তুমি ভোরের শিশির রাতের নয়ন-পাতে

বাণী

তুমি	ভোরের শিশির রাতের নয়ন-পাতে।
তুমি	কান্না পাওয়াও কাননকে গো ফুল-ঝরা প্রভাতে॥
তুমি	ভৈরবী সুর উদাস বিধুর
	অতীত দিনের স্মৃতি সুদূর,
তুমি	ফোটার আগে ঝরা মুকুল বৈশাখী হাওয়াতে॥
তুমি	কাশের ফুলের করুণ হাসি মরা নদীর চরে
তুমি	শ্বেত-বসনা অশ্রুমতী উৎসব-বাসরে।
তুমি	মরুর বুকে পথ-হারা
	গোপন ব্যথার ফল্গুধারা,
তুমি	নীরব বীণা বাণীহীনা সঙ্গীত-সভাতে॥

বিঁধে গেল তীর তেরছ তার চাহনি

বাণী

বিঁধে গেল তীর তেরছ তার চাহনি।
বিঁধিল মরম-মূলে চাহিল যেমনি।।
হৃদয় বনের নিষাদ সে নিঠুর
তনু তার ফুলবন আঁখি তাহে ফণি।
এলো যখন স্বপন-পরী উড়ায়ে আঁচল সোনালি,
মোর ধেয়ান-লোক হতে যেন এলো রূপ ধরে রূপওয়ালী।
দেহে তার চাঁদিনী-চন্দন মাখা, হায় চাহিল সে যেই
তার চোখের ঐ তীর খেয়ে কেঁদে কহিল হৃদি;
ওগো হেনে গেল তীর।।

দেশপ্রিয় নাই শুনি ক্রন্দন সহসা প্রভাতে

বাণী

‘দেশপ্রিয় নাই’ শুনি ক্রন্দন সহসা প্রভাতে জাগি’।
আকাশে ললাট হানিয়া কাঁদিছে ভারত চির-অভাগী।।
দেশবন্ধুর পার্শ্বে জ্বলিছে দেশপ্রিয়ের চিতা
এতদিন পরে বক্ষে এসেছে দুঃখের সাথি মিতা,
বহিছে অশ্রুগঙ্গা, জ্বলিছে শোকের দীপাম্বিতা —
নিভে যাবে চিতা, রয়ে যাবে ধুম, চিরদিন বুকে জাগি’।।
তুমি এসেছিলে হিন্দু-মুসলমানের মিলন-হেতু
পদ্মা ও ভাগীরথীর মাঝারে তুমি বেঁধেছিলে সেতু,
অন্ধকারের বুকে ছিলে তুমি দীপ্ত চন্দ্র-কেতু —
বন্ধন হল নন্দন-ফুল-হার তোমার ছোয়া লাগি’।।

দ্বিতীয় খন্ড

নমঃ নমঃ নমো বাঙলাদেশ মম

বাণী

নমঃ নমঃ নমো		বাঙলাদেশ মম
চির মনোরম		চির মধুর
বুকে নিরবধি		বহে শত নদী
চরণে জলধির		বাজে নূপুর।।
গ্রীষ্মে নাচে বামা		কালবোশেখি ঝড়ে
সহসা বরষাতে		কাঁদিয়া ভেঙ্গে পড়ে
শরতে হেসে চলে		শেফালিকা-তলে
গাহিয়া আগমনী		গীতি বিধুর।।
হরিত অঞ্চল		হেমন্তে দুলায়ে
ফেরে সে মাঠে মাঠে		শিশির ভেজা পায়ে
শীতের অলস বেলা		পাতা ঝরারি খেলা
ফাগুনে পরে সাজ		ফুল-বধূর।।
এই দেশের মাটি		জল ও ফুলে ফলে
যে রস যে সুধা		নাহি ভূমণ্ডলে
এই মায়েরি বুকে		হেসে খেলে সুখে
ঘুমাবো এই বুকে		স্বপ্নাতুর।।

বিরহের গুলবাগে মোর ভুল ক'রে আজ

বাণী

বিরহের গুলবাগে মোর ভুল ক'রে আজ ফুটলো কি বকুল।
অবেলায় কুঞ্জবীথি মুঞ্জরিতে এলে কি বুলবুল।
এলে কি পথ ভুলে মোর আঁধার রাতে ঘুম-ভাঙানো চাঁদ,
অপরাধ ভুলেছ কি, ভেঙেছে কি অভিমানের বাঁধ।
মরণ আজ মধুর হলো পেয়ে তব চরণ রাতুল।।
ওগো প্রদীপ নিভে আসে ইহারি ক্ষীণ আলোকে,
দেখে নিই শেষ দেখা যত সাধ আছে চোখে।
হে চির-সুন্দর মোর, বিদায়-সন্ধ্যা মম
রাঙালে এ কি রঙে উদয় ঊষার সম
ঝ'রে পড়ুক তব পায়ে আমার এই জীবন-মুকুল।।

ভুলে যেয়ো ভুলে যেয়ো

বাণী

	ভুলে যেয়ো, ভুলে যেয়ো সেদিন যদি পড়ে আমায় মনে
যবে	চৈতী বাতাস উদাস হয়ে ফিরবে বকুল বনে।।
		তোমার মুখের জোছনা নিয়ে
		উঠবে যে চাঁদ ঝিলমিলিয়ে,
	হেনার সুবাস ফেলবে নিশাস তোমার বাতায়নে।।
		শুনবে যেন অনেক দূরে
		ক্লান্ত বাঁশির করুন সুরে —
	বিদায় নেওয়া কোন বিরহীর কানে কাঁদে নিরজনে।।