ফিরি পথে পথে মজনুঁ দীওয়ানা হয়ে

বাণী

	ফিরি পথে পথে মজনুঁ দীওয়ানা হয়ে।
	বুকে মোর এয়্ খোদা তোমারি এশ্‌ক ল’য়ে।।
	তোমার নামের তস্‌বিহ্‌ ল’য়ে ফিরি গলে
	দুনিয়াদার বোঝে না মোরে পাগল বলে,
	ওরা চাহে ধনজন, আমি চাহি প্রেমময়ে।।
	আছ সকল ঠাঁয়ে শু’নে বলে সবে
	এমনি চোখে তোমার দিদার কবে হবে
আমি	মনসুর নহি যে পাগল হব ‘আনাল্ হক’ ক’য়ে।।
	তোমার হবিবের আমি উম্মত্ এয়্ খোদা
	তাই ত দেখিতে তোমায় সাধ জাগে সদা,
আমি	মুসা নহি যে বেহোঁশ্ হয়ে পড়ব ভয়ে।।
	তোমারি করুণায় যাবই তোমায় জেনে
	বসাব মোর হৃদে তোমার আর্শ এনে,
আমি	চাই না বেহেশ্‌ত, র’ব বেহেশ্‌তের মালিক ল’য়ে।।

আজ সুদিনের আসল ঊষা

বাণী

আজ সুদিনের আসল ঊষা, নাই অভাব আজ নাই অভাব।
অরুণ রবির মতন রাঙা পেয়ালা ভরি’ আন্‌ শারাব।।
ঊষার করে পেয়ালা রবির, উপচে পড়ে কিরণ-মদ,
মধুর ‍উজল সময় এমন, আজ করো না দিল্‌ খারাব।।
শান্ত কুটির, বন্ধু সাকি, মধুর-কণ্ঠ গায় গজল,
আয়েশ-সুখের আরাম গো তায় নৌ-জোয়ানী বে-হিসাব।।
নাচছে প্রিয়া সাকির সাথে, সুর-পিয়াসি দেয় তালি,
সাকির আঁখির মদির লীলা টুটায় মদের বদ্‌-খোয়াব।।
মদের নেশায় মিঠার লোভে, সাবাস চতুর ফুল-মালী —
লুকিয়ে রাখ সুবজ পাতায় শারাব-মধুর লাল গোলাব।।
পর্‌ল প্রিয়া যেদিন কানে গানের মোতি হাফিজের,
সেদিন হতে উর্বশী মোর শুনছে গানের বীণ্‌-রবাব্‌।।

নারায়ণী উমা খেলে হেসে হেসে

বাণী

নারায়ণী উমা খেলে হেসে হেসে
হিম-গিরির বুকে পাহাড়ি বালিকা বেশে॥
গিরি-গুহা হতে জ্যোতির ঝরনা ছুটে চলে যেন চল ঝরনা,
তুষার-সায়রে সোনার কমল যেন বেড়া ভেসে।
			— খেলে হেসে হেসে।
মাধবী চাঁদ ওঠে কৈলাস-চূড়ে,
খেলা ভুলিয়া যায়, অনিমেষ চোখে চায়
পাষাণ প্রতিমা প্রায় সেই সুদূরে।
সতী-হারা যোগী পাগল শঙ্করে
মনে পড়িয়া তার নয়নে বারি ঝরে,
শিব-সীমন্তনী পাগলিনী প্রায় ‘শিব শিব’ বলে ধায় মুক্তকেশে॥

যাহা কিছু মম আছে প্রিয়তম

বাণী

যাহা কিছু মম আছে প্রিয়তম সকলি নিয়ো হে স্বামী
যত সাধ আশা প্রীতি ভালোবাসা সঁপিনু চরণে আমি॥
	ধ’রে যা’রে রাখি আমার বলিয়া
	সহসা কাঁদায়ে যায় সে চলিয়া
অনিমেষ, আঁখি তুমি ধ্রুবতারা জাগো দিবসযামী॥
	মায়ারি ছলনায় পুতুল খেলায়
	ভুলাইয়া প্রভু রেখেছিলে আমায়
ভুলেছি সে খেলা আজি অবেলায় তোমারই দুয়ারে থামি॥

তুমি আনন্দ ঘনশ্যাম আমি প্রেম-পাগলিনী রাধা

বাণী

তুমি আনন্দ ঘনশ্যাম আমি প্রেম-পাগলিনী রাধা।
তব ডাক শুনে ছুটে যাই বনে আমি না মানি কুলের বাধা।।
	শূন্য প্রাণের গাগরি ঘিরে
	নিতি আসি রস-যমুনার তীরে
অঙ্গ ভাসায়ে তরঙ্গ-নীরে শুনি তব বাঁশি সাধা।।
যুগ-যুগান্ত অনন্ত কাল হৃদয়-বৃন্দাবনে
তোমাতে আমাতে এই লীলা, নাথ! চলেছে, সঙ্গোপনে।
	মোর সাথে কাঁদে প্রেম-বিগলিতা
	ভক্তি ও প্রীতি বিশাখা-ললিতা।
তোমারে যে চায়, মোর মতো, হায়! সার শুধু তার কাঁদা।।

ঈদ মোবারক ঈদ মোবারক

বাণী

ঈদ মোবারক ঈদ মোবারক
দোস্ত ও দুশমন পর ও আপন
সবার মহল আজ হউক রওনক।।
যে আছ দূরে যে আছ কাছে,
সবারে আজ মোর সালাম পৌঁছে।
সবারে আজ মোর পরান যাচে
সবারে জানাই এ দিল আশ্‌ক।।
এ দিল যাহা কিছু সদাই চাহে
দিলাম যাকাত খোদার রাহে
মিলিয়া ফকির শাহান্‌শাহে
এ ঈদগাহে গাহুক ইয়াহক্‌।
এনেছি শিরনি প্রেম পিয়ালার
এসো হে মোমিন কর হে ইফতার
প্রেমের বাঁধনে কর গেরেফ্‌তার
খোদার রহম নামিবে বেশক্‌।।