয়ে মরি আমি, ঘরে ননদী, কহিব শুধাইলে কি যে।।
	ছি ছি হরি, একি খেল লুকোচুরি
	একেলা পথে পেয়ে কর খুন্‌সুড়ি,
রোধিতে তব কর ভাঙিল চুড়ি — ছলকি গেল কলসি যে।।
	ডাঁশা কদম্ব দিবে বলি হরি
	ডাকিলে-তরুতলে কেন ছল করি’,
কাঁচা বয়সী পাইয়া শ্রী হরি — মজাইলে, মজিলে নিজে।।